ধর্মঘট প্রত্যাহার, নৌ চলাচল স্বাভাবিক|157243|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জুলাই, ২০১৯ ২০:৫৮
ধর্মঘট প্রত্যাহার, নৌ চলাচল স্বাভাবিক
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মঘট প্রত্যাহার, নৌ চলাচল স্বাভাবিক

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ রুটে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধসহ বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে সব ধরনের নৌযান ধর্মঘটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এতে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৪৩ টি নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম বলেন, যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে দাবি আদায়ের পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা নদী বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবির বলেন, বেলা সাড়ে চারটায় নৌযান শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ দিকে ধর্মঘট চলার সময় অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান বলেন, নৌযান শ্রমিকদের মূল দাবিগুলো মেনে নিয়ে লঞ্চমালিকপক্ষ ২০১৬ সালে নৌযান শ্রমিকদের সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি চুক্তি করেছিল। সে চুক্তির মেয়াদ আজও শেষ হয়নি। তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে নৌযান শ্রমিকেরা মানুষকে জিম্মি করে অযৌক্তিক দাবিদাওয়া দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।

দেশ রূপান্তরের বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সারাদিন সব ধরনের নৌযান বন্ধ থাকায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের বহি নোঙ্গরে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। এতে বন্দরে অচলাবস্তা দেখা দেয়। শতাধিক লাইটার জাহাজ কর্ণফুলী নদীতে অসল বসে ছিল দিনভর। ধর্মঘটের কারণে বরিশাল বিভাগের কোথাও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করেনি। তবে মঙ্গলবার রাতে যেসব লঞ্চ ঢাকা থেকে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সেগুলো যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছে।

আমাদের মংলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ধর্মঘটের কারণে যাত্রী, পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মংলার সাথে ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বুধবার। এদিন বন্দরে নোঙ্গর করা কোনো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস হয়নি। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দেশের বৃহত্তম এ নদীবন্দর থেকে বুধবার কোনো ধরনের লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। চাদপুরসহ লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর ও নোয়াখালী থেকে আসা যাত্রীরা অপেক্ষা করে ফিরে গেছেন।

খুলনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ধর্মঘটের কারণে খুলনা, মংলা ও যশোরের নওয়াপাড়া নদীবন্দর থেকে জাহাজ, কার্গো ও তেলবাহী ট্যাংকার থেকে মালামাল খালাস ও ওঠানো বন্ধ ছিল। এছাড়া এ অঞ্চলের সাথে লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

আশুগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ধর্মঘটের প্রভাবে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ নদীবন্দরের সাথে বন্ধ হয়ে যায় পূর্বাঞ্চলীয় ছয়টি পথের নৌ যোগাযোগ। এতে সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার ১৪ টি উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

এদিকে দ্বীপজেলা ভোলায় নৌ ধর্মঘটের কারণে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য পথের যাত্রীরা এদিন বড় ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়েন। লঞ্চ না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে ছোট নৌকা ও ট্রলারযোগে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন আমাদের ভোলা প্রতিনিধি।