স্বাগত বছরের সেরা মাস|140831|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ মে, ২০১৯ ০৯:১১
রমজানের রহমত পর্ব
স্বাগত বছরের সেরা মাস
শাহীন হাসনাত


স্বাগত বছরের সেরা মাস

বছর ঘুরে আবার এসেছে বছরের সেরা মাস রমজান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের পশ্চিমাকাশে উদিত এক ফালি বাঁকা চাঁদ জানান দিয়েছে রমজানের আগমনী বার্তা। সময়ের হিসাবে এবার রমজান শুরু হয়েছে বৈশাখ মাসে। বৈশাখের তীব্র দাবদাহ ছাপিয়ে এবার প্রায় পৌনে ১৫ ঘণ্টা সময় ধরে রোজা পালন করতে হবে বাংলাদেশের মুসলমানদের। তারপরও ধর্মপ্রাণ মানুষ খুশি, তারা মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ রমজানের রহমত, বরকত ও ক্ষমা তথা মাগফিরাতের এক অসীম মহাসাগরের তীরে উপস্থিত হওয়ায়। জীবনকে উন্নত ও অর্থবহ করার প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য রমজানের রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এ মাসেই নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআন।

এ মাসেই রয়েছে পবিত্র শবেকদর। আর কদরের রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমতুল্য। রোজা বা সওম শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা। কোরআনে কারিমের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে সিয়াম (সওমের বহুবচন) সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পার।’

খোদাভীতি অর্জনের জন্য পবিত্র রমজানের প্রেমময় এই মহাসাগরে ভ্রমণ এবং ইহলোক ও পরলোক মিলে যে অসীম জীবন, রমজান মাসে তার পাথেয় সংগ্রহ করার মহাসুযোগ মেলে। তাই রমজানের প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে আত্মসংশোধন, আত্মগঠন ও আত্মোন্নয়নের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার প্রিয়পাত্র হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

রমজানের রমজ শব্দটির অর্থ হলো ‘দাহন’। মানবজীবনে কুপ্রবৃত্তির বিনাশ জরুরি। কুপ্রবৃত্তিগুলো মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ও অসহায় করে মানবজীবনকে অন্ধকারের অতল তলে তলিয়ে দেয় এবং মানবজীবনের মহৎ উদ্দেশ্য সাধনকে অসম্ভব করে তুলে। কামপ্রবৃত্তির অসংযত চর্চা মানুষকে পশুত্বের স্তরে নামিয়ে দেয়। ক্রোধ মানুষকে করে জ্ঞানশূন্য। লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য সামাজিক জীবনে বিশৃঙ্খলা বয়ে আনে। এসবের চর্চা মানুষের আত্মাকে করে কলুষিত ও আত্মিক উন্নতিকে করে ব্যাহত। সোনা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, তেমনি রোজাও কুপ্রবৃত্তিগুলোকে পুড়িয়ে মানুষকে করে খাঁটি মানুষ। ফলে সে পরিণত হয় আল্লাহতায়ালার যোগ্য প্রতিনিধিতে।

ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, রমজান আল্লাহতায়ালার প্রেমে বিভোর হওয়ার প্রশিক্ষণের মাস। প্রকৃত খোদাপ্রেমিক তার অন্তর থেকে দুনিয়ার সব আশা ছেড়ে দিয়ে শুধু আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য ব্যাকুল হন এ মাসে।

রমজানের ফজিলত সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি প্রকৃতই হতভাগ্য যে রমজান মাস পেয়েও আল্লাহতায়ালার ক্ষমা হতে বঞ্চিত হয়। এ মাসে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মাধ্যমে শেষ বিচার দিবসের ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কথা স্মরণ করো। অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্রদের সাহায্য করো ও সদকা দাও। বয়স্ক ও বৃদ্ধদের সম্মান করো এবং শিশু ও ছোটদের আদর করো। (রক্তের সম্পর্কের) আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করো। তোমাদের জিহ্বাকে অনুপযোগী কথা বলা থেকে সংযত রাখো, নিষিদ্ধ দৃশ্য দেখা থেকে চোখকে আবৃত রাখো, যেসব কথা শোনা ঠিক নয় সেসব শোনা থেকে কানকে নিবৃত রাখো। এতিমদের দয়া করো যাতে তোমার সন্তানরা যদি এতিম হয় তাহলে তারাও যেন দয়া পায়।’

রমজানের প্রারম্ভে রাব্বে কারিমের কাছে আমাদের চাওয়া থাকবে, হে আল্লাহ! আমাদের রোজাকে প্রকৃত রোজা হিসেবে গ্রহণ করো। আমাদের নামাজকে কবুল করো, হে জগতের মালিক! রমজানে আমাদের নিষ্পাপ করে দাও, সব গোনাহ মাফ করে দাও। আমিন।

লেখক : মুফতি, শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক লেখক