বাজেট ব্যবসা সহায়ক, জনকল্যাণমুখী: এফবিসিসিআই|148896|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জুন, ২০১৯ ১৫:৫১
বাজেট ব্যবসা সহায়ক, জনকল্যাণমুখী: এফবিসিসিআই
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজেট ব্যবসা সহায়ক, জনকল্যাণমুখী: এফবিসিসিআই

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সন্তোষ জানিয়ে বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেট যেমন ব্যবসা সহায়ক, তেমনি জনকল্যাণমুখী।

রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে আজ শনিবার আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে এফবিসিসিআই। এতে মূল বক্তব্য পাঠ করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

সংসদে বাজেট উপস্থাপনের দুদিন বাদে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রস্তাবিত বাজেটের ২০টি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এফসিসিসিআই বলেছে, বাজেট নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রস্তাবনা পরে অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট সংসদে প্রস্তাব করেছে। ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট আগেরটির চেয়ে ১৮ শতাংশ বড়।

প্রস্তাবিত বাজেটকে কেন ব্যবসা বান্ধব বলছেন- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে এফবিসিসিআইর সহ সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “অতীতের বাজেটগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই বাজেটে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ এখনও আছে।”

লিখিত বক্তব্যের বাইরে এফবিসিসিআই নেতারা বলেছেন, বড় আকারের এই বাজেট বাস্তবায়নে যেন ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেথ ফজলে ফাহিম বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন, আইসিটি, অবকাঠামো, আর্থ-সামাজিক, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় এবারের বাজেট যুগোপযোগী হয়েছে।

বাজেটের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, যুব সমাজকে উদ্যোক্তা বানাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি একটি মানবিক উদ্যোগ।

১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী জনশক্তির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর রেয়াত সুবিধা সামাজিক দায়িত্বশীলতার চর্চাকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন শেখ ফাহিম।

বাজেটে শিক্ষার মানোন্নয়নে ও আধুনিক কারিকুলাম গঠনের উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলামে কর-মূসক পরিশোধে নাগরিক দায়িত্ববোধ, ভোকেশনাল ট্রেনিং, ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি, কোডিংকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিনা প্রশ্নে ফ্ল্যাট, জমি ও শিল্পে কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়াকে স্বাগত জানান শেখ ফজলে ফাহিম। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে আমরা স্বাগত জানাই। বৈধভাবে উপার্জিত অর্থ কোনো কারণে অপ্রদর্শিত থাকতে পারে। সেই অর্থ উৎপাদন খাতে গেলে সেটিকে আমরা নেতিবাচক বলে মনে করি না। তা ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হলে অর্থপাচারও বন্ধ হবে।’

চলতি অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এটি হলে বেসরকারি খাত বাধাপ্রাপ্ত হয় উল্লেখ করে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, অবকাঠামো তহবিল, অবকাঠামো বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক উপাদানের ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ করেন।

রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা সহজ, স্বচ্ছ এবং ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আদায় করা হবে এবং হয়রানীমুক্ত হবে বলে আশা করছে এফবিসিসিআই।
মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআর এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।