বিনোদনকেন্দ্রের বিকল্প গোর-এ শহীদ ময়দান|162049|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০
বিনোদনকেন্দ্রের বিকল্প গোর-এ শহীদ ময়দান
আবদুল মোমেন, দিনাজপুর

বিনোদনকেন্দ্রের বিকল্প গোর-এ শহীদ ময়দান

দিনাজপুরে পর্যাপ্ত চিত্তবিনোদনের জায়গা না থাকায় এখানকার গোর-এ শহীদ ময়দানটিই অনেকের কাছে বিনোদনের জায়গা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এই গোর-এ শহীদ ময়দানে দেখা যায় মানুষের ভিড়।

উৎসব মৌসুমে সপ্তাহব্যাপী মানুষের ভিড় লেগে থাকে এই গোর-এ শহীদ ময়দানে। স্থানীয়দের সঙ্গে যোগ হয় ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ফলে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে প্রায় রাত ৮টা পর্যন্ত শত শত মানুষের ভিড় দেখা যায় এ মাঠে।

ঈদে বেড়াতে আসা এই বিনোদনপ্রত্যাশীদের আনন্দ দিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বিভিন্ন সরঞ্জাম। শিশু-কিশোরদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠে বসেছে বিভিন্ন দোকানপাট।

উপজেলাভিত্তিক কটি স্থানে বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠলেও দিনাজপুর জেলা সদরে নেই তেমন উল্লেখযোগ্য চিত্তবিনোদনের জায়গা। শহর থেকে প্রায় চার কিমি দূরে ব্যক্তি মালিকানাধীন সিটি পার্ক আর আট কিলোমিটার দূরে রামসাগর জাতীয় উদ্যানই মানুষের এখন বিনোদনের ভরসার জায়গা। ফলে জেলা সদরের মানুষ বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে গোড়-এ শহীদ ময়দানের মতো খোলা মাঠটিকে।

প্রায় ২২ একর জায়গায় বিশালাকার এ গোর-এ শহীদ ময়দানে মাঠের চারদিকে মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বন্ধু-বান্ধব মিলে আবার কেউ এসেছেন শিশুদের নিয়ে। মাঠের এক প্রান্তে শিশুদের জন্য নাগরদোলা, ঘূর্ণি চরকি, নৌকা দোলনা, ট্রেন, শিশুদের জাম্পিং খেলনাসহ প্রায় ১৫টি রাইডস বসানো হয়েছে।

ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে দিনাজপুরে ঈদ করতে এসেছেন মো. আলতাফ হোসেন (৪০)। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন তো কোথাও বেড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় না। ঈদের পর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সন্তানদের নিয়ে গোর-এ শহীদ ময়দানে এসেছি। দিনাজপুরে সে রকম বিনোদনের জায়গা না থাকায় এখানেই এসে ঘুরে যাই।’

মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে দিনাজপুর পৌরসভার একমাত্র শিশু পার্ক। শিশু পার্ক নাম হলেও তা বড়দের দখলে। দীর্ঘসময় শিশু পার্কটির সংস্কারকাজ না হওয়ার ফলে অকেজো হয়ে আছে দোলনা ও চরকি। শিশু পার্কটি মূলত বড়দের ব্যায়াম করার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানে মানুষের ভিড় থাকে বিভিন্ন উৎসবে। শিশু পার্কের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশু পার্কটি সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। শিগগিরই সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।’