দা-ছুরির দাম বেশি|160900|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০
দা-ছুরির দাম বেশি
ফিরোজ মিয়াজী ও ফাহিমা আক্তার সুমি

দা-ছুরির দাম বেশি

রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষ কোরবানির পশু কেনার পর শেস বেলায় ছুটছেন ধারালো দা-ছুরি, বটি কিনতে। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কামারপট্টিগুলোতেও। দা, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত কামাররা। যেন দম ফেলার জো নেই তাদের।

লোহা গলানো তপ্ত আগুনের পাশে ঘামে পুরো শরীর, এক হাতে হাতুড়ি, অন্য হাতে কাঁচি, চারদিকে শুধু টুং টাং শব্দ। এ এক অন্যরকম পরিবেশ। পুরো বছর এ সময়টির অপেক্ষায় থাকেন কামাররা। এজন্য ব্যস্ততা আর কষ্টের মাঝেও তাদের মধ্যে বিরাজ করে সুখ। কাজের চাপে কামারদের সঙ্গে কথা বলার ফুরসত নেই।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে কামারের দোকানে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়। একজনের কাজ শেষ না করে আরেকজনেরটা শুরু করায় কেউ কেউ বাগ্্বিত-াও করছেন। পাশের একজন দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিড় করা গ্রাহকদের অধিকাংশই কসাই। এদের মধ্যে কেউ কেউ সিজনাল (যারা কেবল কোরবানির সময় এ পেশায় সক্রিয় হন)। বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গিয়ে তারা গরু জবাই ও গোশত কাটাকাটি করে দেন। ঈদ সন্নিকটে হওয়ায় আগেভাগেই ছুরি-চাপাতি বানাচ্ছেন। নিজেরাই পছন্দমতো লোহা সংগ্রহ করে এনেছেন। সেগুলো দিয়ে সামগ্রী বানাচ্ছেন। কেউ আবার কামারদের লোহা দিয়েও সামগ্রী বানাচ্ছেন। সামগ্রী তৈরির জন্য গাড়ির স্প্রিংয়ের মোটা লোহার পাতের চাহিদাই বেশি। জাহাজের লোহার পাতের চাহিদাও রয়েছে।

কারওয়ান বাজার কামারপট্টিতে ব্যস্ততা একটু বেশি। কারণ, তাদের কাছ থেকে ঢাকার বাইরের খুচরা বিক্রেতারাও দা-ছুরি সংগ্রহ করেন। রফিক নামে এক কামার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোরবানির চাপ শুরু হয় ঈদের মাসখানেক আগে থেকেই। তবে ঢাকার বাইরেরগুলো সাপ্লাই হয়ে গেছে। এখন ঢাকারগুলোর কাজ চলছে। চাঁদরাত পর্যন্ত বিশ্রামের সময় পাব না।’

বাজারে দা-ছুরি-চাপাতির জোগান দিতে কামারদের ব্যস্ততা মাসখানেক আগে শুরু হলেও এসব উপকরণ বিক্রি এখনো তেমনভাবে শুরু হয়নি। খিলগাঁও বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানে দা-ছুরি-চাপাতির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। মাহবুব নামে একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত কয়েক দিন সব ব্যস্ততা ছিল কামারপট্টিতে। আমাদের বেচা-বিক্রি সেভাবে হচ্ছে না। আশা করছি শুক্রবার থেকে পুরোদমে শুরু হবে। চাঁদরাতে তো এই গলিতে ঢুকতেই পারবেন না। কথা বলার সময় পাব না। এই যে আমার দোকানে দা-ছুরি-চাপাতি যা দেখছেন, একটাও থাকব না।’

এদিকে গতবারের তুলনায় এবার দা-ছুরির দাম কিছুটা বেশি। পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছোট আকারের প্রতিটি ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়। জবাই করার বড় ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। চাপাতির আকার অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। এছাড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন আকারের দা-বঁটি। দোকানগুলোতে দেশি লোহার তৈরি সামগ্রীর পাশাপাশি চাইনিজ ছুরি-চাপাতি বিক্রি করতেও দেখা গেছে। তবে সেগুলোর দাম কিছুটা কম। দোকানি মাহবুব বলেন, ‘দেশি ছুরি-চাপাতিই বেশি বিক্রি হচ্ছে। গুণে-মানে এগুলোই ভালো। চাইনিজগুলো দেখতে সুন্দর হলেও তুলনামূলক হালকা। তাই এগুলো চলে কম।’

রাজধানীর মিরপুর এক নম্বরের কামারের দোকানদার সানোয়ার জানান, চাকুসহ বিভিন্ন ধরনের মাল বানানো প্রায় শেষ। এখন বিক্রির পালা। তিনি জানান, কয়লা ও লোহার দাম বেশি হওয়ার কারণে এবার পণ্যের দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি। এদিকে মেশিনের তৈরি চীন-থাইল্যান্ডের দা, বঁটি, ছুরি, চাকুর দাপটে বর্তমানে সারা বছরের কামারপাড়ার ব্যস্ততা অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ভৈরবের কামাররা।  সেখানকার কামারশিল্পীরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন কোরবানির ঈদের। এ সময় পুরনোগুলো শান দেওয়া ছাড়াও অনেকেই নতুন করে তৈরি করেন এই অতি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গটি। এতে করে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বলে জানালেন ভৈরবের শিমুলকান্দির অভিজিৎ কর্মকার ও পরিমল কর্মকার।

ভৈরবের ঘোড়াকান্দা এলাকার পলাশ চন্দ্র কর্মকার জানান, ‘তাদের তৈরি দা, বঁটি, চাকুসহ অন্যান্য জিনিস মজবুত হওয়া সত্ত্বেও চাকচিক্যের কারণে ক্রেতারা মেশিনের তৈরি জিনিসের দিকে দিনে দিনে ঝুঁকছেন। লোহা আর কয়লার দাম বাড়ায় জিনিসের দামও এবার। দাম শুনে ক্রেতারা কিনতে চান না। মেশিনের তৈরি ওইসব জিনিস টেকসই না হওয়ায় ক্রেতারা আবার কামারপাড়াতেই  ফেরেন’Ñ যোগ করলেন পলাশ কর্মকার।