‘কে হবে মাসুদ রানা’ প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক কিছু হয়নি|166977|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:২৮
‘কে হবে মাসুদ রানা’ প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক কিছু হয়নি
রাসমুন নাঈম মুন

‘কে হবে মাসুদ রানা’ প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক কিছু হয়নি

অনলাইনে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার মুখে মুখে সর্বত্র ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, ‘কে হবে মাসুদ রানা’। যারা জীবনে একটিবার হলেও শ্রদ্ধেয় কাজী আনোয়ার হোসেন রচিত মাসুদ রানা সিরিজ পড়েছেন- তারা জানেন কতটা জাদুকরী মনোমুগ্ধকর চিত্তাকর্ষক বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের গুপ্তচর চরিত্রটি। এই চরিত্রের ব্যাপ্তি, ব্যাপকতা এত যে তার স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

‘মাসুদ রানা’র যাত্রা ১৯৬৬ সালে, যখন বাংলাদেশ তার নবজন্মের জন্য প্রস্তুত হওয়া শুরু করেছে মাত্র। ওই সময় থেকে এখনকার অত্যাধুনিক অনলাইন মিডিয়ার ভিড়েও সগর্বে পেপারব্যাকে প্রকাশিত হয়ে চলেছে। বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে যে সব রথী-মহারথীরা বসে রয়েছেন, তাদের মধ্যে খুব কম ব্যক্তিই পাওয়া যাবে- যারা তাদের ছাত্র জীবনে মাসুদ রানা সিরিজ পড়েননি।

আমিও তার ব্যতিক্রম নই। হাইস্কুলের গণ্ডিতে পা রাখা মাত্রই সেবা প্রকাশনীর ‘মাসুদ রানা’র সঙ্গে পরিচয়। তখন থেকে অনেক বসন্ত পেরিয়ে গেলেও মাসুদ রানা এখনো আমার সঙ্গী। আমি আজ যা কিংবা যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি তার পেছনে সিরিজটির অবদান অনেক বেশি।

তো, সেই কিংবদন্তিতুল্য চরিত্র ‘মাসুদ রানা’কে নিয়ে সিনেমা বানানোর ঘোষণা দেয় স্বনামধন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। তারা সিরিজের প্রথম তিনটি বই ধ্বংস পাহাড়, ভরতনাট্যম ও স্বর্ণমৃগকে কাগজের পাতা থেকে রঙিন পর্দায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় মুখ্য চরিত্র নির্বাচন নিয়ে। কাল্পনিক ও কিংবদন্তিতুল্য চরিত্রটি কে ফুটিয়ে তুলতে পারবে? এই ভাবনা থেকেই চ্যানেল আই, ইউনিলিভার ও জাজ মাল্টিমিডিয়া মিলে একটি রিয়্যালিটি শোয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নেয়। যার মাধ্যমে সারা দেশের তরুণদের থেকে বের করে আনা হবে মাসুদ রানাকে। সেই মোতাবেক ‘মেনজ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, চ্যানেল আই হিরো, কে হবে মাসুদ রানা?’ রিয়্যালিটি শোয়ের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হয়।

অনুষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন যখন প্রথম অনলাইনে নজরে এলো আমি শিহরিতবোধ করলাম। এটি আমার স্বপ্নের চরিত্র ও দৃষ্টান্ত। আগে থেকেই মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, মিডিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সংগ্রাম করছি, ভাবলাম এটা অনেক বড় একটা সুযোগ নিজেকে মেলে ধরার।

দেরি না করে রেজিস্ট্রেশন করলাম। যথাসময়ে ডাক পেলাম অডিশনের জন্য। নির্দিষ্ট দিনে চরম উত্তেজনা বুকে নিয়ে হাজির হলাম শত শত প্রতিযোগীর ভিড়ে, লড়াইয়ের ময়দানে নিজেকে মাসুদ রানা হিসেবে যোগ্য প্রমাণ করার যুদ্ধে। জানতে পারলাম, বারো হাজারেরও বেশি প্রতিযোগীর আবেদন জমা পড়েছে, সেখান থেকে বাছাই করে ডাকা হয়েছে পাঁচশজনের বেশি প্রতিযোগীকে। এই সংখ্যার মধ্যে থাকায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করলাম। শুধু অডিশন রাউন্ডের ধাপগুলো আত্মবিশ্বাস ও সাফল্যের সঙ্গে পেরোলেই বাজিমাত। বেশ কয়েকটি ধাপে এই বাছাই পর্বের গণ্ডি পেরোতে হবে। তার মধ্যে শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগীর বুদ্ধিমত্তা অন্যতম।

