ক্র লর্ডসে গতির সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের লড়াই|155045|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
ক্র লর্ডসে গতির সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের লড়াই
ক্রীড়া ডেস্ক

ক্র লর্ডসে গতির সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের লড়াই

বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর ‘ফিনিশ’-এর ঘটনা নেই বললেই চলে। ১২তম আসরে সেই আক্ষেপ ঘুচবে কি? নিউজিল্যান্ড যে স্কোর তুলল তাতে রোমাঞ্চকর কিছুর আভাস প্রথম ইনিংস শেষে পাওয়া যাাচ্ছিল না। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা দলটি নির্ধারতি ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪১ রান তোলে। লর্ডসের সবুজ পিচে টস জিতে আগে ব্যাট করার ‘জুয়া’ সুফল বয়ে আনেনি কেন উইলিয়ামসনের জন্য। লিয়াম প্লানকেট ও ক্রিস ওকস ৩ উইকেট করে নিলে আড়াইশোর নিচেই শেষ হয় কিউইদের ইনিংস। ২৭ বছর পর ফাইনালে উঠে প্রথম শিরোপা জয়ের প্রথম কাজ সেরে রেখেছে ওয়েন মরগানের দল। তবে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ফিরতেও পারে, অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে যেকোনো সময় যেকোনো কিছুই তো সম্ভব।

২৩ বছর আগে ১৯৯২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিল ইংল্যান্ড। এত বছর পর আবার। ওই ফাইনাল প্রথমবার কোনো ইংলিশ বোলার ৩ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ডেরেক প্রিঙ্গেল ২২ রানে নিয়েছিলেন ৩টি। এবার ৩ উইকেট করে নিলেন ওকস ও প্লানকেট। আর এটাই ফাইনালের হাইলাইটস। দুই পেসারের সঙ্গে জোফরা আর্চার ও মার্ক উডের ১টি করে উইকেটে পুরো ইনিংসজুড়েই সাবধানী ছিল নিউজিল্যান্ড। হাত খুলে রান করতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যান। চার পেসার ও স্পিনার আদিল রশিদ দারুণ ‘টিমওয়ার্ক’ দেখান। সবাই রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি পাঁচ-এর নিচে। এমনিতেই সবুজ পিচ, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন আর বোলারদের নিয়ন্ত্রণ উইলিয়ামসনদের পুরো ইনিংসজুড়েই ব্যাকফুটে রেখেছে।

২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর লর্ডসে খেলা পাঁচ ম্যাচেই আগে ব্যাট করা দল জিতেছে। এই পরিসংখ্যানেই চোখ রেখে হয়তো ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন উইলিয়ামসন। মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস সাত ওভারের মধ্যে ২৯ রান করে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত সফল করার পথে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু সেখানেই থামতে হয় কিউইদের। ব্যর্থ টুর্নামেন্ট কাটানো গাপটিল শেষ ম্যাচেও হতাশ করলেন। দুই চার ও এক ছক্কায় ১৮ বলে ১৯ রান করে দারুণ শুরু করেছিলেন কিন্তু টানতে পারেননি। ওকসের বলে তার বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন ওঠে। আম্পায়ার আঙুল তুলতে ডিআরএসের সাহায্য নেন গাপটিল। এই ওপেনারের বাজে সময় বাড়িয়ে সেটাও ভুল হয়। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ডিআরএস সুযোগও শেষ হয়।

এরপর ধীরলয়ে এগিয়ে চলেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন ও নিকোলস। জুটি বেঁধে ৭৪ রানও করে ফেলেন। কিন্তু প্লানকেটের জাদুকরী হাত টুর্নামেন্টে আরেকবার ইংল্যান্ডকে সুবিধা এনে দেয়। ৩০ রান করা উইলিয়ামসনকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেট এনে দেন দলকে। এই টুর্নামেন্টে বড় জুটি ভাঙা বোলারদের মধ্যে শীর্ষে প্লানকেট। ৯ উইকেট বা তার বেশি নেওয়া বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রানগড় তোলা জুটি ভেঙেছেন তিনি। ৬৫.৩ রান নিয়ে তার আগে কেবল গুলবাদিন নাইব। এদিকে নিউজিল্যান্ড যার ব্যাটে সবচেয়ে বেশি ভরসা রেখেছিল সেই উইলিয়ামসন বিদায় নেওয়ায় ঘোরতর বিপদে পড়ে যায়। বড় সংগ্রহের স্বপ্নও সেখানেই শেষ দলটির। তবে ৩০ করে বিদায় নেওয়ার আগে ১২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙেছেন উইলিয়ামসন। এক বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৫৭৮ রান এখন তার। ২০০৭ বিশ্বকাপে ৫৪৮ করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে।

উইলিয়ামসনের পর রস টেইলর ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ভরসা। কিন্তু মাত্র ১৫ রান করা এই ব্যাটসম্যান আম্পায়ার এরাসমাসের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে এলবিডব্লিউ হন। এর আগে অন্য আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার তিনটি ভুল সিদ্ধান্ত ডিআরএসের মাধ্যমে ফেরানো হয়। টেইলরের আগে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করা নিকোলসকে ফেরান প্লানকেট। আসরে প্রথম হাফসেঞ্চুরি তোলা এ কিউই ওপেনার ইনিংসের একমাত্র হাফসেঞ্চুরিয়ানও। পুরো আসরজুড়ে নিশ্চুপ থাকা নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং বিভাগ থেকেই ফাইনালের সর্বোচ্চ রান এলো। তবুও বড় সংগ্রহ আসেনি।

যার কারণ লোয়ার অর্ডার দুর্বলতা। নিচের দিকে জেমস নিশাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম থাকলেও তারা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। নিশাম ৩ চারে ২৫ বলে ১৯ করে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তাকেও ক্রস সিমে বল করে সেøায়ারের ফাঁদে ফেলেন প্লানকেট। এরপর বড় শট নিতে পারা গ্র্যান্ডহোমকে মাত্র ১৬ রানে ফিরিয়ে দেন ওকস। তবে অন্যপ্রান্তে টম ল্যাথাম শেষ পর্যন্ত টিকে থাকায় দলের স্কোর ২৪০-এ নিয়ে যান। ৫৬ বলে ৪৭ করেন ল্যাথাম। নিশামের সঙ্গে ৩২ ও গ্র্যান্ডহোমকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ে লড়াইয়ের পুঁজি আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

রান বেশি না হলেও লড়াইয়ের জন্য একদম কমও না। ১৯৭৯, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১৫ বিশ্বকাপ ফাইনালগুলো ছিল একতরফা। এবারেরটিও সেই ধারা মানবে, না ১৯৮৭ বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে তাই দেখার।