আমরা বেতন-ভাতা যা পাই তা মেহনতি জনতার ঘামে উপার্জিত: প্রধানমন্ত্রী|150633|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জুন, ২০১৯ ২০:১১
আমরা বেতন-ভাতা যা পাই তা মেহনতি জনতার ঘামে উপার্জিত: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

আমরা বেতন-ভাতা যা পাই তা মেহনতি জনতার ঘামে উপার্জিত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবীন সরকারি কর্মচারিদের কেবল চাকরির জন্য চাকরি নয়, সেবার মানসিকতায় দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসার ঘটিয়ে কর্মক্ষেত্রে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কাজটাকে কেবল চাকরি হিসেবে নিলে হবে না। দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য দেশপ্রেম এবং কর্তব্যনিষ্ঠা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে রাজধানীর শাহবাগের বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ১১০, ১১১ ও ১১২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের ভেতরে ইনোভেটিভ চিন্তা-ভাবনা থাকতে হবে। নিজের ভেতরে একটা আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। কোন কাজ পারব, কী পারব না এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগলে চলবে না। হ্যাঁ, আমি পারব, সেই বিশ্বাসটা সবসময় নিজের ওপর রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা চাইতেন বাঙালিরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে তাই পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং আমরা তা করতে পারব। এই কথাটা সবসময় মনে রাখতে হবে, এই আত্মবিশ্বাসটা থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে সবথেকে বড় কথা আত্মবিশ্বাস। যে কোনো একটা কাজ করতে গেলে কীভাবে করব, কীভাবে হবে, কয় টাকা আসবে, কোথা থেকে টাকা পাব- একদম দুশ্চিন্তা না করে কোন কাজটা করে উন্নতি সম্ভব সেটা নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচ এম আশিকুর রহমান, জন প্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রতিষ্ঠানের রেক্টর কাজী রওশন আরা আখতার স্বাগত বক্তৃতা করেন।

১১০, ১১১ ও ১১২তম কোর্সের রেক্টর পদক জয়ী তিন শিক্ষার্থী মাহবুব উল্লাহ মজুমদার, রঞ্জন চন্দ্র দে এবং মাবরুল আহমেদ অনিক অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ১১০, ১১১ এবং ১১২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ করেন এবং তাদের সঙ্গে পৃথক ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারিদের জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি এটুকু অনুরোধ করব- যে যেখানে যাবে কেবল চাকরির স্বার্থে চাকরি করা নয়, জনসেবা করা, দেশ সেবা করা, দেশকে ভালবাসা, মানুষকে ভালবাসা- এই কথাটা মনে রাখতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই আপনারা পারবেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। এই কথাটা আমি বিশ্বাস করি।’

প্রধানমন্ত্রী তার উন্নয়নের সুফল এসময় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারিদের নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে যাবার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ-সুবিধা পাবে। এটাই হচ্ছে আমার গ্রাম আমার শহর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি অর্থ জনগণের অর্থ সেটা মনে রাখতে হবে। আজকে আমরা বেতন-ভাতা যা কিছুই পাচ্ছি তা আমাদের দেশের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি জনতার ঘামে উপার্জিত অর্থ। কাজেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, তাদের উন্নতি করাটাই আমাদের লক্ষ্য।’

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, মওলানা ভাসানী, শামসুল হকসহ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতৃবৃন্দকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরো জনবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমি এটুকু বলব, মাঠ প্রশাসনে যারা কাজ করবেন তারা মানুষের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। আর তারা (জনগণ) যেন ন্যায়বিচার পায় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। শুধু গতানুগতিক ভাবে দেশ চালালে চলবে না। দেশকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন করে একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে গড়ে তুলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার লক্ষ্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুফল তুলে ধরে বলেন, ‘দেশটাকে যদি আমরা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি তাহলে সকলের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়বে।’

সরকারি কর্মচারিদের বেতন-ভাতা এবং আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ সৃষ্টিতে তার সরকারের পদক্ষেপ সমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই চেয়েছি যারা কাজ করবে তাদের একটা জব স্যাটিসফেকশন থাকতে হবে। কাজেই, তাদের বেতন-ভাতা, চলাচল সবকিছুর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব আমাদের। সেজন্য, আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যেও যতটা পেরিছি সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দিয়েছি।’

খবর বাসস।