খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা আমাদের দুর্ভাগ্য|161732|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা আমাদের দুর্ভাগ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা আমাদের দুর্ভাগ্য

দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে তার আশু সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় গতকাল শুক্রবার দেশব্যাপী মিলাদ ও দোয়া মাহফিল কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়েও মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে কারাবন্দি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে না পারা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের জন্য এশিয়া মহাদেশে সবচেয়ে ত্যাগ স্বীকারকারী নেতা অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি দীর্ঘকাল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার রাজনীতির জীবন শুরুটাই রাজপথে। তিনি স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশে পথে-প্রান্তরে জনগণকে সংগঠিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) ছিল খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি দলটির চেয়ারপারসনের জন্মদিনে কেক না কেটে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করে আসছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এমন কিছু করতে পারছি না যে, আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে খালেদা জিয়াকে বের করে নিয়ে আসতে পারব। আর আমরা জেনে গেছি, আইন-আদালতের ভূমিকা কী এবং তারা কী করছে, তারা কী করছে না। তাই আজকে আমাদের সুসংগঠিত হতে হবে এবং আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্তি করতে হবে। এর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকার বেগম জিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। কারণ আজকে যে অর্থনীতিকে পরনির্ভরশীল ও ফোকলা করে ফেলা হচ্ছে, সেটা তখন আর সম্ভব হতো না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, একসময় পাটশিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে, আজকে চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করা হচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৮ মাস আমাদের নেত্রী কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে যাওয়ার আগে তিনি বিদেশে ছিলেন। তিনি নাও আসতে পারতেন। কারণ উনি জানতেন, তিনি ফিরে এলেই এই মামলা চলবে এবং সরকার তাকে কারারুদ্ধ করবে। কিন্তু তিনি দেশে ফিরে এসেছেন, আদালতের সম্মুখে দাঁড়িয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম জিয়া পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, আমি গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে একে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আর বিচার বিভাগকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও রোগমুক্তি কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, শওকত মাহমুদ, নিতাই রায় চৌধুরী, জয়নুল আবেদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরীন সুলতানা, নিপুণ রায়, ইশরাক হোসেনসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।