নাঈমুম সাকিবের কবিতাগুচ্ছ|157323|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৪২
নাঈমুম সাকিবের কবিতাগুচ্ছ

নাঈমুম সাকিবের কবিতাগুচ্ছ

ভাগ্যহীন টেলিফোন

ভাগ্যের চেয়ে অবিশ্বস্ত কিছু চলমান পাহাড়ি মেয়ের ঠোঁটে আগলে রাখা অবলা কথা;

বুঝাতে চেয়েছিলাম আমাদের ছিল আকাশের নীল শ্যামলী বর্ণমালা।

ভাগ্যের চেয়ে অপরিণত কিছু সবুজ হৃদয়

পাণ্ডুলিপি হাতে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে প্রেমের পাঠ নেবে বলে;

তোমার পাঠশালায় পাঠার্থী আমি অকুতোভয়ে পাহারা ডিঙিয়ে পাশ করবো বলে বুঝাতে চেয়েছিলাম।

এখন কে কোথায় আছি!

তারাবিহীন রাতে, ঠিকানা ভুলোমন ভুলে গেছে কবে, মনে পড়ে বেঁচে আছি- ছিলে, মনে পড়ে গৃহকোণ, বিরান কুটিরে বেজে যায় কালো ফেলে আসা ভাগ্যহীন টেলিফোন।

 

ক্রুদ্ধ কবিতা

 

হ্যাঁ এটা সত্য তুমি আমি এক আলো হয়ে জ্বলার কথা ভাবতাম পূর্ব আসমান যখন মেঘহীন নীলাভ ছিল;

নিয়তির পশ্চিম আসমান যখন সূর্যকে কেড়ে নিচ্ছে

আমরা শুধু তখন সানসেট দেখে দেখে আমাদের বিচ্ছেদের ছবি জমা করছি

এটা আমাদের বিশ্বাসঘাতকতা নয়,

শুধু মাত্র জলে ভাসা পদ্ম যেমন তেমন।

হ্যাঁ এটাও তেমন সত্য আমাদের কোন দাগ ছিল না

কারও এ রকম দাগ থাকে না

এটা সত্যি সত্যি নিষকলঙ্ক অভিমান;

আভিমানই তো জীবন

আর জীবন তো কোন দাগ নয়

অবিরাম বয়ে চলা শুধু।

তুমি তোমাতে বাঁচো

আমি আমাতে।

 

বনলতা আসবে না

 

উদ্বাস্তু স্বপ্নের নাবিক তুচ্ছ জীবনের অভিজ্ঞতায় বলে, জীবনানন্দ- তোমার

বনলতা সেন কখনো ছিল না আমাদের জনপদে,

আকাশের শূন্যতায় কিংবা কাল্পনিক অবয়বে এতকাল যে ছিল স্বপ্নচারিণী আমাদের দিয়েছে নক্ষত্রের অন্ধকার।

 

বিষাদের ক্ষোভে নগরে নামে নিঃসঙ্গ গোধূলি।

শালিকের দুঃখ

তোমাকে করেছে স্বপ্নহীন, একা একা দেখেছ কুয়াশার দুর্বোধ্য রূপ মগ্নতায়।

এসব আত্মতৃপ্তির বেলুন উড়ানো সময় আশ্রয় নিয়েছে মহাকালের গর্ভে।

 

আমি,আমরা প্রকৃতির সন্তান।

শরীরে মেখেছি মাটির গন্ধ;

বসন্তের ধুলোময় বিকেলে

নক্ষত্রের অন্ধকারে মিলায় অন্য এক জীবনের লেনদেন।

 

তুমি যাকে খুঁজে পেলে না হাজার বছর;

পার্থিব জীবনে জোছনার বর্ণ

বুনে আমাদের জনপদের নিভে যাওয়া রঙ।

পাখিরা আর ফিরে না, বাজারের

মিথস্ক্রিয়ায়..

 

ফিরেছে রাজকন্যা।

চোখে রহস্যময়তা নেই,

ঠোঁটে অস্ফুট রেখায় সমর্পণের ইশারা দেখিনি।

আলোকবর্ষের যাত্রা পথে মেলে না অখণ্ড অবসর।

 

এই জনপদে তোমার বনলতা আসবে এমন

প্রার্থনার জন্য আর নেই কোন

বর্ণমালা।

 

শুভসকাল

 

ভোর বৃষ্টির হিম ছটা মেঘাবরণে

চিনি ছাড়া চা এর ফরমায়েশি

শুভসকাল হয়ে যাও।

ওদিকে, দরজা কণ্ঠে বাতাস আক্রমণাত্মক

তোমাকে চায় বলছে, তোমাকে চায়।

এ কেমন বেলেল্লাপনা?

পাড়ার সখীরা সব কি তাকে ছেড়ে পালাল...

 

পাখির ঝাপটার আওয়াজ কানে আসছে

বুঝতে পারছি তারা বিশুদ্ধ বাতাসে উৎসব করছে।

হে শহর, আমাদেরও তো উৎসব করতে ইচ্ছে হয়

সামনে সাঁজোয়া পোশাক পড়িয়ে দারোয়ান রেখে নয়

স্বাধীন উদ্যম হয়ে হাত ধরে এক সাথে গিয়ে।

বড় বটের নিচে বকুল গুঁজে দিয়ে

মাথার কাপড় হালকা লেলিয়ে বলব

শুভসকাল। আজ আমাদের উৎসব।

 

প্রতিবাদী প্রেমিক

 

তোমার বয়স ছুঁয়ে যায় শিকারি পাখির চোখ

নদীর চূড়ান্ত গতিমুখ

নেপথ্যের যত খ্যাতি,

সাত সমুদ্র পার হয়ে গেছে অতীত স্মৃতি,

সুরতরঙ্গে ভেসে ভেসে সুখ সাগরে থেকে যাবে

আরও থাকবে শুশুক এর দল- নিষ্পাপ তুমি বলে আমি স্লোগান দেব না।

তারা দেবে। তোমার স্মৃতি দেবে।

কয়েক মিনিট আগেও "রুদ্র" বেঁচেছিল তোমার ওয়ালে

এখন কি করছে জানি না, তবে তার মতো করে সবকিছু অসাধারণ এর দৃষ্টিতে দেখতে চেয়েছি।

আমি আসলে স্লোগান দিতে চাই

কিন্তু তোমার দুর্বল আন্তরিক অনুভূতি আমায় রুখে দেয়

রুখে দেয় তোমার গোঁয়ার্তুমি

রুখে দেয় তোমার মেকি হাসি..

অথচ বিপ্লবী, প্রতিবাদী প্রেমিক আমিও তো হতে পারতাম।

কবি পরিচিতি:

নাঈমুম সাকিব। কবিতা লিখেন নিজের জন্য, নিজেকে চেনার জন্য। এর পাশাপাশি গদ্য রচনা করেন সমাজের জন্য। পড়াশুনা করছেন আইন নিয়ে বিইউপি তে। কবিতাগুলো ভালো-মন্দ লাগলে ই-মেইল এ অনুভূতি জানালে কবি উৎসাহ পাবেন।
[email protected]