রাজধানীর বাইরে ১২৯ ডেঙ্গু রোগী, অধিকাংশই ঢাকা থেকে আক্রান্ত|158126|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ জুলাই, ২০১৯ ২০:৫০
রাজধানীর বাইরে ১২৯ ডেঙ্গু রোগী, অধিকাংশই ঢাকা থেকে আক্রান্ত
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর বাইরে ১২৯ ডেঙ্গু রোগী, অধিকাংশই ঢাকা থেকে আক্রান্ত

দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রাজধানী ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে, তাদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

রবিবার পর্যন্ত দেশ রূপান্তরের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্যে এমনটাই দেখা গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৯ জন রোগীর তথ্য পাওয়া গেলেও, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৮২৪ রোগী ভর্তি হয়েছেন। রবিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ২৯২১ জন এবং মারা গেছেন ৮ জন। এ ছাড়া, আরও ৮৭২৫ জন রোগী ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম ইন-চার্জ ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুব কম। কিছু রোগী আছে যারা ঢাকা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকার বাইরে গেছে।

কন্ট্রোল রুম ও দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে ঢাকার বাইরে যেসব জেলা থেকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী যেসব জেলায় শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে সেগুলো হচ্ছে– বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, ঝিনাইদহ, লক্ষ্মীপুর, মুন্সিগঞ্জ, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, বগুড়া, ফরিদপুর, ফেনী।

বরিশালে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। গত শনিবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। একদিনের ব্যবধানে রোববার দুপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী ভর্তি সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫জন। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ ঢাকায় থাকা অবস্থায় আক্রান্ত হয়েছে। পরে বরিশালের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, বরিশালে স্থানীয়ভাবে কোন ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে যারা ভর্তি হয়েছেন তারা ঢাকায় থাকাকালীন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তেমন কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে রবিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৭ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, সাতজনের মধ্যে ছয়জনই নিশ্চিতভাবেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত। বাকি একজনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

তিনি জানান, এরা ঢাকায় অবস্থান করা সময়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন। সেখানে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে আক্রান্তদের বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেয়া হয়। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরে গত কয়েক দিনে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সকলেই দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোববার সরেজমিন দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আটজন ডেঙ্গু রোগীর সবাই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. মামুনুর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা স্থানীয় কোন ডেঙ্গু রোগী পাইনি।

ঝিনাইদহে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ১২ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আয়ুব আলী জানান জানান, গত ১৩ জুলাই থেকে রোববার পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ১০ জন রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়ে আছেন। পরে তাদের রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এদের মধ্যে ৩ জনকে ঢাকায় পাঠানো করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ময়লা বা ড্রেন পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি তথ্য অফিসের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, বেশি সংখ্যক রোগী হাসপাতালে আসলে প্রয়োজনে হাসপাতালে পৃথক ইউনিটের ব্যবস্থা করা হবে। ছয় উপজেলায় পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা সার্বিক ভাবে সচেতন রয়েছি।

লক্ষ্মীপুরে রোববার বিকেল পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ জন। এদের মধ্যে ৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, নারী, শিশু ও শ্রমিক রয়েছেন। তাদের বেশির ভাগ ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আক্রান্ত হয়েছেন।

মুন্সিগঞ্জে সাতজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সাতজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার পর দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। শনিবার পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন চারজন।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ছাড়া জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী নেই। জেলার সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে ডেঙ্গু শনাক্ত করণের ব্যবস্থা নেই। তবে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্তরা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন।

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন দুজন। তারা দুজনই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলায় এ পর্যন্ত ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সব রোগী মূলত ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন বলে ধারণা করা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে কত জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, কত জন চিকিৎসা নিচ্ছেন, কত জন সুস্থ হয়েছেন তারও সঠিক পরিসংখ্যান নেই এ হাসপাতালের আরএমওর কাছে। এ ছাড়া, ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কোন ব্যবস্থা নেই হাসপাতালটিতে। ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত পরীক্ষায় অ্যানালাইজার মেশিনটিও নষ্ট।

মাদারীপুরে গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গু জ্বরে ১৩ রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মাদারীপুরের সিভিল সার্জন শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রবিবার পর্যন্ত ২২ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই ঢাকায় গিয়ে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রবিবার সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ওসমানীতে ভর্তি হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. দেবপদ রায় দেশ রূপান্তরকে জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলার সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের ডেঙ্গু রোগের ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা একাধিক সভা করেছেন। তিনি জানান, সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে ৩ জন, মৌলভীবাজারে ২ জন ও হবিগঞ্জে ১ জন ডেঙ্গু রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে আরও ৩ জন ডেঙ্গু চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।