মন্ত্রীপাড়ায় মশা নিধন অভিযান চান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা|163182|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০
মন্ত্রীপাড়ায় মশা নিধন অভিযান চান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা
পাভেল হায়দার চৌধুরী

মন্ত্রীপাড়ায় মশা নিধন অভিযান চান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

ডেঙ্গু নিয়ে অর্থমন্ত্রীর তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও মশা নিধনে তেমন কোনো তৎপরতা নেই মন্ত্রীপাড়ায়। তাই রাজধানীর মিন্টো রোড, হেয়ার রোড ও বেইলি রোডের যেসব বাড়িতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা থাকেন সেসব বাড়িতে এডিস মশা নিধন অভিযান চান তারা। তাদের দাবি, এসব বাড়িতে এডিস মশা পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, রাজধানীর অন্য যেসব সরকারি ভবনে সংসদ সদস্যরা বসবাস করেন সেখানেও এডিস মশা নিধন অভিযান জরুরি বলে মনে করেন তারা।

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতা শুরু করেও তা শেষ করতে পারেননি

 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রাণঘাতী এই রোগ যেন আর কারও না হয় সেজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনাও করতে শোনা যায় তাকে। এর সপ্তাহখানেক আগে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মশার কামড়ের ভয়ে আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা কমিশনে যাচ্ছেন না তিনি।

সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে যুক্ত উপসচিব পর্যায়ের এক কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। তখন ওই কর্মকর্তাকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীপাড়ার বাসা-বাড়িতে কি মশা নিধন অভিযান পরিচালনা করা যায়? ওই কর্মকর্তা মাথা নিচু করে মুচকি হাসেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা হাসির বিষয় না; এটা করা উচিত। আমি নিশ্চিত সেখানের অনেক বাড়িতে ডেঙ্গুর আখড়া পাওয়া যাবে। ওই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জরিমানার আওতায় আসবেন। জরিমানা করা হলে সংশোধনও হবেন তারা। এর মাধ্যমে ইতিবাচক পাবলিক পারসেপশনও তৈরি হবে।

এ বিষয়ে গতকাল দৃষ্টি আকর্ষণ করলে একজন মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা মন্ত্রীপাড়ায় যেসব বাড়িতে বসবাস করি সেসব বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হলে বেশিরভাগ বাড়িতেই ডেঙ্গু মশার কারখানাও পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চেয়ে আমরা যারা ভিআইপি মর্যাদা নিয়ে চলি এবং সরকারি বাড়িতে থাকি তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে তেমন নজর দিই না। বাড়ির পাহারাদারদের ওপর ছেড়ে দিই দায়িত্ব। এর ফলে অনেক বাড়ি অপরিষ্কার থাকে। শুধু তাই নয়, ডেঙ্গু উৎপাদনের যেসব উপাদান রয়েছে অনেক বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হলে সেসব পাওয়া যাবে। এগুলো শুধু অসতর্কতা ও অমনোযোগী হওয়ার কারণে হচ্ছে।

এ বিষয়ে এক প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা এসব বাড়িতে বসবাস করেছেন তাদের ভেতরে অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল লালন-পালন করেছেন। দেখা গেছে, এসব করতে গিয়ে অনেক বাড়ির নকশাও পরিবর্তন করে ফেলেছেন তারা। অনেক বাড়ি থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ওই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদ ভবনের সামনে ন্যাম ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হলেও এডিস মশা পাওয়া যাবে। কারণ সেখানেও অনেকেই সচেতনভাবে বসবাস করেন না। আরেক মন্ত্রী বলেন, ওইসব ভবনে অনেক ফ্ল্যাটেই সচেতনভাবে তো কেউ বসবাস করেন না, সেখানে অনেকের আত্মীয়-স্বজন থাকেন। ফলে তারা পরিবেশ-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তেমন ভাবেন না। আরেক প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, মন্ত্রীপাড়ার বাসার দুরবস্থা দেখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া অনেকেই ন্যাম ভবনের বাসা ছাড়তে পারেননি। অনেকের ধারণা, মন্ত্রীপাড়ার এই অবস্থা দেখে মিন্টো রোডে বাড়ি বরাদ্দ পেয়েও সেখানে ওঠেননি অর্থমন্ত্রী।