বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জেতার রণকৌশল|145901|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ মে, ২০১৯ ১৫:৩৩
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জেতার রণকৌশল
অমর্ত্য রূপাই

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জেতার রণকৌশল

এবং চাররর। বাংলাদেশ চার উইকেটে জিতে গেল!

হু-ম, সত্যি শুনেছ। বিশ্বকাপ ‘২০১৯’ এর ফাইনালে যদি এমনটা ঘটে। বাংলাদেশের মানুষের চিন্তায় এটাই থাকে।

শুধু স্বপ্নই রয়ে যায় এটা। যেমন ২০১৫ তে মানুষ ভেবেছিল যে বাংলাদেশই এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। অবশ্য এর আগের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের ম্যাচে আম্পায়াররা আমাদের সঙ্গে ভালো করেনি। সেমিফাইনালে উঠলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা পড়ত।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যদি জিতত তারপর ফাইনাল শিওর ছিল। তারপর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ফাইনাল। জিতলে তো চ্যাম্পিয়নই হয়ে যেত বাংলাদেশ। না জিতলেও এত দূরের পথ একটা ইতিহাস হতো।

যাই হোক। ওয়ানডে’তে  এখন বাংলাদেশের অবস্থা খুব ভালোই বলা চলে। বাংলাদেশে এখন নতুন খেলোয়াড়ের সংখ্যা সাত।

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে জিততে হলে পেরোতে হবে ম্যাচ আর ম্যাচ। প্রায় সাত দলের সঙ্গে জিতলেও চলে। ইংল্যান্ড ও ভারতকে হারানো একটু কঠিন হবে। সেমিফাইনালে হয়তো প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ যদি সব ম্যাচে জেতে, তাহলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সুনিশ্চিত।

যা-ই হোক। আমাদের এই নয় দলের সঙ্গে জিততে যা করতে হবে তা হলো রণকৌশল।

আফগানিস্তান: এই দেশের সঙ্গে জিততে আমাদের তেমন একটা কিছু করতে হবে না, শুধু শেহজাদকে নিয়েই যা ভয়। শেহজাদ নিজেই তুলে নিতে পারে ১২০ রানের মতো। কিন্তু তাকে আউট করাও যাবে সহজে। সেটা হলো স্পিনারদের দিয়ে। যেমন সাকিব, মেহেদী ও মাহমুদুল্লাহকে দিয়ে। তোমাদের হয়তো একটা প্রশ্ন রয়ে গেল যে, পেস বোলাররা কি পারবে শেহজাদের সঙ্গে? না, তারা পারবে না। কারণ, পেস বোলারদের বলে ওরা শুধু চার ছয় ওড়ায়।

এবার আসুক ওদের ভয়ংকর বোলারের নাম। সে অলরাউন্ডার হিসেবে অনেক ভালোই করে। যারা খেলায় একটু বেশি মনোযোগী তারা নিশ্চয় এতক্ষণে বুঝে গেছ, সে হচ্ছে রশিদ খান। সে গুগলি বল করে। খুব ভালো বল।

রশিদ খানের ওভারটুকু আমাদের ঠেকিয়ে খেলতে হবে। তা ছাড়া বাংলাদেশ যদি ২৬০ রানও করে তাও তাদের (আফগানিস্তান) জন্য একটি বড় রান। কিন্তু আফগানিস্তানকে আমাদের ছোট চোখে দেখা যাবে না। কারণ বাংলাদেশের মতো ওরাও একটা দল। ওরাও কিন্তু অনেক রাস্তা পেরিয়েছে। তাই বলছি আর কী।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ক্যারিবিয়ানদের হারাতে হবে ওদের ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে। যেমন ক্রিস গেইল, শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ের ও আন্দ্রে রাসেল। ক্রিস গেইল-ই সবচেয়ে বড় ভয়। এদের আউট করতে আমাদের লাগবে পেস ও স্পিন বল। যেমন ক্রিস গেইলকে আউট করতে হবে পেসার দিয়ে। তেমনই হোপকে আউট করতে হবে স্পিনার দিয়ে। কিন্তু তাদের বোলিং স্কোয়াডটা এতই দুর্বল যে তারা এখন প্রায় ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।

যা-ই হোক, তাদেরও তিনজন ভালো বোলার আছে। তারা হলো- ওশান থমাস, কেমার রোচ ও নার্স। তাদের বলগুলোয় চার-ছয় মারাও যাবে, আবার ঠেকিয়েও খেলতে হবে। তা হলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জেতাটা সহজ হয়ে যাবে।

শ্রীলঙ্কা: লঙ্কানদের হারাতে আমাদের বেশি চাপ দিতে হবে ওদের বোলিংয়ে। কারণ ওদের বোলিং সাইডটা খুব ভালো। যেমন লাকমল, মালিঙ্গা ও প্রদীপ। মালিঙ্গার বল একদম মারাত্মক। তার বল মেডেন খেললেও চলে। লাকমল ও প্রদীপের বল ধরে খেলতে হবে। তা ছাড়া মালিঙ্গার বল কিন্তু ইয়র্কার।

যা-ই হোক, তাদের ব্যাটসম্যানদের মধ্যেও কিন্তু তিনজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা হলো কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তারা খুব ভালোই খেলে বলা যায়। আর তাদের আউট করাটা সহজও না, আবার কঠিনও না। তাদের দুই ধরনের বোলিং দিয়েই আউট করা যাবে। অর্থাৎ পেস এবং স্পিন।

