রানীকে মিথ্যা বলিনি|167278|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
রানীকে মিথ্যা বলিনি
দাবি বরিস জনসনের
প্রতিদিন ডেস্ক

রানীকে মিথ্যা বলিনি

নো ডিল ব্রেক্সিট (চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট) বাস্তবায়ন ও সেই উদ্দেশ্যে পার্লামেন্ট মুলতবি নিয়ে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রিটিশ সরকারেরই এক প্রাক-মূল্যায়ন নথিতে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট হলে সমুদ্রে পণ্য পরিবহন রুটে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি এই উদ্দেশ্য হাসিলে পার্লামেন্ট মুলতবির সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়েছে স্কটল্যান্ডের একটি আদালত। বলা হচ্ছে, এই ইস্যুতে রানীর অনুমোদন পেতে মিথ্যা বলেছেন বরিস জনসন। তবে জনসনের দাবি, তিনি রানীর কাছে কোনো ধরনের মিথ্যা বলেননি।

বুধবারের স্কটল্যান্ডের আদালতটির রায়ের পরেই জনসন সাংবাদিকদের সামনে এমন দাবি করেন। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, পার্লামেন্ট মুলতবি করতে রানীর অনুমোদন নিতে তিনি তাকে কোনো মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন কি না? জবাবে জনসন বলেন, অবশ্যই না। জনসন বলেন, স্কটিশ আদলত যে রায় দিয়েছে তা নিয়ে আমি বিচারকের সঙ্গে ঝগড়া করতে যাব না। তারা স্বাধীনভাবে মতামত দিয়েছেন। তবে বিশ্ব জানে আমাদের বিচারকরা কতটা দক্ষ ও স্বাধীন। আমাদের হাইকোর্ট পার্লামেন্ট মুলতবির পক্ষেই আছে। তবে প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

তিনি বলেন, পার্লামেন্ট মুলতবি করার জন্য রানীর একটি মতামত প্রয়োজন ছিল। দেশের মঙ্গলের জন্যই সেটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে করা হয়েছে।

তার মতে, সরকার অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত পার্লামেন্ট মুলতবি করেছে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই। এ জন্য রানীর কাছে কোনো মিথ্যা বলার প্রয়োজন হয়নি। তিনি দাবি করেন, এই সময়ের মধ্যে তার সরকার একটি নতুন আইনি এজেন্ডা নিয়ে কাজ করবে।

তবে সমালোচকদের ভাষ্য, পার্লামেন্টে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই জনসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অক্টোবরের ৩১ তারিখ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়া নিয়ে বিরোধীরা যাতে কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে না পারে সে জন্যই রানীকে ভুল তথ্য দিয়ে পার্লামেন্ট মুলতবির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে পার্লামেন্টের ৭৮ জন আইনপ্রণেতা সম্মিলিতভাবে জনসনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের নিম্ন আদালত ওই মামলাটি প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু গত বুধবার মামলাটি ফের স্কটল্যান্ডের সুপ্রিম সিভিল আদালতে তোলা হয়।

আদালত জানায়, পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবিতে রানীর অনুমোদন চাওয়া একটি অসাংবিধানিক প্রক্রিয়া। কারণ এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টকে কোণঠাসা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে এ নিয়ে আমরা আপিল করব। ব্রিটিশ সরকারকে তার নিজস্ব আইনি এজেন্ডা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবির প্রক্রিয়া বৈধ এবং প্রয়োজনীয়।’ তিনি জানিয়েছেন, আদালতে মামলার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত পার্লামেন্টের কোনো কার্যক্রম চলবে না।