ঘাটতি ৮ হাজার কোটি টাকা|168123|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
অর্থবছরের প্রথম মাসে বৈদেশিক বাণিজ্য
ঘাটতি ৮ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘাটতি ৮ হাজার কোটি টাকা

আমদানি বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়ছে না রপ্তানি আয়। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বহির্বিশ্বের সঙ্গে পণ্যবাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (বিনিময় হার ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা) প্রায় ৮ হাজার ২৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে ইপিজেডসহ রপ্তানি খাতে আয় হয়েছে ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই হিসাবে জুলাই শেষে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় ঘাটতি ছিল ১১৬ কোটি ডলারের। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ঘাটতি কিছুটা কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় বড় প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি করে জোগান দিতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়লেও সেই হারে রপ্তানি থেকে আয় না হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা গত বছর ঋণাত্মক ছিল। জুলাইয়ে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ঋণাত্মক ছিল ১৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে ঋণ নিয়ে সরকারকে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসেবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো।

জুলাইয়ে সেবা খাতে বেতন-ভাতা বাবদ বিদেশিদের পরিশোধ করা হয়েছে ৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর বাংলাদেশ এ খাতে আয় করেছে ৬৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। এ হিসাবে সেবা বাণিজ্যে দেশে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ১৯  কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এ সময় রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।  রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী জুলাইয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৩৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর মধ্যে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ২১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের চেয়ে এফডিআই বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও নিট ৭ শতাংশ। এদিকে এ সময় এফডিআই বাড়লেও পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ অনেক কমেছে। অর্থবছরের প্রথম মাসে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৭০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।