‘রোহিঙ্গা বিষয়ে দাতারা কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা না রেখে সবক দিয়ে যায়’|152074|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ জুন, ২০১৯ ১৭:০২
‘রোহিঙ্গা বিষয়ে দাতারা কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা না রেখে সবক দিয়ে যায়’
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘রোহিঙ্গা বিষয়ে দাতারা কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা না রেখে সবক দিয়ে যায়’

নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকার সমালোচনা করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক বলেছেন, ‘বিভিন্ন দেশ ও সহায়তা সংস্থার লোকজন এসে সহায়তার পাশাপাশি নানারকম সবক দিয়ে যায়। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা দেখা যায়নি। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারকে যথেষ্ট চাপ আন্তর্জাতিক মহল প্রয়োগ করতে পারেনি’।

রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কমিশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা এসব কথা বলেন রিয়াজুল হক।

রিয়াজুল হক বলেন, দুই বছর আগে নিপীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার উৎকর্ষ দেখিয়েছে। বাংলাদেশের এই ভূমিকা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। ওই সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। নিজ দেশে তাদের নির্বিঘ্নে ফিরে যাওয়া দরকার। রোহিঙ্গারাও ফিরে যেতে চান। কিন্তু এর আগে তারা নিরাপত্তা চান, নিরাপদ পরিবেশ চান। আমরাও তাদের আগুনে ফেলে দিতে পারি না।

রিয়াজুল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিশ্ব বাংলাদেশের প্রশংসা করলেও যারা এ ঘটনার মূলে সেই মিয়ানমারকে তারা কোনো কিছুতে বাধ্য করতে পারেনি। মানবিকতার কাছে সবকিছু কী পরাজিত হবে? একটি দেশ কী এত শক্তিশালী যে তার বিরুদ্ধে কারও কিছু বলার নেই?

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি স্টিভেন কর্লিস বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এ জন্য দেশের সরকারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বিশেষ করে টেকনাফ ও উখিয়ার মানুষ অসীম ধৈর্য দেখিয়েছে।

স্টিভেন কর্লিস বলেন, এত মানুষ আশ্রয় নিলেও বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় হয়নি। এটা বড় সার্থকতা। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখন বড় বিষয়। মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে এসব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি সহযোগী আশফাকুর রহমান খান, সেভ দ্য চিলড্রেনের আয়েশা আক্তার প্রমুখ।