খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ|167120|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন রেললাইন সংলগ্ন খালে অবৈধভাবে বেড়া ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। বছরের পর বছর ধরে তারা অবৈধভাবে সেই খালে মাছ চাষাবাদ করছে। সেই খালে আগে স্থানীয়রা মাছ ধরতে পারলেও এখন তারা বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে সেখানে বাঁধ দেওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশ বাড়িতে ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, হিলি সীমান্তের ফকিরপাড়া থেকে শুরু করে স্টেশন ডাঙ্গাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রেললাইনের পূর্বপাশজুড়ে খাল বা উন্মুক্ত জলাশয় রয়েছে। প্রায় ৪-৫ গজ প্রস্থের এই খালটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। এসব খালের সাতকুড়ি, বড়চড়া, স্টেশন ডাঙ্গাপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়া ও বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে খাল বিভক্ত করে সেখানে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয় লোকজন প্রভাবশালীদের নাম বলতে চায়নি। তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাঙ্গাপাড়ার ফরিদুল ও কামরান নামে দুই ব্যক্তি একটি বড় খালে বেড়া দিয়ে সেখানে মাছ চাষ করছেন। ফরিদুল ও কামরান সরকারদলীয় স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

এলাকাবাসী নাজির হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে এই খাল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। আশপাশের মানুষজন সেখানে বড়শি বা জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। কেউ কোনো ধরনের বাধা দিত না। তারা বলেন, ‘হামার বাব দাদার আমল থেকেই খালটাত আশপাশের গাঁয়ের লোকজন ইচ্ছামতো মাছ মারছোলো। বছর পাঁচ-সাতেক থেকে শোনাচ্ছে, এটা লিজ নেওয়া হইছে। খালটা ভাগ ভাগ করে সেখানে তারা মাছ চাষ করছে। কেউ আর খালটাত নামতে পারে না। এই খালটাত আগে কালিবাউশ, শোল, টেংরা পুঁটি, মাগুরসহ দেশীয় প্রায় পনেরো থেকে বিশ প্রজাতির মাছ পাওয়া যাছিল।’

এলাকাবাসী রফিকুল ইসলাম ও বেলাল হোসেন জানান, রেললাইনের পাশে যে খাল রয়েছে সেই খালের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বেড়া ও বাঁধ দিয়ে রেখেছে। এতে করে সামান্য পানি হলেই আশপাশ বাড়িঘরসহ ও ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যার কারণে ফসলের ক্ষতি হয়।

লিজের দাবিদার কামরান হোসেন বলেন, ‘রেলওয়ের কাছ থেকে ১৫ শতকের খাল ইজারা নিয়ে সেখানে বৈধভাবে মাছ চাষ করছি।’ ইজারার শর্তে খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করার কথা বলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে সরেজমিন দেখা গেছে, কামরান যে খালটিতে মাছ চাষ করছেন সেটি এক বিঘারও ওপরে। তার ইজারার মেয়াদও শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। তার দেখানো কাগজে খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের কোনো শর্তও দেওয়া নেই।

অন্যদিকে অর্ধকিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ওপর একটি খালে বেড়া দিয়ে সেখানে মাছ চাষ করছেন ফরিদুল নামে অন্য একজন। এ বিষয়ে ফরিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ইজারার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

রেলওয়ের লালমনিরহাটের এস্টেট কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক জানান, গত পাঁচ বছর আগে রেলের খালগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মেয়াদ আছে কি না তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তবে খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের কোনো নিয়ম নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

হাকিমপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা সিদ্দিকা বলেন, সরেজমিনে সেখানে গিয়েছিলাম। দেখতে পেয়েছি সড়কের পাশের সেই জলাশয়ের পাঁচ-সাতটি স্থানে বেড়া দেওয়া রয়েছে। এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।