কনস্টেবল নিয়োগে বাণিজ্য|156206|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
কনস্টেবল নিয়োগে বাণিজ্য
সরোয়ার আলম

কনস্টেবল নিয়োগে বাণিজ্য

কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় বাণিজ্যে জড়িত থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এরপরও নিয়োগে বাণিজ্য হয়েছে, যাতে জড়িত থাকায় ১০২ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বদলিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে পুলিশের সদস্যসহ ৪০ জন। নিয়োগে দালালদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ২৫ জেলায়। তবে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তদবির কম হয়েছে, যার ফলে ১০৩ টাকায় আবেদন করেও চাকরি হয়েছে অনেকের।

দেশ রূপান্তরের কাছে থাকা নিয়োগ বাণিজ্যের নথি অনুযায়ী, নেত্রকোনা জেলায় সুজাত মিয়াকে (রোল নম্বর ১৩০৫) কনস্টেবল পদে চাকরি দিতে তদবির করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জরুহুল হক সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সোহাগ। পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে সুজাত মিয়াকে আপন ছোট ভাই পরিচয় দেন তিনি। একই আবদার করেছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য চঞ্চল। তিনি রিয়াদ মিয়াকে (রোল ১২৭) কনস্টেবল পদে চাকরি দিতে তদবির করেন। এ দুজনের মতোই সারা দেশে নজরদারির মধ্যে হওয়া কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় তদবিরকারীরা সক্রিয় ছিল।

কনস্টেবল নিয়োগে তদবির ও বাণিজ্য ঠেকাতে পুলিশের সব রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন আইজিপি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একজন করে এসপির নেতৃত্বে ৬৪ জেলায় ৬৪টি তদারকি দল গঠন করা হয়। নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলগুলো দেশের সব জেলায় সফর করে। আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করার নির্দেশনা ছিল। তাছাড়া ১০৩ টাকার বেশি কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে না নিতে বলা হয়। নির্দেশনা পেয়ে বেশিরভাগ জেলার এসপি ঘোষণা দেন, সরকারি ফি ছাড়া প্রার্থীদের আর কোনো টাকা লাগবে না। এ বিষয়ে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বচ্ছতার মধ্যই পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ হয়েছে। কোনো ধরনের ঘুষ লেনদেন করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়। যেসব প্রার্থীর যোগ্যতা ছিল, তারাই নিয়োগ পেয়েছে। অনেক মেধাবী ও গরিবের সন্তানরা এবার পুলিশে চাকরি পেয়েছে। সবকটি জেলাতেই ১০৩ টাকায় চাকরি হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাস দেড়েক আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৯ হাজার ৬৮০ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৮০০ জন পুরুষ ও ২ হাজার ৮৮০ জন নারী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রার্থীদের শারীরিক মাপ, শারীরিক পরীক্ষাসহ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। পরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। গত ২২ জুন থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। আর শেষ হয় ৯ জুলাই।

অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের জায়গা থেকে এবার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যেকোনো অনিয়ম খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা টিম ছিল জেলায় জেলায়। সামান্য অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।’

