আবার লড়াই শুরু মাশরাফীর|155175|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
আবার লড়াই শুরু মাশরাফীর
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আবার লড়াই শুরু মাশরাফীর

আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন কি না রহস্য রেখে দিয়েছিলেন। ওদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চায় তাদের সর্বকালের সেরা অধিনায়ককে দেশের মাঠ থেকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বিদায় দিতে। আর মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা যে শ্রীলঙ্কা সফরে ৩ ওয়ানডে সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তো বোঝা যাচ্ছিল। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস সেশনে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেন। এ তো কলম্বো সফরের প্রস্তুতি বটে।

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে বিশ্বকাপে খুব ভুগেছেন। পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। নিজের শেষ বিশ্বকাপটা মাশরাফী শেষ করেছেন সাকুল্যে ৮ ম্যাচে ১টা উইকেট শিকার করে। গড় ছিল ৩৬১। এমন বাজে টুর্নামেন্ট এর আগে কখনো তার জীবনে আসেনি। সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছিলেন। কিন্তু মনের কথা মানেন বলে অনেক কিছু উপেক্ষা করেও যেতে জানেন বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি।

গতকাল দেখা গেল, জিমে খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মাশরাফী। হাতে সময় অল্প। এর মধ্যে চোটের সঙ্গে লড়ে জিতে যেতে হবে। যেমন জয় তার জীবনে নতুন কিছু নয়। বারবার যোদ্ধা ফিরে আসেন ইনজুরিকে হারিয়ে। আর তার নেতৃত্বেই তো বিশ্বে এখন বাংলাদেশ সমীহ জাগানো এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড ক্রিকেটের কারণে খেলাপ্রেমীদের হৃদয় হরণ করা দল।

আয়ারল্যান্ডে জেতা ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট আসরে ওই চোট তাকে সেরাটা ঢেলে দিতে দেয়নি। হৃদয়ে তার রক্তক্ষরণ।

ক্রিকেটার এবং সংসদ সদস্য এভাবে হাল ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নন। ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে দুই হাঁটুতে ৭টা মেজর অপারেশন নিয়ে যে কীভাবে খেলে যাচ্ছেন তা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্যও বিস্ময়। নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন। কিন্তু ওই ব্যর্থতাই হয়তো আরও তাতিয়ে দিয়েছে তাকে। সময় নষ্ট না করে আবার তাই দেখতে না দেখতে মাঠে ফেরা। চোটকে জিততে দিয়ে অসম্মানের বিদায় কি এই লড়াকুকে মানায়?

টেস্ট খেলা হয়নি ২০০৯ এর পর। টি-টোয়েন্টি থেকেও অবসর নিয়েছেন। খেলেন শুধু ওয়ানডে। ২০১৪ সালে নতুন করে অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশের খেলা কোনো সিরিজ মাশরাফী মিস করেননি। আর মাশরাফীর ক্যারিয়ারটা এমনই যে ২০১৪ থেকে প্রায় সবসময় কোনো না কোনো ইনজুরি নিয়ে খেলতে হয়েছে। তাতেও কিন্তু দলকে নিয়মিত জিততে শেখানোর পাশে ব্যক্তিগত বোলিং পারফরম্যান্স আলো ছড়িয়েছে প্রায় সবসময়। কেবল জীবনের শেষ বিশ্বকাপটা মাশরাফী মাথা উঁচু করে শেষ করতে পারলেন না। এই আক্ষেপ কি ভুলতে পারবেন তিনি বা তার কোটি কোটি ভক্তরা কখনো?