আজ যে ভিডিও ক্লিপগুলো অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ঘুরছে তা অডিশনের প্রধান ও বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষার অন্যতম চৌম্বক অংশ, যা বেশ আগেই ধারণকৃত। এর মধ্যে আমার ও ইফতেখার আহমেদ ফাহমি ভাইয়ের বেশ কিছু ক্লিপ নানাভাবে ব্যঙ্গাত্মক রূপে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এখানে বলে রাখা ভালো যে প্রতিযোগীদের অডিশন নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি জাজ প্যানেল ছিল, আমার অডিশন প্যানেলে ছিলেন নির্মাতা ফাহমি ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া।

অডিশন প্যানেলে দৃঢ়তা নিয়েই জাজদের মুখোমুখি হলাম। যতক্ষণ অডিশন দিলাম, পুরোটি সময় আমার দারুণ মজার কেটেছে। ফাহমি ভাইয়ের মজার মজার সব কাণ্ড ছিল আমাকে ঘাবড়ানোর জন্য। কিন্তু ঘাবড়ানোর পরিবর্তে আমি হেসে ফেলি, যা ভিডিওতে পুরো দেশবাসী দেখছে। সত্যিই অনেক দারুণ একটা অভিজ্ঞতা ছিল অডিশন রাউন্ডে। উপভোগ করেছি ফাহমি ভাই ও শবনম ফারিয়ার প্রশ্নগুলো। জাজদের নিয়ে একটুও নেতিবাচক কিছু মনে আসেনি।

অনেকেই অডিশন থেকে খালি হাতে ফেরত গেছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে দেখেছি ব্যর্থ হয়ে জাজদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে এবং তা সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিতে। এটা আফসোসের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তবে শঙ্কিত হয়ে পড়ি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় জাজদের বিচার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে।

আসলে পাঁচশ’র অধিক মানুষের বিচার করা এত সহজ কাজ নয়, যেখানে ‘মাসুদ রানা’ খোঁজা হচ্ছে। জাজদের আচরণ ও বিচার নিয়ে অনেকেই বলছেন, ভারতের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘এমটিভি রোডিস’কে নকল করতে গিয়ে তারা সবকিছু গুলিয়ে ফেলেছেন। তবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘রোডিস’ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে, যার সাথে ‘কে হবে মাসুদ রানার’ কোনো প্রকার মিল নেই।

অডিশনের অনেক অংশ সংক্ষেপে দেখানো হয়েছে, যা দেখে একটি অনুষ্ঠানের পুরোপুরি সমালোচনা করা ভুল হবে। এখানে জাজদের তেমন কোনো হাত নেই, তাদের অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে কিছুটা কঠিন মনোভাবের অধিকারী হতে হয়েছে। তবে জনগণের আলোচনা-সমালোচনার মুখে কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বন করবে।

অনেক স্বপ্ন নিয়েই গিয়েছিলাম, তবে আমার যাত্রা সেরা পনেরোর প্রথম এলিমিনেশন রাউন্ডে থেমে যায়। যা অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দেখা যায়। খালি হাতে ফেরাটা বরাবরই নিরাশার ও যন্ত্রণাদায়ক, তবে যে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো এই অনুষ্ঠানের মধ্যে পেয়েছি তা আমার সামনের দিনে পথচলার পাথেয়। আর রইল এখান থেকে নির্বাচিত হওয়াদের কথা, যারা এখনো নির্বাচন হয়নি। গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। তবে নির্ধারিত দিন-তারিখ এখনো জানানো হয়নি। এর মধ্যে চ্যানেল আই ও ইউনিলিভারের সঙ্গে জাজ মাল্টিমিডিয়ার অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। তাই রিয়্যালিটি শো নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তবে এখান থেকেই মাসুদ রানা নির্বাচিত করতে হবে- তা জাজ মাল্টিমিডিয়ার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। নির্বাচন করতে পারে, আবার নাও পারে। পুরো ব্যাপারটির জন্য সামনের দিকে নজর রাখতে হবে।

লেখক: মডেল