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম হয়েছে। ঘুষ লেনদেনই হয় বেশি। কনস্টেবল নিয়োগের অধিকর্তা হলেন জেলার এসপি। প্রায় প্রতিটি জেলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপিসহ আমলাদেরও তদবির থাকে পুলিশের ওপর। তাছাড়া একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যও নিয়োগে তদবির চালায়। এসব কিছুর নেপথ্যেই থাকে আর্থিক লেনদেন। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে পুলিশ সদর দপ্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সে বেশকিছু নির্দেশনাও ছিল। দালাল ও অসাধু চক্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার না হতে চাকরিপ্রত্যাশীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় সচেতনতামূলক সংবাদ। কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর আগেই আইজিপি সব রেঞ্জের ডিআইজি ও এসপিদের পুলিশ সদর দপ্তরে ডেকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। সবকটি জেলায় একাধিক স্তরে নজরদারি রাখা হয়। দায়িত্ব পালন করে পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইট, রেঞ্জ ডিআইজির নজরদারি কমিটি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন এসপি ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে গঠিত ৬৪টি বিশেষ দল। এরপরও তদবির বাণিজ্য হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিআইজি ও এসপিদের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইজিপি। এই নিয়ে একাধিকবার মিটিং হয়েছে। অনেক জেলার পুলিশ সুপাররা নিজেরাই মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এসব কারণে একজন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি তদারকি টিম গঠন করা হয়। তারপরও তদবিরবাজরা সক্রিয় ছিল। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেকটা স্বচ্ছভাবেই নিয়োগ হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই ১০৩ টাকা দিয়ে অনেক মেধাবী ও গরিবের সন্তানরা চাকরি পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি পুলিশও তদবির বাণিজ্য করার চেষ্টা করেছে। কেউ সফল হয়েছে। আবার কেউ ধরা খেয়েছে। প্রতিটি জেলায় গোয়েন্দা টিমও কাজ করেছে। আইজিপির নিজস্ব গোয়েন্দা সেলও এবার কাজ করেছে। বিধি অনুযায়ী নিয়োগ দিতে ডিআইজি ও এসপিদের বলা হয়েছে। স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী কিছু নিয়োগ হয়েছে, তা সত্য।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তদবির করেছেন চাকরির জন্য। যাদের জন্য তদবির করা হয়েছিল তারা হলেনÑ নুরনবী শেখ (রোল ১৬০১), সুজাত মিয়া (রোল ১৩০৫), অনয় দীপ্ত দ্বীপ (রোল ১১০), তুর্য পাল (রোল ১০০), মেহেদী হাসান মিন্টু (রোল ১৩৩৮), বিষাদ মিয়া (রোল ১২৭), নোমান হাসান খান (রোল ১৬৫৮), নাবিক আহমেদ (রোল ১৬৪১), গোলাম শাদীর নুর (মিঠুন) (রোল মুক্তি-১২৮), আকাইদ হোসেন (রোল মুক্তি-৩৩), সুজাত মিয়া (রোল ১৭৫৫), রয়েল মিয়া (রোল ১৮১০), জহিরুল ইসলাম (রোল ১২০৪), ইতি আকতার (রোল ০১), প্রিয়া দত্ত (রোল ১৩১), সৃষ্টি রানী শিল (রোল ০৫), জুমা রানী সরকার (রোল ৭২), সোহাগ আহমেদ নুরী (রোল ২১)। তাছাড়া একই জেলাতে ১০৩ টাকা দিয়ে নেত্রকোনা সরকারি শিশু পরিবারের সদস্য আবদুল মান্নান, সাদেকুল রহমান ও লিংকন মিয়া চাকরি পেয়েছেন। সরকারি শিশু (বালক) পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক তারেক হোসেন জানান, উৎকোচ ছাড়াই তারা চাকরি পেয়েছেন। জেলার এসপি জয়দেব চৌধুরী কিছুদিন আগে দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

ঝালকাঠি-১ আসনের সাংসদ বজলুল হক হারুন ১১ জনকে চাকরি দিতে ২২ জুন এসপির কাছে তালিকা পাঠান। তালিকায় নাম ছিল এ কে এম রাকিব হাসান, মুক্তা আক্তার, সৈয়দ আমান উল্লাহ, রিমন হোসেন, জাকির হোসেন, ওসমান খান, নাছিমউদ্দিন, আলাউদ্দিন কাজী, ইবনে হাসান জাকারিয়া (তামিম-মুক্তিযোদ্ধা কোটা), রফিকুল ইসলাম মাহিম ও শাহিন হাওলাদারের। এই দুটি জেলার মতো একাধিক জেলাতেও তদবির হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তদবির এসেছে প্রতিটি জেলাতেই। তবে কোনো কোনো তদবির আমলেই নেওয়া হয়নি। অতীতে দেখা গেছে, একটি চক্র পুলিশ নিয়োগকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। ওইসব সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে এবার। কোনো কোনো জেলায় এটা সফল হলেও কোথায়ও আবার সরষের ভেতরেই ভূত ধরা পড়ে। কোনো কোনো জেলায় আবার ১০৩ টাকায় চাকরি পেয়ে অনেকের চোখে দেখা গেছে হাসি ও কান্না।’

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, এবার অন্তত ২৫টি জেলায় তদবিরবাজদের তৎপরতা ছিল বেশি। চাকরি দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। আবার অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার আগেই অনেকে ধরাও পড়েছেন। এরই মধ্যে পুলিশসহ ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১০২ পুলিশ সদস্যকে বদলিসহ বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। টাঙ্গাইল, গাজীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, কুষ্টিয়া, রংপুর, মাদারীপুর, সিলেট, গাইবান্ধাসহ কয়েকটি স্থানে ৪০৬, ৪১৭ ও ৪২০, ১৭০ ও ১০৯, ৩৪ ধারায় ১৮টি মামলা হয়েছে। এতকিছুর পরও বিভিন্ন স্থানে তদবিরবাজরা সক্রিয় ছিল। অসাধু পুলিশ সদস্যরা ছিলেন বেশি বেপরোয়া। রাজনৈতিক নেতাদের তদবির ছিল আরও বেশি। তাছাড়া বিভিন্ন পেশার লোকজনও তদবিরে ব্যস্ত ছিলেন। তাদের চাপ ও তদবির সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে এসপিদের।

