মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন নিয়ে ফেসবুকে সরব ভুক্তভোগীরা: এএফপির প্রতিবেদন|164313|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:১৪
মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন নিয়ে ফেসবুকে সরব ভুক্তভোগীরা: এএফপির প্রতিবেদন
অনলাইন ডেস্ক

মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন নিয়ে ফেসবুকে সরব ভুক্তভোগীরা: এএফপির প্রতিবেদন

মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন নিয়ে সরব হওয়ায় 'ইহুদ-খ্রিস্টানের এজেন্ট' তকমা দেওয়া হয় ভুক্তভোগী হুজাইফা আল মামদূহকে।

বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় শিক্ষক এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকে শিশুরা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।

চলতি বছরের এপ্রিলে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয়। মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনার পর তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচিত হয় এবং প্রথমবারের মতো এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

শুধু জুলাইতেই অন্তত পাঁচজন মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অধীনে থাকা ছেলে-মেয়েদের ধর্ষণের অভিযোগে। ধর্ষণ করে ১১ বছরের এক এতিম শিশুকে হত্যা করার অপরাধে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সী ১২ জনের মতো ছেলেদের যৌন নিপীড়নের জন্য অভিযুক্ত করা হয় এক ধর্মীয় শিক্ষককেও।

শিশু অধিকার ফোরামের প্রধান আবদুস শহীদ বলেন, “বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই অপরাধ এত দিন আলোতে আসেনি। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নাম হবে মনে করে এ নিয়ে কথা বলেন না ধর্মপ্রাণ অভিভাবকরাও।”

ঢাকার তিনটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা হুজাইফা আল মামদূহ ফেসবুকে এ বিষয়ে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন। এতে উঠে আসে তিনিসহ ভুক্তভোগী অনেক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, যারা মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার হন।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার এই শিক্ষার্থী বলেন,  “অনেক মাদ্রাসার শিক্ষকদের জানি, যারা শিশুদের সঙ্গে যৌন মিলনকে বিবাহ বহির্ভূত নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের চেয়েও কম অপরাধ মনে করে থাকেন। একই ছাত্রাবাসে থাকার কারণে এই অপরাধগুলো সহজে গোপন রাখতে সক্ষম হন তারা। গরিব শিক্ষার্থীদেরও চাপ প্রয়োগ করে থাকেন তারা, যাতে বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করা হয়।”

মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় হুজাইফাকে ‘ইহুদি-খ্রিষ্টানের এজেন্ট’ তকমা দেওয়া হয়। মাদ্রাসার পবিত্র ভাবমূর্তিতে কালিমা লাগানোর অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

তার মতো আরও একজন ভুক্তভোগী মুস্তাকিমবিল্লাহ মাসুম একটি নারীবাদী ওয়েবসাইটে মুখ খোলেন। সাত বছর বয়সে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী দ্বারা তিনি প্রথম যৌন নিপীড়নের শিকার হন।

২৫ বছর বয়সী এই তরুণ জানান, ধর্ষকদের মধ্যে তার শিক্ষকও ছিলেন,  অজ্ঞান করে যিনি তাকে বলাৎকার করেছিলেন। এই ঘটনা তাকে চরমভাবে মানসিক আঘাত দিয়েছিল।

তিনি বলেন, “অনেক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আমি চিনি যারা হয় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বা এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এসব ঘটনা এত বেশি ছড়িয়ে পড়েছে যে, অধিকাংশ মাদ্রাসার এ অপরাধ ঘটে থাকে।”

তবে মাদ্রাসা শিক্ষকেরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হুজাইফা আল মামদূহ ঢাকার মোহাম্মদপুরে যে মাদ্রাসায় পড়েছিলেন তার প্রিন্সিপাল মাহফুজুল হক বলেন, “দেশের ২০ হাজার মাদ্রাসার মধ্যে এই ধরনের এক দুইটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। মাদ্রাসায় পড়তে অনিচ্ছুকরাই এসব গল্প ফেঁদে থাকে।”

মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের একজন মুখপাত্র সম্প্রতি এক সেমিনারে উপস্থিত ১২০০ মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে বলেন, “যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্ত ভূমিকা রাখার জন্য।”

ওয়েবসাইটটির সম্পাদক ইফতেখার জামিল তিনি নিজেও একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ছিলেন বর্তমানে শিক্ষক। তিনি বলেন, “এসব ঘটনা কোনোভাবে বিচ্ছিন্ন নয়।”

মাদ্রাসার ছাত্রাবাসগুলোকে সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণে আনার আহবান জানান তিনি।

ষড়যন্ত্র না খুঁজে এসব অপরাধ মোকাবিলায় মাদ্রাসাগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে বলে এই তরুণ সম্পাদকের পরামর্শ।