হামলা নিয়ে যেসব তথ্য দিলেন ভিপি নুর|161309|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৩৭
হামলা নিয়ে যেসব তথ্য দিলেন ভিপি নুর
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামলা নিয়ে যেসব তথ্য দিলেন ভিপি নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজ শহর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বাজারে হামলার শিকার হন তিনি।

হামলার পর বুধবার রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ভিপি নুরের বরাত দিয়ে ঘটনার বিবরণ দেন। 

তিনি ফেসবুকে জানান,

'ভিপি নুরের সাথে কথা বলে আজকের হামলার প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হলো-
আজকে (বুধবার) দুপুর ১২.৩০ এর দিকে ভিপি নুরের গ্রাম চরবিশ্বাস থেকে বের হয়ে ভিপি নুর, তার বন্ধু রবিউল, রুবেল, নুরের ছোট ভাই আমিনুর, দুলাভাই ইব্রাহিমসহ স্থানীয় আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে দশমিনাতে তার বোনের বাসায় দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলো। 

চরবিশ্বাস থেকে নৌকা যোগে নদী পার হয়ে বদনাতলী এসে মোটরসাইকেল করে ভিপি নুর ও তার সঙ্গীরা যখন উলানিয়া বাজারে পৌঁছায়, তখন স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ভিপি নুর ও তার সঙ্গীদের বাইকের সামনে এসে থামতে বলে রড, স্টিল, লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা করে। 

স্থানীয় এমপি শাহজাদার নির্দেশে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হামলায় অংশ নেয়-

১। গলাচিপার পৌর আওয়ামিলীগ নেতা মইনুল ইসলাম রনো
২। ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি ফরিদ হাসান কচিম
৩। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসিফ
৪। উপজেলা ভাইচ চেয়ারম্যানের আপন ভাই নুরে আলম 
৫। স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা

মোটরসাইকেল থামিয়ে অতর্কিত হামলার পর নুরসহ সকলে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেয়। নুর ও হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আহ্বায়ক ফাহিম ( নুরের এলাকার) একটা স্টিলের দোকানে আশ্রয় নিলে, সন্ত্রাসীরা দোকানের গেট ভেঙে প্রবেশ করে এবং দোকানের মধ্যেই তারা নুর ও ফাহিমকে রড ও স্টিল দিয়ে দোকান বন্ধ করে মারধর করে। একটা পর্যায়ে তারা ফাহিমকে বের করে দিয়ে দোকানের মধ্যে নুরকে অবরুদ্ধ করে রেখে নির্যাতন করে। পরে পুলিশের উপস্থিততে নুরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসময় মারাত্মকভাবে আহত হয় নুরের বন্ধু, সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র রবিউল ও নুরের দুলাভাই ইব্রাহিম। রবিউলের অবস্থা আশংঙ্কাজনক। তার বুকের সিনার হাড় ফেটে ও মুখ ফেটে গেছে। আর নুরের দুলাভাই ইব্রাহিমের মাথা ফেটে গেছে।

ঘটনার পরপরই নাটকীয়ভাবে পুলিশ উপস্থিত হয়। স্থানীয় লোকজন ও নুরের আত্মীয়রা ছবি তুলতে গেলে পুলিশ কাউকে ছবি তুলতে দেয়নি। এমনকি এম্বুলেন্সে নেওয়ার সময়ও পুলিশ কোন সাংবাদিক ও স্থানীয় লোককে ছবি তুলতে দেয়নি ও ভিডিও করতে দেয়নি। পুলিশ এসে শুধুমাত্র গলাচিপা সদরে একটা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু ডাক্তার সিটি স্কান ও ক্রিয়েটিনিং লেভেল টেস্ট করানোর জন্য পটুয়াখালী পাঠানোর কথা বললে পুলিশ বলে, রক্ত বের হয়নি, বাসায় পাঠিয়ে দেন। অর্থাৎ পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ চিকিৎসা নিতেও বাধা প্রদান করেছে।

নুর ও তার সঙ্গীদের ( আত্মীয় ও বন্ধু) সাথে থাকা ১০ টি মোটরসাইকেল জায়গায় ভেঙে তছনছ করা হয়, ৪টি মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। এছাড়া নুরের পকেটে থাকা টাকাপয়সা ও নুরের দুলা ভাই ইব্রাহিমের কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।'

এর শেষ কোথায়?

একেরপর এক নৃশংস এই হামলার কি কোনদিন বিচার হবেনা.........?'

বানান ও ভাষা একই রাখা হয়েছে।