জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্জন ‘অলৌকিক’: মুন|154192|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ জুলাই, ২০১৯ ১৮:৪২
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্জন ‘অলৌকিক’: মুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্জন ‘অলৌকিক’: মুন

জলবায়ু অভিযোজনে বাংলাদেশকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্জন ‘অলৌকিক’।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ বিষয়ে ঢাকা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় ধারণার উন্নয়নে গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান বান কি-মুন বলেন, “আমরা ঢাকায় এসেছি, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা থেকে শিখতে।”

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ফনিতে ১২ জনের প্রাণহানির সঙ্গে পাঁচ লাখ মানুষের প্রাণ নেওয়া ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তুলনা করে বান কি-মুন বলেন, যথার্থ আবহাওয়া পূর্বাভাস, কমিউনিটিভিত্তিক পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সাইক্লোন সেন্টার থাকার ফলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই ১৬ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযোজন অনুশীলনে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার যে নেতৃত্ব অর্জন করেছে তা অলৌকিকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন করে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যে প্রজ্ঞা ও কার্যকারিতার উদাহরণ দেখিয়েছে, তা আমাদের সবাইকে অনুপ্রেরণা জোগায়।

তিনি বলেন, অভিযোজনের প্রসঙ্গ যখন আসে তখন জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের অগ্রভাগে থাকা আমাদের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে। বাংলাদেশের তুলনায় বিশ্বের বাকি দেশের অনেক কিছু শেখার আছে। এভাবেই অভিযোজনের বিষয়ে শেখার জন্য বাংলাদেশ সর্বশ্রেষ্ঠ।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জাতীয় অভিযোজনের কর্মপরিকল্পনা সৃষ্টি করে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হয়েছিল।

এই উদ্বোধনী সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অত্যন্ত ভালো আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বান বলেন, আমরা ঢাকায় একটা অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ১০ দিন আগে আমরা চীনের বেইজিংয়ে একটি অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি।

নেদারল্যান্ডসের সাহায্যে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এর আওতায় দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব অভিযোজন অনুশীলন বিনিময় করতে হবে। যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে পদক্ষেপ নিতে পারি। ভাবনার চেয়ে অনেক অনেক দ্রুত গতিতে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের নষ্ট করার সময় নাই।

এ বিষয়ে তার কমিশন শিগগিরই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে আমরা আসন্ন জলবায়ু মোকাবিলা করব, অভিযোজনের মাধ্যমে কীভাবে আমরা ব্যয় সাশ্রয়ী হতে পারি সে বিষয়ে এখানে তুলে ধরা হবে।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্যানেল (আইপিসিসি) বলছে, সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা আর যদি একমিটারও বাড়ে তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ এলাকার পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

কমিশনের কো-চেয়ার ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এই সম্মেলন থেকে জাতিসংঘের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনের বিষয়ে সুপারিশমালা তৈরি করা হবে।