logo
আপডেট : ২১ মে, ২০১৯ ১৯:৫০
বেতন পাওয়ার আশ্বাসে পটকল শ্রমিকদের আন্দোলন স্থগিত
খুলনা প্রতিনিধি

বেতন পাওয়ার আশ্বাসে পটকল শ্রমিকদের আন্দোলন স্থগিত

এক সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের শর্তে আন্দোলন স্থগিত করলেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। 

মঙ্গলবার খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দীর্ঘ বৈঠকের পর শ্রমিকনেতারা এই ঘোষণা দেন। শর্ত হিসেবে বলা হয়, এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব পাওনা দিতে হবে।

১৬ দিন ধরে এই আন্দোলন চলছিল। 

কর্মসূচি স্থগিতের জন্য শ্রমিকনেতারা বৈঠকে শর্ত দিয়েছেন, আন্দোলনকালীন অন্যান্য খাতের যেসব শ্রমিক কাজ করে গেছেন, তাদের নাম ও পর্যায়ক্রমে কাজে যোগ দেওয়া অন্য শ্রমিকদের নামও মজুরি কমিশনের খাতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত খুলনার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি), শ্রম অধিদপ্তর ও শ্রমিকদের নিয়ে এই বৈঠক হয়। 

বৈঠক শেষে পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা ও যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, চলতি সপ্তাহে দুটি বকেয়া এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বকেয়া প্রদানের পাশাপাশি বুধবার বন্ধ মিলগুলোতে জরুরিভাবে কর্মরত শ্রমিকদের হাতে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করে পে স্লিপ দেওয়ার শর্তে আন্দোলন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হলো।

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল রয়েছে। এই মিলগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে শ্রমিক কাজ করেন প্রায় ৩০ হাজার। 

সব শ্রমিকের মজুরি বকেয়া রয়েছে ৯ থেকে ১২ সপ্তাহের। দীর্ঘদিন মজুরি না পেয়ে ৫ মে দুপুর থেকে খুলনা অঞ্চলের মিলগুলো একে একে বন্ধ করে শ্রমিকেরা কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। 

পরদিন তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রথম রোজা থেকে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খুলনা নগরের নতুন রাস্তা মোড় ও অন্যান্য মিলের সামনের সড়ক অবরোধ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের নেতারা। প্রথম রোজা থেকে তাঁরা সড়কের ওপরই ইফতার করেন।

কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করার পরও সরকার ও বিজেএমসি থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন শ্রমিকনেতারা। তাঁদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত নতুন রাস্তা মোড় অবরোধ ও পাশের রেলপথ অবরোধের কথা ছিল।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর অনেক দিন ধরে চলা সংকটের অবসান হলো। শ্রমিকদের দ্রুত মজুরি পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের কাজও চলবে। ওই আলোচনার পর শ্রমিকেরা আবার মিলে ফিরে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।