হেলমেট কিনুন বুঝে-শুনে|154667|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
হেলমেট কিনুন বুঝে-শুনে

হেলমেট কিনুন বুঝে-শুনে

মোটরসাইকেল আরোহীদের সাবধানতা কেবল এর চালনায় নয়, সরঞ্জাম ব্যবহারেও থাকা উচিত। চালকরা সঠিক হেলমেটটি কিনতে প্রায় সময়ই অবহেলা করেন। কিন্তু এই হেলমেট বাইকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি। কেননা একমাত্র এই হেলমেটই পারে দুর্ঘটনা থেকে একজন বাইকারকে বাঁচাতে। তাই হেলমেট কেনার আগে এর সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

 

হেলমেট কেনার সময় যেসব দিক খেয়াল রাখবেন

১. বায়ু চলাচল : হেলমেটের ছিদ্রগুলো দিয়ে মাথার তালুতে বায়ু চলাচল করে, যা মাথা ঠাণ্ডা রাখে এবং আরামদায়কভাবে মোটরসাইকেল চালাতে সাহায্য করে। এছাড়া যেসব হেলমেটে যত বেশি ছিদ্র থাকে, সেসব হেলমেট তত বেশি হালকা হয়ে থাকে।

২. ভিসরস (ঠরংড়ৎং) : কিছু হেলমেটে সূর্যের আলো প্রতিরোধ করার জন্য ভিসরস সংযুক্ত করা থাকে। এটি মাউন্টেন বাইকারদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। হেলমেটের ভিসরস যেমনই হোক না কেন, এটির ওজন খুবই কম হয় এবং এটি সামনের দিকে বাতাসের চাপ কমিয়ে রাখে।

৩. মুখম-লের নিরাপত্তা : মাউন্টেন রাইডারদের হেলমেটে চারপাশ  মোড়ানো একটি চিবুক বার রয়েছে, যা মাউন্টেন ও পার্ক রাইডারদের মুখম-লকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

৪. স্ট্র্যাপ : হেলমেটের স্ট্র্যাপ সিস্টেম খুবই আরামদায়ক। এটি থাকলে হেলমেট আটকাতে ও খুলতে সহজ হয়।

৫. হেয়ারপোর্ট : কিছু কিছু হেলমেটে লম্বা চুলের জন্য পেছনের দিকে ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রগুলোকে হেয়ারপোর্ট বলা হয়ে থাকে।

৬. হেলমেটের ওজন ও দীর্ঘস্থায়িত্ব : যেসব হেলমেট ওজনে যত বেশি হালকা, সেসব হেলমেট তত বেশি ভালো। তবে এক্ষেত্রে দেখতে হবে হেলমেট মজবুত কীনা।

৭. গ্লাসের মান : গ্লাসের মান অবশ্যই ভালো হতে হবে। স্ক্র্যাচ রেজিস্ট্যান্স হলে ভালো হয়। তাহলে সহজে দাগ পড়বে না।

৮. হেলমেট ও গ্লাসের রং : গরমকালের জন্য সাদা এবং শীতকালের জন্য কালো রঙের হেলমেট কিনতে পারেন। গ্লাস নির্বাচন করার সময় হালকা কালো বা ওয়াটার কালার গ্লাস নিতে পারেন। তবে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন তা হলো বেশি কালো গ্লাস বা মারকারি গ্লাস পরিহার করুন। কারণ মারকারি গ্লাসগুলো দিয়ে রাতের বেলা বাইক চালাতে পারবেন না।

হেলমেটের সঠিক সাইজ নির্ধারণ

যখন হেলমেট বাছাই করবেন, তখন এটি আরামদায়ক হওয়া অত্যাবশ্যক। হেলমেট ছোট, মাঝারি এবং বড় বা বর্ধিত মাপে তৈরি হয়ে থাকে। আপনার প্রয়োজনীয় আকার খুঁজে পেতে, একটি ক্যাপ দ্বারা আপনার মাথার সর্ববৃহৎ অংশ পরিমাপ করুন। অথবা সোজা দুই প্রান্তবিশিষ্ট মাপকাঠি দিয়ে দৈর্ঘ্য পরিমাপ করুন। আপনার মাথার সাইজ অনুযায়ী হেলমেটের সাইজ নির্ধারণ করুন।

