ভারতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্ধকার অধ্যায়|151129|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০
ভারতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্ধকার অধ্যায়
রূপান্তর ডেস্ক

ভারতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্ধকার অধ্যায়

চলতি মাসের শুরু থেকে ভারতের বিহার রাজ্যে মারাত্মক মস্তিষ্ক প্রদাহের প্রাদুর্ভাবে দেড়শর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই রোগের উৎপত্তিস্থল বিহারের মুজাফফরপুরে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা তুলে এনেছেন বিবিসি হিন্দির সাংবাদিক প্রিয়াঙ্কা দুবি।

তিনি জানান, মৃত্যুর আগের রাতে তিন বছর বয়সী রোহিত সাহানি গ্রামের একটি ভোজ উৎসবে খেতে গিয়েছিল। রাজাপুনাস নামের গ্রামে মাটির ঘরে বসে সাহানির ২৭ বছর বয়সী মা সুধা বলেন, ‘সে কাপড়-চোপড় পরে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেতে গিয়েছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পর ফিরে এলে তাকে অস্থির লাগছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুরো রাত ধরে সে পানি চাইছিল। সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় সে জেগে ওঠে। কিন্তু মাত্র দুই মুঠো ভাত খাওয়ার পর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।’

মা-বাবা অসুস্থ ছেলেকে স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু কলকাতায় চিকিৎসকদের ধর্মঘটের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছিলেন বিহারের এসব চিকিৎসক। তাদের না পেয়ে রোহিতকে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় সরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। ওই হাসপাতালে নেওয়ার পরের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিতের বাবা অনিল সাহানি বলেন, ‘সেখানে রোহিতের জ্বর বেড়ে গেল ও তার খিঁচুনি বাড়ল। চিকিৎসকরা পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে তাকে তিনবার এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে নিয়েছেন। কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকরা তাকে অক্সিজেন দিয়ে মুজাফফরপুরের প্রধান সরকারি হাসপাতালে পাঠান।’ শ্রীকৃষ্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামের ওই প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জনাকীর্ণ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দুই ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয় রোহিতের। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে প্রচণ্ড মস্তিষ্কপ্রদাহ লক্ষণে (এইএস)। জুনের শুরু থেকে মুজাফফরপুরের দুটি হাসপাতালে কমপক্ষে ৫০০ রোগী ভর্তি হয়, যাদের অনেকের বয়স ১০ বছরের কম। চিকিৎসকরা বলেছেন, ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। যারা বাঁচতে পেরেছে, তাদের এক-পঞ্চমাংশকে স্নায়ুবিক দুর্বলতা ভোগ করতে হবে।

অনেক চিকিৎসক বলেছেন, খালি পেটে লিচু খাওয়ায় শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। লিচুতে এমন এক ধরনের পদার্থ থাকে যা শরীরে গ্লুকোজ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে ২০১৬ সালে বিহার সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে গ্লুকোমিটার রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল। স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামবাসীকে সচেতন করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।