সাইকেডেলিক মানুষ ও অন্যান্য কবিতা|155895|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০১৯ ২০:১৫
সাইকেডেলিক মানুষ ও অন্যান্য কবিতা
অদ্বিত অদ্রি অনন্ত

সাইকেডেলিক মানুষ ও অন্যান্য কবিতা

অদ্বিত অদ্রি অনন্ত।

একটা স্বপ্নদৃশ্যে আমাকে খুন করে ফেলছে বন্ধুরা

বহুকাল ধরে, একটা স্বপ্নদৃশ্যে

আমাকে খুন করে ফেলছে বন্ধুরা।

আমি মারা যাচ্ছি
মারা যাচ্ছি
আর
মারা যাচ্ছি।

ইশ ! মৃতপ্রায় আমার মুখটা যদি
একবার কেউ দেখতো এখন
আমি তো তাকে বলতামই, তাই না ?
সে তো জানতোই কোনো না কোনোভাবে,
আমি মানুষ কতটা ভালোবাসি।

সে তো জানতোই,
আমাকে যারা খুন করেছে
তারা আমার পরম বন্ধু ছিল একদিন—
যখন আমরা ডিলানের গান শুনতাম
আর ভাতটাও খেতাম একটাই প্লেটে।

কিন্তু, কেউ তো আমার নিকট আসে না আর ।
কাউকে তো আর দেখি না আমি
বহুকাল ধরে । হ্যাঁ,
বহুকাল ধরে
একটা স্বপ্নদৃশ্যে
আমাকে খুন করে ফেলছে বন্ধুরা—

আর আমি শুধু,
জান-প্রাণ দিয়ে ভুলে থাকতে চাইছি হত্যার অস্ত্র।

১৩ জুলাই, ২০১৯, মিরপুর ৬, ঢাকা

 

ডিস্‌টেন্স মরে না তো বালের প্যাচালে

পাশাপাশি তো এখন নাই আমরা,
একটা ডিস্‌টেন্স দাঁড়ায়ে আছে আমাদের মাঝখানে ।
যেন সে বৃক্ষ, যেন সে প্রতিদিন, যেন সে মাথা নষ্ট—
পাঁচশো
ঝড়-বাদলেও—
অক্ষত থাকতে চায়।

এইদিকে, এমন ডিস্‌টেন্সকে ঈঙ্গিত করে
একটা আস্ত সূর্য জাহাজের মতো করে
ডুবে গেল ঈষৎ লাল;
একটা এ্যালবাট্রসও উড়ে গেল
তার পাগল পাখনা নিয়ে—
খানিক বাতাস শুধু হয়ে থাকল অতিরিক্ত।

এরপর তো আর মানে থাকে না কিছুর ।
একটা হামিংবার্ড উড়ে আসল আমার জানালায়,
সে আমাকে বললো
তোমার সাথে আমি বালের প্যাচাল পাড়ব,
তুমি ঐ ডিস্‌টেন্সটারে মাইরা ফ্যালো মন থেকে।

আমি অনেক ভাবলাম। চিন্তা করলাম। ধ্যান করলাম।
তারপর তার দিকে তাকায়ে বললাম

স্যরি, আমি বালের প্যাচাল পাড়ি না।

১৬ জুলাই, ২০১৯, মিরপুর ৬, ঢাকা

 

বউ

আমার বউটা প্রায়ই আমারে মাইরা ফ্যালে
ওরে আমি বলি
মাইরো না
মাইরো না
মাইরো না
তবু সে আমারে মাইরা ফ্যালে
কুটি কুটি কইরা কাইটা ফ্যালে
তখন আমি মনে মনে ভাবি

বউ আমার এত সুন্দর না হইলেও তো পারতো !

১২ জুলাই, ২০১৯, মিরপুর ৬ , ঢাকা

 

সাইকেডেলিক মানুষ

এই যে সাইকেডেলিক মানুষ, কই যান?
এইদিকে আসেন, আপনার সাথে কথা আছে।

এই যে অন্য দুনিয়ার মানুষ, আপনিই তো সে, নাকি?
এইদিকে আসেন, আপনার সাথে কথা আছে।

ঐ যে, ঐ দিকটায় একবার তাকান—
একটা লাশ,
দুইটা গরু,
তিনটা কাক

দেখলেন তো ?

আমিও দেখতেসি, অনেক্ষণ ধরে;
আমার মনে হইল
ঐ লাশ
ঐ গরু
ঐ কাক
আমার দিকে ধেয়ে আসতে চাইতেসে

ওদের কথা নাকি আমি শুনি না কখনো

আপনি শুনসেন নাকি কখনো, কান পাইতা ?

এই যে সাইকেডেলিক মানুষ
এই যে ভবের দেশের মানুষ
কই যান ?
দাঁড়ান দাঁড়ান, আপনার সাথে কথা আছে।

আপনি নাকি অনেক—
পিংক ফ্লয়েড শোনেন ?

১৭ জুলাই, ২০১৯, মিরপুর ৬, ঢাকা

 

হেরোইন

দৌড় দিতেসি
একটা খেলায়
জিততে জিততে হারা যাইবো না
তাই দম বন্ধ কইরা
দৌড়াইতে দৌড়াইতে
একটা ব্রিজ দুইটা ব্রিজ তিনটা ব্রিজ
লম্বা ব্রিজ
আর আমি
আরেকটু দৌড়াইতে চাই
তাই
সাদা দেখি
সাদা দেখি
সাদা দেখি পাখি

মাথা নষ্ট হইলে পাখি তো সাদাই
আমি কি দৌড়াই নাকি হুদাই
সূর্য খুঁইজা বেড়াই?

জানি না, আমি জানি না
তবে
সূর্য উঠসে! ঐ তো সূর্য উঠসে!

আমি থামবো ?
আমি থামি ?

আমি থামিনাই—

মিষ্টিমুখে তারে কইলাম— ভাই, আরেকটু দৌড়াই?

১৭ জুলাই, ২০১৯, মিরপুর ৬, ঢাকা

 

পিরিয়ড

গলগল করে রক্ত পড়ছে…

তীব্র ব্যথা, তুমি আমারে বললা ।
আমি বললাম,
একটু সহ্য করো, এই সাতটা দিন;
আইলাভিউ, সোনা বাচ্চা !

তুমি চিন্তা-ভাবনা কইরা
মনোযোগের সাথে বললা

চুপ থাক, কুত্তার বাচ্চা !

১৭ জুলাই, ২০১৯, মিরপুর ৬, ঢাকা

 

কবি অদ্বিত অদ্রি অনন্ত'র জন্ম : ১ জুন, ১৯৯৮, রাজশাহী । তিনি মিরপুর ৬, ঢাকায় থাকেন । গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ছেন। কৈশোর থেকে গান ও কবিতার সাথে যুক্ত, থাকতে চান আজীবন। তার প্রকাশিত বই :বরফে তৈরী মানুষের সিক্রেট (ফেব্রুয়ারি, ২০১৯)।