‘বৈষম্য দূর করতে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে’|150632|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জুন, ২০১৯ ২০:০৭
‘বৈষম্য দূর করতে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে’
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বৈষম্য দূর করতে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে’

বৈষম্য দূর করতে বাজেটের মাধ্যমে বিশাল সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে দাবি করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘তবে এমন কোনো সমাজ নেই যেখানে বৈষম্য নেই।’

তিনি রোববার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের সমালোচনা করে এ কথা বলেন।

‘অ্যান অ্যানালাইসিস অব দ্য ন্যাশনাল বাজেট ফর ২০১৯-২০’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে সিপিডি দাবি করেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার প্রতিফলন ঘটেনি বাজেটে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই বইয়ে পড়ান, উন্নয়নের পথে বৈষম্য তৈরি হয়। কিন্তু এই ধরনের বৈষম্য দূর করতে বাজেটের মাধ্যমে বিশাল সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। তবে এমন কোনো সমাজ নেই যেখানে বৈষম্য নেই।’

বাজেটে বরাদ্দ সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘“বাজার প্রভু”র চাহিদা অনুযায়ী অর্থনীতিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই মাঠ নিয়ে খেললে দুই রকম খেলাই হবে, এক রকম নয়। আমরা হাওর–বাঁওড়সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কথা বলে বাজেট তৈরি করি, বরাদ্দ দিই। তারাই বলেন, ১০ বছরে অনেক উন্নতি হয়েছে। আর আপনারা লেক শোর হোটেল, প্রেসক্লাব ও অফিসে চা খেতে খেতে আলোচনা করেন। মাঠের ভিন্নতার কারণে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।’

তবে ‘বাজার চাহিদা’র বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘তিনি (পরিকল্পনামন্ত্রী) বলেছেন, বাজার হচ্ছে প্রভু। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বজনতোষণ পুঁজিবাদ “বাজার” নয়। ওরাই “বাজার প্রভু” যাঁরা সংসদে আছেন, ব্যবসায় আছেন, রাজনীতিতে আছেন। যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসে আছেন। এই চক্রের মধ্যেই বসে আছেন ওরা।’

অনুষ্ঠানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রবৃদ্ধি উৎসের সূচকগুলো এত প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাজেট নিয়ে যত আলোচনা হয়, সেখানে শুধু বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়। বরাদ্দের অর্থ খরচ করার পর কী ফল পাওয়া গেল, তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। এ দেশে ব্যাপক দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে, এটা প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সঙ্গে আয়–বৈষম্যও বেড়েছে। বেড়েছে সামাজিক বৈষম্য। এটি নিয়ে আলোচনা কম হয়। ভর্তুকি দিচ্ছি, করে ছাড় দিচ্ছি, ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিচ্ছি—এই ধরনের সুবিধার কারণেই সমাজে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।

সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সংলাপ পরিচালনা করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, এবারের বাজেটে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের জরুরি সংস্কারের বিষয়টি বাজেটে জোরালোভাবে উঠে আসেনি। এ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারসংক্রান্ত সংস্কারের উদ্যোগও তেমন নেই। এসব সংস্কার ছাড়া বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, আওয়ামী লীগের সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ, বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানা, সাংসদ মোকাব্বির খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক বরকত ই খুদাসহ সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।