কিন্তু শ্রীলঙ্কা আমাদের সঙ্গে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে জিতেছিল। এবার কী হবে, তা দেখার পালা।

পাকিস্তান: পাকিস্তানকে হারাতে আমাদের দুদিক দিয়েই খুব সতর্ক থাকতে হবে। কারণ পাকিস্তান র‌্যাঙ্কিংয়ের দিক দিয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে।

তাদের ব্যাটিং সাইড ৪৮% ও বোলিং ৫২%।

যাই হোক তাদের চারজন ভালো ব্যাটসম্যানের নাম হলো- ইমাম, হাফিজ, মালিক ও সরফরাজ।

এই চারজনকে আউট করা সহজ, আবার কঠিনও। হ্যাঁ, এখানে সবচেয়ে ভালো ব্যাটসম্যান ইমাম উল হক। তাকে পেস বল দিয়ে কোনোভাবেই আউট করা যাবে না। তাকে আউট করতে হবে সাকিব, মাহমুদুল্লাহ ও মেহেদীকে দিয়ে।

পাকিস্তানের সঙ্গে শেষ ম্যাচে ইমামকে আউট করেছিল মাহমুদুল্লাহ। তেমনি এবার এমন কয়েকজন বোলার লাগবে। আমাদের পেসারদের ওপরও একটু বিশ্বাস আছে। আর সেই তিনজনকে আউট করতে হবে দুদিক দিয়েই। সতর্কও থাকতে হবে।

বোলিংয়ের দিক দিয়ে পাকিস্তান অনেক ভালোই বলা যায়। যেমন- পেসার জুনাইদ খান ও শাহিন আফ্রিদি। তাদের দুজনের বলই ঠেকিয়ে খেলতে হবে। মেডেন ওভার হলেও চলে। এবারের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ম্যাচে দুই দলই প্রায় সমান সমান। তাই খেলাটা দেখার পালা- বাংলাদেশ, নাকি পাকিস্তান?

দক্ষিণ আফ্রিকা: দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জেতাটা এতই কঠিন যে জিতলেও সেটা কষ্টের হতে পারে। কারণ, ওদের দল এতই কঠিন যে আমাদের রণকৌশল দিতে হবে যৌথভাবে।

১. বাংলাদেশ যদি প্রথমে ব্যাট করে তা হলে আমাদের যা করতে হবে তা হলো, প্রথম ২৫ ওভারে আমাদের ঠেকিয়ে ১৩০ রান করতে হবে। আর এর মধ্যে যেন ২ উইকেট না যায়। ১ উইকেট গেলেও চলে। তামিম যেন টিকে থাকে। তারপরের ১৫ ওভার ৮ রান করে নিতে হবে (কারেন্ট রান রেট বা সি.আর.আর ৮)। অর্থাৎ ২৫০ রান হয়ে গেল। এর মধ্যে যেন ৩ উইকেট না পরে। ২ উইকেট হলেও চলে। তারপরের ৫ ওভারে ১০ রান করে নিতে হবে। হয়ে গেল ৩০০ রান ৪৫ ওভারে। এর মধ্যে ১ উইকেট পরলেও ঝামেলা নেই। এরপরের ৫ ওভার যেভাবেই হোক বা যত উইকেটই পরুক না কেন ৯ রান করে নিতে হবে (সি.আর.আর ৯)। হয়ে গেল ৫০ ওভারে ৩৪৫ রান।

২. এরপরে বোলিংয়ের চাপটা যেভাবে দেবে সেটা হলো, প্রথম ২৫ ওভারের মধ্যে ডি কক ও হাশিম আমলাকে কোনো না কোনোভাবে আউট করতে হবে। এর মধ্যে সি.আর.আর যেন ৬ থাকে। অর্থাৎ ১৫০ রান ২৫ ওভারে ২ উইকেট। এরপরের ১৫ ওভারে আনতে হবে সি.আর.আর ৫.৯০। অর্থাৎ ২৩৯ রান হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩ উইকেট বা ২ উইকেট হলেই হবে। তারপরের বলগুলো একদম চাপে রাখতে হবে। এর মধ্যেও যদি সি.আর.আর ৬.৫০ হয়, তাও আফ্রিকার জেতাটা অসম্ভব হবে। কারণ তখন রানের সংখ্যা হয়ে যাবে ৩০৪ রান।

কিন্তু বাংলাদেশেকে ওদের বোলিংয়ে কাগিসো রাবাদা ও ইমরান তাহিরের বল ঠেকিয়ে খেলতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার দলে ব্যাটে দানবের মতো খেলার অনেক প্লেয়ার আছে। যেমন ডু প্লেসিস, ডুমিনি, মিলার, ডি কক ও হাশিম আমলা। আর বাংলাদেশ যদি প্রথমে বোলিং করে তা হলে তার উল্টোটি হবে (অর্থাৎ বাংলাদেশ বোলিং চাপটা যেভাবে দেবে সেভাবে)। দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমরা যদি সহজ চোখে দেখি, সেটা  আমাদের জন্যই ভুল হবে।

আমি বলতে পারি যে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ডকেও হারাতে হবে একইভাবে, একই রণকৌশলে।

এবারে ২ জুন যদি ভালো যাত্রা হয়, তা হলে বাংলাদেশ একটি ভালো দল।

তোমাদের ঈদ মোবারক ও ক্রিকেটের শুভেচ্ছা রইল যেন বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।

২৫ মে ২০১৯

লেখক: তৃতীয় শ্রেণি, সানি হিলস স্কুল এন্ড কলেজ, বড় মগবাজার, ঢাকা।