গত ২৪ জুন মাদারীপুরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসপি সুব্রত কুমার হালদারের দেহরক্ষীসহ নুরুজ্জামান সুমন, পুলিশ লাইনসের মেস ম্যানেজার জাহিদ হোসেন, টিএসআই গোলাম রহমান ও পুলিশ হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী পিয়াস বালাকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ঘুষের ৭২ লাখ টাকা। পরে এসপিকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়। নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকায় বরখাস্ত করা হয় কুড়িগ্রামের এসপি কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক আবদুল মান্নান, উচ্চমান সহকারী সুকোমল ও রংপুর ডিএসবির এএসআই রুহুলকে। তাদের কাছ থেকে ঘুষের ২৩ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন কুমার মোদককে খাগড়াছড়ি ও এসআই আবু তালেবকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করা হয়। রংপুর ডিএসবি শাখার এএসআই রুহুলকে ১০ লাখ টাকাসহ আটক করা হয় কুড়িগ্রামে। তাছাড়া এসপি কার্যালয়ের চালক সাইদুর রহমান সায়েম ও রেশন স্টোরের ওজনদার আনিছুর রহমানকে ডিআইজি অফিসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। টাঙ্গাইলে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগে এসআই মোহাম্মদ আলী ও শাহানাতুল আরেফিন সুমি নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঝিনাইদহ পুলিশের কনস্টেবল আবদুল হাকিমকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

কুমিল্লার এসপি নুরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কুমিল্লায় এবার বিনা পয়সায় চাকরি পেয়েছেন কৃষক, রিকশাচালক, মাছ বিক্রেতা, নাইটগার্ড ও গৃহপরিচারিকার সন্তানরাও। মেধার ভিত্তিতেই তাদের চাকরি দেওয়া হয়। কোনো তদবির আমলেই নিইনি।’

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাছা গ্রামের মেহেদী হাসান শহরে স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করতেন। ১০৩ টাকায় চাকরি পেয়েছেন বলে জানান তিনি। আরও জানান, তার মতোই বেশ কয়েকজনকে কোনো তদবির করতে হয়নি। নড়াইলে জার্সির ভেতরে করে এসপিকে ৭ লাখ টাকা ঘুষ দিতে গিয়ে ধরা পড়েন নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। এসপি জসিমউদ্দিন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘টাকা দিয়ে কোনো নিয়োগ হবে না তা সবাইকেই জানিয়ে দিয়েছি। কোনো তদবির শুনিনি। দালালদের খপ্পর থেকে রক্ষা পেতে আমরা মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করেছি।’

নিয়োগ বাণিজ্য করায় সিলেটে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের নায়েক খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, প্রতি বছরই পুলিশে নিয়োগের সময় ছুটি নেন। বিভিন্ন এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করেন। তাদের মধ্যে যারা চাকরি পাওয়ার যোগ্য তাদের বেছে নেন। বাছাইকৃতদের সঙ্গে ২-৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী টাকা আদায় করে তাদের নিজ জিম্মায় সিলেট শহরে এনে রাখেন। পুলিশ নিয়োগের গাইড বই কিনে দিয়ে তাদের পড়তে বলেন। তারপর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শেষে যারা চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন, তাদের টাকা রেখে দেন। এবারও সাতজনের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন। সিলেটের এসপি ফরিদউদ্দিন জানান, স্বচ্ছতা নিয়ে নিয়োগ হয়েছে। যারা যোগ্য তারাই চাকরি পেয়েছে।

কিশোরগঞ্জের এসপি মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি ও তদবির ছাড়াই কনস্টেবল নিয়োগ হয়েছে।

কক্সবাজারের এসপি এ বি এম মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এবারের পরীক্ষায় অনেক গরিবের সন্তানরা চাকরি পেয়েছে। আইজিপি স্যারের কড়া নির্দেশ ছিল। সততা দিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করাই ছিল আমার চ্যালেঞ্জ। আর আমি ওই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছি।’

ঢাকার এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ‘ঘুষ লেনদেন ছাড়াই এবার পুলিশে চাকরি হয়েছে।’