সোনারগাঁয়ে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ|166743|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
সোনারগাঁয়ে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোনারগাঁয়ে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

সোনারগাঁ উপজেলায় ভুল চিকিৎসায় অমান্তিকা নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর করেছেন। এর আগেই পালিয়ে গেছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত লোকজন।

নিহত অমান্তিকার স্বামী পিন্টু মিয়া জানান, গত শুক্রবার বিকেলে তার স্ত্রী অমান্তিকার ব্যথা উঠলে তিনি মোগরাপাড়া চৌরাস্তার সোনারগাঁ শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয়তলায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে কর্তব্যরত গাইনি ডা. নুরজাহান তাকে সিজার করতে হবে জানান। তখন হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ১৩ হাজার টাকায় অমান্তিকাকে সিজার করার চুক্তি করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অমান্তিকাকে সিজার করেন এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এরপর ডাক্তার নুরজাহান তাড়াহুড়ো করে আরেকটি অপারেশন আছে বলে সঙ্গে থাকা নার্সকে সেলাই করার জন্য নির্দেশ দিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এদিকে, সেলাইয়ের পর রাত যত বাড়তে থাকে, অমান্তিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার পেটব্যথাসহ কয়েকবার বমি করেন। পরে হাসপাতালের নার্সরা অমান্তিকার শারীরিক অবস্থার কথা ডা. নুরজাহানকে জানালে তিনি শনিবার সকালে অমান্তিকাকে নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে নিতে বলেন। সেখানে নিয়ে গেলে অমান্তিকাকে দ্বিতীয় দফা অপারেশন করেন নুরজাহান। অপারেশন শেষে অমান্তিকার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে স্বজদের জানানো হয় রোগীর কিডনিতে সমস্যা আছে। তাকে দ্রুত ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পরে শনিবার রাতেই স্বজনরা রোগীকে আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে গতকাল সোমবার সকালে মারা যান অমান্তিকা।

এদিকে, অমান্তিকার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। গতকাল সোমবার সকালে অমান্তিকার স্বজনরা সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স রেখে তার মৃত্যুর বিচার চেয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর করে। অমান্তিকা (১৯) উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড়সাদিপুর গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে ও পিন্টু মিয়ার স্ত্রী।

অভিযুক্ত ডা. নুরজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

হাসপাতালের মালিক মানসুরা বেগমের ভাই সৈয়দ শরিফউদ্দিন কাদেরী বলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের। মালিকপক্ষ হিসেবে এ ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রোগীর আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে ভাঙচুর করায় থানায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেননি। তবে, ভাঙচুরের ঘটনায় হাসপাতালের মালিকপক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে।