নয়ন বন্ডের বাসায় ‘চুরি’ অর্থ সোনা নথি গায়েব!|161734|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০
নয়ন বন্ডের বাসায় ‘চুরি’ অর্থ সোনা নথি গায়েব!
বরগুনা প্রতিনিধি

নয়ন বন্ডের বাসায় ‘চুরি’ অর্থ সোনা নথি গায়েব!

দেশজুড়ে আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি, পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের বাসায় চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে বরগুনা সরকারি কলেজঘেঁষা ডিকেপি রোড এলাকায় নয়ন বন্ডের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসায় ছিলেন না জানিয়ে নয়নের মা শাহিদা বেগম দাবি করেছেন, চোরেরা ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শাহিদা বেগম।

তার দাবি, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সকালে প্রতিবেশীরা নয়নের ঘরের তালা ভাঙা দেখে তাকে খবর দেন। তিনি বাসায় এসে দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে আসবাব এলোমেলো দেখে বাসায় থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার খুঁজতে থাকেন।

শাহিদা বেগম দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেন, নয়নের কুলখানির জন্য বাসার আলমিরায় ৪১ হাজার টাকা রেখেছিলেন, যা চোরেরা নিয়ে গেছে। এছাড়া নিজের ঘরে

থাকা প্রায় দশ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, বড় ছেলে মিরাজের স্ত্রীর কক্ষে থাকা ১৪ হাজার টাকা এবং পূত্রবধূ ও নাতনির স্বর্ণালঙ্কার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর বাইরে নয়নের একটি ফাইলে থাকা প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র এবং জমির দলিলপত্রও চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নয়নের ফাইলে থাকা কী কাগজপত্র হারিয়েছে তা জানতে চাওয়া হলে শাহিদা বেগম বলেন, ‘কী কাগজপত্র ছিল তা বলতে পারব না; তবে ফাইলে থাকা সব কাগজই চোরেরা নিয়ে গেছে।’

সরেজমিনে নয়নের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির আসবাব এলোমেলো এবং ঘরের তালা ভাঙা। নয়নের মার কাছ থেকে চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বরগুনার পুলিশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চুরির ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চুরির সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে নয়ন বন্ডসহ একদল যুবক রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে রিফাত শরীফকে। পরে ওইদিনই বিকেল ৪টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। প্রকাশ্যে বহু পথচারীর উপস্থিতিতে রিফাতের ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। ওই ভিডিওতে হামলার সময় রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় মিন্নিকে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন রিফাতের বাবা (মিন্নির শ্বশুর) আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। সেখানে এক নম্বর সাক্ষী করা হয় মিন্নিকে। এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে গত ১৩ জুলাই বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রিফাত হত্যায় মিন্নির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন দুলাল শরীফ। এরই ধারাবাহিকতায় রিফাত হত্যা মামলার এক আসামিকে শনাক্ত এবং জবানবন্দি নেওয়ার কথা বলে গত ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়। সেখানে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রিফাত হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে রাতে মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানায় পুলিশ। এরপর ১৭ জুলাই পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ জানায়, রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা জানিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মিন্নি। তবে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেন, নির্যাতন ও জবরদস্তি করে মিন্নির কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।