অতিরিক্ত ছোট : ২র্০র্  এর ছোট (৫২ সেমি থেকে ছোট)

ছোট : ২র্০র্ ২১.৭র্৫র্  (৫২ সেমি ৫৫ সেমি)

মধ্যম : ৭র্৫র্ ২৩.২র্৫র্  (৫৬ সেমি ৫৯ সেমি)

বড় : ২র্৫র্ ২৪.৭র্৫র্  (৬০ সেমি৬৩ সেমি)

অতিরিক্ত বড় : ৭র্৫র্  (৬৩ সেমি থেকে বড়)

 

বাইক হেলমেট পরিধান

একটি ভালো সাইজের হেলমেট অবশ্যই ভালো হওয়া উচিত। এটি আপনার মাথার ওপর সিটের মতো সামনের প্রান্তের সঙ্গে বসে থাকবে অথবা আপনার ভ্রুর ওপর থেকে পরতে হবে যেন কপাল সুরক্ষিত থাকে। হেলমেটটি সামনে-পেছনে ঘুরিয়ে সঠিকভাবে আপনার মাথার ওপর বসাতে হবে। লক্ষণীয় যে, যদি এটি ১ ইঞ্চির বেশি নড়াচড়া করে, সেক্ষেত্রে হেলমেটটির ফিতা কমিয়ে-বাড়িয়ে ফিট করতে হবে। ফিট করার ক্ষেত্রে আপনার মাথার হেলমেট বসানোর পূর্বে হেলমেটের সাইজ ঠিক করে নিন। প্রায় সব হেলমেটের ভেতর ফিট বা সাইজ ঠিক করার জন্য সাইজিং রিং লাগানো থাকে। হেলমেট পরার সাইজিং রিং ঘুরিয়ে সঠিকভাবে আটকে নিন। পরে স্ট্র্যাপ ভালোভাবে আটকাতে হবে। স্ট্র্যাপটি ঠ আকারে আটকাতে হবে এবং কান উন্মুক্ত থাকবে। সবশেষে চেইন স্ট্র্যাপ মুখ নড়াচড়া করার জন্য লাগানো থাকে। এটি মাথার ওপরের অংশে শক্তভাবে আটকাতে হবে। যেভাবে আরামদায়ক হয় সেভাবে হেলমেটটি পরিধান করুন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত টাইট ফিট কোনো কিছুই আরামদায়ক নয়।

 

হেলমেটের পরিচর্যা

রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে কখনো হেলমেট পরিষ্কার করবেন না। নির্মাতারা শুধুমাত্র নরম কাপড় বা স্পঞ্জ, হালকা সাবান ও পানি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিষ্কার করার জন্য বলে থাকেন। চিলেকোঠা, গ্যারেজ, ট্রাঙ্ক অথবা অন্য কোনো স্থান যেখানে তাপ সঞ্চয় করে রাখতে পারে সেখানে কখনো হেলমেট রাখবেন না। অতিরিক্ত তাপ আপনার হেলমেটের ক্ষতি করবে। তাপমাত্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া হেলমেট পরিধান করবেন না। অবশ্যই হেলমেট আদান-প্রদান করবেন না।

 

কখন হেলমেট পরিবর্তন করবেন? 

একটি হেলমেট দুর্ঘটনাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যে জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত, সেটি ঠিক করুন এবং এটি যেন নতুনের মতো থাকে সেদিকেও লক্ষ রাখুন। এছাড়া প্রতি ৫ বছর পরপর হেলমেট পরিবর্তন করুন। দূষণ, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ও আবহাওয়াজনিত কারণে হেলমেটের উপাদান নষ্ট হয়ে যায়।