মিল্ক ভিটার পাঁচ ভাগের চার ভাগ জমিই বেদখল|162455|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৩০
মিল্ক ভিটার পাঁচ ভাগের চার ভাগ জমিই বেদখল
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিল্ক ভিটার পাঁচ ভাগের চার ভাগ জমিই বেদখল

বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্ক ভিটা) গো-চারণ ভূমির মধ্যে পাঁচ ভাগের চার ভাগই বেদখল হয়ে গেছে। জানা যায়, সাঁথিয়া ও বেড়া এলাকায় গো-চারণ ভূমি হিসেবে ৫ হাজার একর ভূমি মিল্ক ভিটাকে দেওয়া হয়। এর মধ্যে এখন মিল্ক ভিটার দখলে আছে মাত্র ১ হাজার একর জমি।

মিল্ক ভিটার বেদখল হয়ে যাওয়া ৪ হাজার একর জমি উদ্ধারে তৎপর হতে বলেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ কর্মচারীদের চিহ্নিত করে তাদের ছাঁটাই করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে মিল্ক ভিটা নিয়ে আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

মিল্ক ভিটার বেদখল হয়ে যাওয়া জমি নিয়ে কিছু মামলা হলেও জমি উদ্ধারে আইনি লড়াইয়ে যেতে প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট তৎপর নয় বলে মনে করে সংসদীয় কমিটি। দুরবস্থা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া ১৪ টি সুপারিশ বাস্তবায়নেও মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি লাভে থাকলেও ক্রমে লাভের পরিমাণ কমছে। দুধের উৎপাদন ২ লাখ লিটার থেকে ৯০ হাজার লিটারে নেমে এসেছে। মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষ দেশি বিদেশে কয়েকটি পরীক্ষাগারে মিল্ক ভিটার দুধ পরীক্ষা করিয়ে তার ফলাফল বৈঠকে তুলে ধরে। সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মিল্ক ভিটার দুধে যে পরিমাণে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে তা সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক কম।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫ হাজার একর খাস জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে পর্যায়ক্রমে ৪ হাজার একর জমি বেদখল হয়ে গেছে। অনেক জমি ব্যক্তির নামে চলে গেছে।

তিনি বলেন, মিল্ক ভিটাও স্বীকার করেছে কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে লাভের পরিমাণ কমছে। তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ছাঁটাই করতে বলেছেন। কমিটি বলেছে, মিল্ক ভিটাকে লাভেও থাকতে হবে, গুণগত মান সম্পন্ন পণ্যও সরবরাহ করতে হবে।

আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ওমর ফারুক চৌধুরী, ইসমাত আরা সাদেক, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মাহবুব উল আলম হানিফ, মির্জা আজম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও জিল্লুল হাকিম বৈঠকে অংশ নেন।