বাগাতিপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স বন্ধ ২৬ মাস |155309|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
বাগাতিপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স বন্ধ ২৬ মাস
নাটোর প্রতিনিধি

বাগাতিপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স বন্ধ ২৬ মাস

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন দুই বছরের অধিক সময় ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে না। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে কমপ্লেক্স ভবন থেকে সেই সময়ের কমান্ডার রশীদুন্নবী বেফিনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। ওই সময় পুলিশের নির্দেশে প্রায় ছয় মাস বন্ধের পর ভবনটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এটি এখনো বন্ধই রয়েছে।

কমপ্লেক্স ভবনের প্রথম দুই তলায় দোকান ঘর ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও তা-ও কার্যকর হয়নি। এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটি এভাবে বন্ধ থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনতলাবিশিষ্ট কমপ্লেক্স ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।

বাগাতিপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আজাদ হোসেন বলেন, কমপ্লেক্সটি উদ্বোধনের পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রায় আট মাস ব্যবহারের পর ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল কমপ্লেক্স ভবন থেকে সে সময়ের কমান্ডার রশীদুন্নবী বেফিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ওই বছরের ১২ অক্টোবর বাগাতিপাড়া থানার ওসি কমপ্লেক্স ভবনটি ব্যবহারের অনুমতি দেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে ওই বছরের ২৪ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান। বর্তমানে নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ না থাকায় ভবনটিও আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। ২৬ মাস ধরে কমপ্লেক্স ভবনটি বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটিতে একধরনের ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শ্যামল কুমার রায় জানান, কেন্দ্রীয় কমান্ডসহ সারা দেশের মুুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ড ভেঙে দেওয়ার পর জেলা পর্যায়ে ডিসি ও উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অফিস বিষয়ে তারাই নিয়ন্ত্রণ করে। তবে বাগাতিপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এর আগে বিজয়ের মাসেও জাতীয় পতাকা দেখা যেত না। সে সময়ের ইউএনও জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা নেন। ভবনটি বন্ধের ফলে মুক্তিযোদ্ধারা কমপ্লেক্স ভবনকেন্দ্রিক যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল তা পাচ্ছেন না। তিনি এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনের দাবি জানান। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াঙ্কা দেবী পালের কাছে কমপ্লেক্স ভবনটি বন্ধ এবং ভাড়ায় বরাদ্দ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে কমপ্লেক্স ভবনটির ভাড়া বরাদ্দ প্রদান কমিটির সভাপতি নাটোর জেলা প্রশাসক মো. শাহ রিয়াজ বলেন, মূলত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ না থাকায় কমপ্লেক্স ভবনটি ব্যবহার করা হয় না। তা ছাড়া স্থানীয় কেউ দোকান ঘর ভাড়া নেওয়ার প্রতি তেমন আগ্রহ দেখায় না।