logo
আপডেট : ২২ জুন, ২০১৯ ০০:০০
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে নতুন তিন জাতের ধান
মো. আমিনুল ইসলাম, গাজীপুর

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে নতুন তিন জাতের ধান

মানুষ বাড়ছে। বাড়ছে আহারের মুখ। এই বাড়তি মানুষের আবাসন থেকে শুরু করে নৈমিত্তিক চাহিদা পূরণের জন্য বাড়তি অবকাঠামো কমাচ্ছে চাষাবাদের জমি। তবে আশার কথা, চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমলেও খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাথায় রেখে খাবারের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টায় লেগে আছেন বিশ্বের কৃষি গবেষকরা। প্রতিবছরই তারা উদ্ভাবন করছেন উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ফসল। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার লড়াইয়ে রাখছেন বিশেষ ভূমিকা।

বাংলাদেশের গবেষকরাও এই কাজে পিছিয়ে নেই। ধান, মসলা, সবজি, তেলবীজ থেকে শুরু করে অনেক ফল ও ফসলের উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন তারা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সেই ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০টির বেশি উফশী জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আরও তিন জাতের উফশী জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে ব্রি। 

সূত্র জানিয়েছে, আমন ও বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী রোপা আমনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত ব্রি ধান৯০ ও বোনা আমনের জাত ব্রি ধান৯১ এবং বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান৯২ গত বুধবার চাষাবাদের অনুমোদন পেয়েছে।  ওইদিন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ব্রি ধান৯০-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.০ টন। এ ফলন আমন       

 

মৌসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান৩৪-এর চেয়ে হেক্টরে ১.০-১.৪ টন বেশি।

ব্রি ধান৯১-এর হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ২ দশমিক ৩৭ টন, যা স্থানীয় জাত ফুলকরির চেয়ে দেড় টন বেশি। আর বোরো জাত ব্রি ধান৯২-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৮ দশমিক ৩ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত হেক্টরপ্রতি ৯ দশমিক ৩ টন ফলন দিতে সক্ষম।

ব্রি জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. আবুল কাসেম জানান, ব্রি ধান৯০ এ আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ এ জাতের দানার আকৃতি ব্রি ধান৩৪-এর মতো হালকা সুগন্ধযুক্ত। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১০ সেন্টিমিটার। এর গড় জীবনকাল ১১৭ দিন, যা ব্রি ধান৩৪-এর চেয়ে ২১ দিন আগাম। এ ছাড়া এই জাতের ধান চাষে সারও তুলনামূলক কম দরকার হয়।

নতুন উদ্ভাবিত এ জাত স্থানীয় জাত চিনিগুঁড়া এবং চিনি আতপের বিকল্প হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মো. আবুল কাসেম।

ব্রি ধান৯১ গাছের গড় উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং সহজে হেলে পড়ে না। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটি বাড়তে পারে এবং এটি জলমগ্নতা সহিষ্ণু। এর গড় জীবনকাল ১৫৬ দিন, যা স্থানীয় জলি আমন ধানের জাতের চেয়ে ১০-১৫ দিন আগাম। এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কম হয়।

এ জাত দেশের এক মিটার উচ্চতার গভীর পানির বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারলে মোট ধান উৎপাদন প্রায় পাঁচ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে।

আর বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান৯২ চাষে তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করে ব্রি ধান২৯-এর সমান ফলন পাওয়া যায়। সে জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে এটি চাষ করে সুফল পাওয়া যাবে। এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান২৯-এর সমান অর্থাৎ ১৫৬-১৬০ দিন। পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৭ সেন্টিমিটার।

ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর আশা করছেন, নতুন জাত তিনটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে। আগামী দিনে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।