এবার রোমানের চোখে অলিম্পিক পদক|149697|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০
এবার রোমানের চোখে অলিম্পিক পদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক

এবার রোমানের চোখে অলিম্পিক পদক

এখন আর কোনো কিছুকেই অসম্ভব মনে হচ্ছে না রোমান সানার। কঠিনেরে যেন ভালোবেসে ফেলেছেন এই যুবা। ২০০৮ সালে খুলনায় প্রতিভা অন্বেষণ থেকে উঠে আসা রোমান সানা গতকাল নেদারল্যান্ডস থেকে ফিরেছেন বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছেন ব্রোঞ্জপদক। আর্চারির ইতিহাসে সেরা সাফল্যই কেবল এনে দেননি, দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে আগামী বছর টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন এই তীরন্দাজ। এখন তার চোখে শুধুই অলিম্পিক পদক জয়ের স্বপ্ন। টোকিওতে আরেকবার ওড়াতে চান দেশের পতাকা। গতকাল বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের স্পন্সর তীর আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজের স্বপ্নের কথা বলেছেন সানা।

অলিম্পিকে পদক জয় কিন্তু এখন আর অসম্ভব কল্পনা নয় তার জন্য। নেদারল্যান্ডসে বিশ্বের বাঘা বাঘা তীরন্দাজকে হারিয়েই তিনি পেয়েছেন কাক্সিক্ষত সোনার হরিণ (কোটা প্লেস)। দেশে নেমে এই সাফল্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সানা বলেন, ‘কতটা খুশি সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

র‌্যাংকিং রাউন্ডে ২০তম হয়ে রিকার্ভ একক ইভেন্ট শুরু করেছিলেন সানা। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে সহজ দুই প্রতিপক্ষকে হারানোর পরই শুরু হয় তার আসল পরীক্ষা। তৃতীয় রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার রায়ান টায়াককে হারিয়ে শুরু। টায়াক সর্বশেষ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য। ২০১৪ ইনডোর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন একক ইভেন্টে। এরপর চতুর্থ রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম উজিনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেন রোমান সানা। উজিন ২০১৬ রিও অলিম্পিকে টিম ইভেন্টে স্বর্ণপদকজয়ী কোরিয়া দলের সদস্য। এছাড়া ২০১১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১২ বিশ্বকাপের স্বর্ণপদকজয়ী। জাকার্তা এশিয়ান গেমসেও শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছিলেন তিনি। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞ তীরন্দাজ ফন ড্যান বার্গকে হারিয়ে প্রথম বাংলাদেশি তীরন্দাজ হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন সানা। স্বাগতিক তীরন্দাজ বার্গ ২০১৬ রিও অলিম্পিকে একক ইভেন্টে চতুর্থ হয়েছিলেন। সেমিফাইনালে অবশ্য মালয়েশিয়ার খাইরুল আনুয়ারের কাছে হেরে যেতে হয় সানাকে। তবে ব্রোঞ্জপদক নির্ধারণী ম্যাচে ইতালির মাউরো নেসপোলিকে হারিয়ে জিতে নেন ব্রোঞ্জপদক। নেসপোলির ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে দলগত স্বর্ণপদক জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে এই তীরন্দাজ দলগত ইভেন্টে রৌপ্যজয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর বিশ্বকাপে একক ইভেন্টে স্বর্ণপদক জেতেন তিনি।

বিশ্বমানের সব প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে দারুণ আত্মবিশ্বাসী সানা অলিম্পিক নিয়ে জানালেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে সবারই স্বপ্ন থাকে অলিম্পিক পদক জয়ের। এতদিন কঠোর পরিশ্রম করেছি। এখন এর চেয়েও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। ওই পর্যায়ে অলিম্পিক জিততে অর্জন করতে হবে যোগ্যতা। অলিম্পিকের আগে যে কয়টা গেমস আছে, সেগুলোতে অংশ নিতে পারলে আশা করছি অলিম্পিকে পদক জেতা সম্ভব।’

জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের অধীনেই জেগে উঠেছেন সানা। এই কোচের প্রতি তাই কৃতজ্ঞতার সীমা নেই তার।  এই কোচের অধীনে দলের উন্নতিটা বোঝাতেই বললেন, ‘তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। অতীতে দলগত ইভেন্টে কখনো নকআউট রাউন্ডেই খেলতে পারিনি। অথচ এবার আমরা প্রথম রাউন্ডে স্পেনকে হারাই এবং দল হিসেবে নবম হই। আমি তো মনে করি দলগত ইভেন্টেও সরাসরি অলিম্পিকে খেলার সম্ভাবনা আমাদের এখনো আছে। এই কোচ থাকলে অলিম্পিক পদকও অসম্ভব কিছু নয়।’

এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পন্সর তীর তার হাতে তুলে দিয়েছে ২ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার। এই অনুষ্ঠানে তাকে ফুলেল সংবর্ধনা জানায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্তারা। ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দরে গিয়ে সানাকে অভিনন্দন জানালেও কোনো পুরস্কারের ঘোষণা দেননি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।