হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাবি শিক্ষার্থীকে পেটাল নিরাপত্তাকর্মী|150638|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জুন, ২০১৯ ২০:৩৪
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাবি শিক্ষার্থীকে পেটাল নিরাপত্তাকর্মী
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাবি শিক্ষার্থীকে পেটাল নিরাপত্তাকর্মী

আহত ঢাবি শিক্ষার্থী।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম বাচ্চু। তিনি ঢাবির যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষার্থী।

অভিযোগে জানা গেছে, মারধরে জড়িত ব্যক্তি একজন নিরাপত্তাকর্মী, তার নাম মামুন।

মারধরের খবর জানাজানি হলে রবিবার ঢাবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে প্রহারকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রহৃত শিক্ষার্থীর মা সবেদা বেগম হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে ছেলেকে মারধরে জড়িত ব্যক্তির বিচার চেয়েছেন।

সবেদা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ছেলের জন্য গরম পানি আনতে বাইরে গিয়েছিলাম। পানি নিয়ে রুমের সামনে এসে দেখি পুলিশ ও লোকজনের ভিড়। ছেলেটি তখন কাঁদছিল। বলছিল, মা তুমি কোথায় নিয়ে এলে। এরা তো বিনা কারণে আমাকে মারছে।

সবেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলের গায়ে আমি কখনো হাত তুলিনি, স্কুল, কলেজের কোনো শিক্ষকও তাকে মারেনি। অথচ এখানে মার খেয়ে সারাক্ষণই কান্নাকাটি করেছে। পরে তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি বলেন, আমি বাইরে যাওয়ার পর ছেলে আমার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। এ সময় মামুন নামে ওই দারোয়ান এসে তাকে রুমে যেতে বলেন। ছেলেটি তখন বলে, মা আসলে যাব। এই কথাটি নাকি উচ্চ স্বরে বলেছিল। এ কারণে ওই দারোয়ান তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পিঠে ও কাঁধে বেধড়ক পেটাতে থাকে। তখন তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে দারোয়ানকে নিবৃত্ত করেন।

ঢাবির যোগাযোগ মনোবৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটি অমানবিক। ছেলেটি অসুস্থ বলেই তো সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছিল। তার আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তো এভাবে পেটাতে পারেন না। তার মানে এই হাসপাতালে কর্মরত স্টাফরা জানেন না রোগীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত।

ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, মারধরের ঘটনা শুনে আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে জড়িত ব্যক্তির শাস্তি দাবি করেছি। এদিকে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানসিক হাসপাতালের সেবা নিয়ে নানা সমালোচনা করেছেন।

তারা সবাই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঢাবির এক শিক্ষক জানান, দ্বিতীয় ব্যাচের ছেলেটি মেধাবী। কষ্ট করে স্বপ্নের ঢাবিতে ভর্তি হয়েছে। সামাজিক অর্থনৈতিক অসমতা ও অনিয়মের কারণে আজ সে মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছে মানসিক হাসপাতালে। সেখানেও সে চরম অমানবিকতার শিকার হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক তরিকুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনার  সত্যতাও পেয়েছি। সোমবার মিটিংয়ের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।