চট্রগ্রামের বাঁশখালীতে ছেলেধরা সন্দেহে ৫ জনকে গণপিটুনি|156778|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০১৯ ১৯:০২
চট্রগ্রামের বাঁশখালীতে ছেলেধরা সন্দেহে ৫ জনকে গণপিটুনি
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্রগ্রামের বাঁশখালীতে ছেলেধরা সন্দেহে ৫ জনকে গণপিটুনি

চট্রগ্রামের বাঁশখালীতে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে ৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারচড়া  ইউনিয়নের বশিরউল্লাহ বাজার এলাকায় ও সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম  এলাকায় এ ঘটনা গুলো ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে বাহারচড়া এলাকার বশির উল্লাহ বাজার এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে ৩ জনকে, তাদের সাথে স্থানীদের কথা বার্তায় ছেলেধরা সন্দেহ আসলে এলাকার লোকজন জুড়ো হয়ে ৩ জনকে পিটুনি দিয়ে গুরুতরভাবে আহত করে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

এদেরকে বাঁশখালী থানা পুলিশ উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতরা হলেন, পটিয়া থানার বরনিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শফিক আহমদের পুত্র মো. হৃদয় (১৮), বোয়ালখালী থানার শাকপুরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চেরাং বাড়ি এলাকার শাহাব মিয়ার পুত্র মো. জনি (২৮), পটিয়া থানা বরনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ওখাইন নারা এলাকার নবাব মিয়ার পুত্র মো. সোহেল (২৫)।

অপর দিকে সাধনপুর বাণীগ্রাম এলাকা থেকে চট্টগ্রাম চান্দগাঁও থানার বলির হাট এলাকার নুরুল আজিমের পুত্র আব্দুর রহিম (৩৯) ও সাতকানিয়া কালিআইশ ইউনিয়নের কালিআইশ এলাকার তপন বিশ্বাসের পুত্র শান্ত বিশ্বাস (৩২) কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

এদিকে আহত মো. জনি জানান, আমরা আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য ছাগল ক্রয় করতে বাঁশখালী বশিরউল্লাহ মিয়াজীর বাজারে আসি, এক পর্যায়ে কিছুসংখ্যক লোক জুড়ো হয়ে কোন কথা বার্তা না শুনে  ‘ছেলেধরা’ বলে মারধর শুরু করে। এরপর আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে সবাই মিলে আমাদের মারধর করে। পরে বাঁশখালী থানা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাদেরকে মারাত্মক জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাঁশখালী হাসপাতালে  হাসপাতালে ভর্তি করে।

বাঁশখালী হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মনিরা ইয়াছমিন জানান, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত ৫ জনকে বাঁশখালী থানা পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে, আমরা চিকিৎসা সেবা প্রধান করি, পরবর্তীতে থানা পুলিশ তাদের নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী  থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত বাহারচড়ায় ৩ জনকে থানা পুলিশ আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসা ভাবে তারা জানিয়েছে ছাগল ক্রয় করার জন্য তারা বাজারের দিকে যাচ্ছি, সন্দেহজনক ভাবে এলাকাবাসী তাদের মারধর করে, অপরদিকে  সাধনপুরের বানীগ্রাম এলাকা থেকে তাও সন্দেহে জনক ভাবে পৃথক পৃথক ভাবে এলাকাবাসীরা গণপিটুনি দেয়, পরবর্তীতে উক্ত ২ জনকে আহত অবস্থায় থানা পুলিশ উদ্ধার করে, তাদের কে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।