চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পানি|153780|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ জুলাই, ২০১৯ ১৮:৫৫
চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পানি
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পানি

সোমবার বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রামের একটি সড়ক।

চট্টগ্রাম নগরীর নিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে ১৮৭ দশমিক ২ মিলিমিটার টানা বৃষ্টির পর পানিতে তলিয়ে যায় নগরীর বেশির ভাগ এলাকা।

কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানি জমতে দেখা যায়। সড়কের পর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।

জানা গেছে, নগরকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পৃথকভাবে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সোমবার ভোর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত  ১৮৭ দশমিক ২ মিলিমিটার ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি আরো দু’দিন থাকবে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভারী এবং বুধবার কম বৃষ্টি হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবারের বৃষ্টিতে নগরীর মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, ঈদগাঁও, বিবিরহাট এলাকা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন সড়ক, ষোলকবহর, বাদুরতলা, চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া, তালতলা, বাকলিয়া, চাকতাই, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এদিকে, পাহাড়ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে নগরীর চিহ্নিত ১৭ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি করা পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করে জেলা প্রশাসনের নিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে লাইটারেজ জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যেতে পারছে না। যে কারণে বহির্নোঙরে অবস্থানরত মাদারভেসেল থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন লাইটারেজ জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ।

বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকা মো. মাহবুব নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পানি উঠে যায়। এলাকা হিসেবে নালার পরিসর ছোট হওয়ায় বৃষ্টির পানি চলাচলে সমস্যা হয়। আগে তুলনামূলকভাবে পানি কম হতো। কিন্তু ইদানিং পাঁচলাইশ এলাকার পানিগুলো কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা হয়ে বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকায় ঢুকছে। তাই ক্রমশ পানি বাড়ছে।

এদিকে, পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ, চাকতাই, আসাদগঞ্জ এলাকায় চাল-ডালের আড়ত, শুটকিপট্টি, মসলার বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কেও পানি উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচল ও যাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরীতে যানবাহনের সংখ্যা ছিল ছিল। গণপরিবহনও ছিল নগণ্য। এই অজুহাতে নগরীর সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও রিকশা চালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেছে।