আ’লীগের ৪ নেতার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধদের|143757|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ মে, ২০১৯ ১০:৪০
আ’লীগের ৪ নেতার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

আ’লীগের ৪ নেতার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধদের

আওয়ামী লীগের চার নেতার আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে এসেছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া বিক্ষুব্ধ অংশ।

রোববার রাতে ওই চার নেতার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।

আওয়ামী লীগের ওই চার নেতা হলেন- দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল হক।

তারা খুব শিগগির আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পদবঞ্চিত নেতাদের সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়া, সোমবার পদবঞ্চিতদের ওপর মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনা এবং গত শনিবার টিএসসিতে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে বিতর্কিতদের পদগুলোকে শূন্য ঘোষণা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে সেসব পদে পদবঞ্চিতদের দিয়ে পূরণের আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, রাতে আওয়ামী লীগের ওই চার নেতার সঙ্গে দেখা করতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পদবঞ্চিত অংশের আটজনের একটি প্রতিনিধিদল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে যায়।

পদবঞ্চিতদের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন- রোকেয়া হলের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা পারভীন, শামসুন নাহার হলের সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী, ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা সিকদার, গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি শ্রাবণী শায়লা, জসীম উদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান।

কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং পদবঞ্চিতদের প্রতিনিধিরা রাত পৌনে ১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে যান। আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার তাদের সঙ্গে ছিলেন।

এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন পদবঞ্চিতদের উদ্দেশে বলেন, “বিতর্কিত ১৭টি পদ আপাতত শূন্য হওয়ার পথে। কিন্তু ১৭টি পদের ম্যাক্সিমাম বিলুপ্তির পথে। সেই জায়গাগুলোয় পুনর্বিন্যাসের একটা সুযোগ এসেছে।”

তিনি বলেন, “পদের লোভ না করে দল ও দেশের জন্য কাজ করতে হবে। ছাত্রলীগ করতে না পারলে যুবলীগ বা আওয়ামী লীগ করবেন। সবার প্রতি অনুরোধ, ছাত্রলীগের সুনামটা আর নষ্ট না করি।”

সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, “আপা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) প্রথমত আমাদের সবাইকে এক ছাতার নিচে দেখতে চান। কিছুদিন আগে আপার চোখের অপারেশন হয়েছে। আপা একটু বেটার ফিল করলে সবার সঙ্গে কথা বলবেন।”

এদিকে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশের নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বলেন, “আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন। তাই আন্দোলন এখানেই স্থগিত করছেন।”

ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর গত সোমবার সংগঠনের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা হামলা চালান। এতে কয়েকজন নারী নেত্রীসহ ১২ জন আহত হন।