ঋণ দিতে মরিয়া জাইকা-এডিবি|166806|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
গাবতলী ভাটারা মেট্রোরেল লাইন
ঋণ দিতে মরিয়া জাইকা-এডিবি
মামুন আব্দুল্লাহ

ঋণ দিতে মরিয়া জাইকা-এডিবি

রাজধানীর যানজট নিরসনে আরও দুই সড়কে মেট্রোরেল করতে চায় সরকার। যার একটি হবে গাবতলী থেকে মিরপুর, বনানী, গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত; অন্যটি বিমানবন্দর এলাকা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত। এজন্য মেট্রোরেল লাইন-৫ ও ১ আলাদা আলাদা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প দুটিতে বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তা দিতে চায় জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। জাইকার ঋণ সহায়তা ধরে প্রকল্পও প্রস্তুত রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। কিন্তু এবার মেট্রোরেল লাইন ৫-এ অর্থায়ন করতে চায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এডিবির কাট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গেও এ নিয়ে দেনদরবার করেছে সংস্থাটি। মেট্রোরেলের অর্থায়নের বিষয়ে আগে থেকেই জাপানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করেছে ইআরডি। এখন এডিবি অর্থায়ন করতে চাইলে সমস্যা নেই। দুই সংস্থার অর্থায়নেই এটি সম্পন্ন হবে। সম্প্রতি ইআরডি সচিব মনোয়ার হোসেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে মেট্রোরেল লাইন-৫-এ অর্থায়নের বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানায় মনমোহন প্রকাশ।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা আমাদের জন্য ভালো। আগে একটি সংস্থা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছিল। এখন এডিবিও আসতে চায়। দুই সংস্থার যৌথ অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন হতে পারে। টানাটানি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এডিবি ফান্ডের বড় অংশের শেয়ার জাপানের। ফলে এডিবি অর্থায়ন করলেও এটি জাপানেরই বিনিয়োগ হবে। এতে আমাদের সমস্যা নেই।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেলের এ সংক্রান্ত দুটি আলাদা প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এর ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুসারে মেট্রোরেল লাইন-৫-এর আওতায় সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ২০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল। বাকি ৬ কিলোমিটার এলিভেটেড বা উড়ালপথ। সাভারের  হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে সেনানিবাস হয়ে ভাটারায় গিয়ে প্রকল্পটি শেষ হবে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা আর জাইকা ঋণ হিসেবে ৩০ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা দেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছর থেকে ২০২৮ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

মেট্রোরেল-৫-এ অর্থায়নের বিষয়ে ইআরডিকে চিঠি দিয়েছে এডিবি। চিঠিতে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল ৫-এ নকশা, টেকনিক্যাল ও প্রাথমিক কর্মকা- সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য ৪৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রকল্প নিতে চায়। এর মধ্যে এডিবির ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

এডিবির ঢাকা অফিসের এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্সের টিম লিডার গোবিন্দ বার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এডিবি মেট্রোরেলে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এর অংশ হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ টেকনিক্যাল কর্মকা- করতে ৩৩ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, এডিবি বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেবে। কিন্তু কী পরিমাণ অর্থ দেবে সেটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

মেট্রোরেল লাইন-৫ হবে দ্বিতীয় আন্ডারগ্রাউন্ড  মেট্রোরেল। এ পথে দুটি রুট। একটি রাজধানীর উত্তর দিক  থেকে এবং অপরটি দক্ষিণ দিক থেকে। উত্তর দিক থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে। ১৪টি  স্টেশনের মধ্যে ৯টি স্টেশন আন্ডারগ্রাউন্ডে ১৪ কিলোমিটার পথজুড়ে হবে। বাকি পাঁচটি স্টেশন এলিভেটেড অবস্থায় ৬ কিলোমিটার পথজুড়ে থাকবে। অপরদিকে দক্ষিণ দিক থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে মোট আটটি স্টেশন থাকবে, যার পুরোটাই আন্ডারগ্রাউন্ডে হবে।