চামড়ার দাম কম, লোকসানের মুখে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা|161151|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:০৪
চামড়ার দাম কম, লোকসানের মুখে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

চামড়ার দাম কম, লোকসানের মুখে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

এবার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম একেবারেই কম বলা চলে। যারা কোরবানি দিয়েছেন তারা যেমন চামড়ার দাম পাননি, তেমনি দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ও ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরাও।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর কাচা চামড়া কেনার লোক তেমন পাওয়া না গেলেও মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজনদের বিনা পয়সায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চামড়ার অস্থায়ী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি পিস ছোট চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় চামড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেক। এছাড়া, রাজধানীর বাইরে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬শ টাকায়।

সরেজমিন রাজধানীর মানিক নগর, সবুজবাগ, রায়েরবাগ এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি করা বেশিরভাগ পশুর চামড়া রাস্তায় পড়ে আছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত কোরবানি সম্পন্ন হওয়া পশুর চামড়াগুলো কেনার জন্য তখনো কেউ আসেননি।

সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী, ঢাকায় কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু, রাজধানী ঘুরে জানা গেছে, এবার ফড়িয়া বা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে না। কোথাও কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হচ্ছে আরও কম দামে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে।

সন্ধ্যার পর লালবাগের পোস্তায় চামড়ার পাইকারি বাজারে ভিড় করেছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া আসছে সেখানে। শুরু হয়েছে বেচাকেনা। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সেখানেও ব্যাপক দরপতন হবে।

অবশ্য ২০১৮ সালের কোরবানির মতো এবারও চামড়া কিনে যাতে বিপদে না পড়েন, সে জন্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের আগেভাগেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চামড়া খাত সংশ্লিষ্টরা।

কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী অভিযোগ করলেন, আড়তদার ও ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট করে চামড়ার বাজার কমিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেন চিন্তাভাবনা করে এবার চামড়া কেনেন। কারণ, আমরা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি চামড়া সংগ্রহ করছি না। তবে যারা লবণ দেবেন, তাদের কাছ থেকে আমরা চামড়া নেব।’

তিনি বলেন, বলেন, কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশি দামে চামড়া কিনছেন। না বুঝে ব্যবসা করতে এসে আড়তদারদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাতে এই মুহূর্তে সব চামড়া কেনার মতো টাকা নেই। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এবার সব চামড়া হয়তো আমরা কিনতেই পারব না।’

তিনি মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, ‘যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কিনবেন, তারা যেন ঈদের দিন চামড়া বিক্রি করার কথা মাথায় না রাখেন। তারা যেন চামড়ায় ভালোভাবে লবণ দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে চামড়া কেনেন।’

এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।