বাংলাদেশ আলাদা না হয়ে গেলে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতো|168827|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:৩২
বাংলাদেশ আলাদা না হয়ে গেলে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতো

বাংলাদেশ আলাদা না হয়ে গেলে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতো

বাংলা ভাষার জনপ্রিয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর ময়মনসিংহে। দেশভাগের সময় শীর্ষেন্দুর দশ বছর বয়সে ময়মনসিংহ থেকে কলকাতায় চলে যায় তার পরিবার। বাবার রেলের চাকরিসূত্রে বিহার ও আসামের নানা স্থানে তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়েছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কাজ করেছেন আনন্দবাজার ও দেশ পত্রিকায়। পার্থিব, মানবজমিন, পারাপার, দুরবীনসহ তার উপন্যাসগুলো পাঠকদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গোয়েন্দা উপন্যাস ও শিশুসাহিত্যেও তিনি সমান সমাদৃত। তিরাশি বছর বয়সী এই লেখক সম্প্রতি ঢাকা এসেছিলেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহবুব মোর্শেদ

দেশ রূপান্তর : আপনার আধ্যাত্মিক দিকটা অনেক সময় কৌতূহল তৈরি করে। বাংলা সাহিত্যের সাহিত্যিকদের দেখে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে, লেখক হবেন একজন ধর্মহীন ব্যক্তি। কমলকুমারের মধ্যে আধ্যাত্মিক দিকটা ছিল, বঙ্কিমের মধ্যে ছিল। কিন্তু পরে আমরা দেখলাম অধিকাংশ লেখকই আধ্যাত্মিকতা থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ব্যক্তিসত্তার চর্চা করেছেন। কিন্তু আপনাকে দেখছি আবার ধর্মের কাছে ফিরে গেলেন।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : হয়তো বা ব্যক্তিগত ক্রাইসিস থেকেই আমি এখানে পৌঁছেছি। আমি একসময় নাস্তিক ছিলাম। ছেলেবেলায় আবার আমি আস্তিক ছিলাম। মা আমার রামকৃষ্ণ মিশনে দীক্ষিতা ছিলেন। সারদা দেবী গৌরী মার একেবারে সাক্ষাৎ শিষ্যা ছিলেন। সে কারণে ধর্মের একটা পাঠ ছেলেবেলায় হয়েছিল। পরবর্তীকালে আমি যখন পড়তে শুরু করলাম তখন একেবারেই আমার ধর্মবিশ্বাস চলে গেল। খুব নাস্তিক ছিলাম, ভয়ংকর। পরে আবার একটা সংকট তৈরি হলো আমার জীবনে। অস্তিত্বের সংকট। তখন আবার আমি ঠাকুরের কাছে গেলাম। অনুকূল ঠাকুর ধর্ম ব্যাপারটাকে এত ইউনিভার্সালভাবে দেখেন। কোনো ধর্মই যে আসলে ধর্ম নয় একটাই ধর্ম মানুষের, তার কাছে গিয়ে বুঝলাম। সোজা কথা হচ্ছে, জীবনযাপনের যে কতগুলো নিয়মকানুন আছে সেগুলো মেনে জীবনযাপন করাটাই হচ্ছে ধর্ম। এটা সন্ধ্যার ধর্ম নয়, সকালের ধর্ম নয়, বিকেলের ধর্ম নয়, প্রার্থনার সময়ের ধর্ম নয়, মেডিটেশনের সময়ের ধর্ম নয়। সব সময়ের শোয়া বসা খাওয়া এমনকি স্ত্রীর সঙ্গে বাক্যালাপ থেকে শুরু করে সব কিছুই ধর্মের অন্তর্গত। একটা ওয়ে অফ লাইফ। এই লাইফ নিখুঁতভাবে একটা মানুষকে তার গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়। গন্তব্য কোনটা সেটা উহ্য থাকে। গন্তব্যটা একটা অসীম যাত্রাপথে এই পরম্পরা, জন্ম যে একজন্মে শেষ নয় এটা ঠাকুর আমাকে বারবার বুঝিয়েছেন। স্মৃতিবাহিত হতে পারলে তার আর মৃত্যু নেই, অন্তহীন যাত্রা। এভাবে আমি ঠাকুরের কাছে শিখেছি। ঠাকুর হিন্দুধর্ম বলতেনও না। বলতেন আর্যধর্ম। তার কাছে গিয়ে আমি বুঝতে পারলাম হোয়াট ইজ লাইফ এবং হোয়াট ইজ রিলিজিওন। এটাকে আমি আমার জীবনের একটা মোটো হিসেবে গ্রহণ করেছি। আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমি মনে করি, এভাবে আমার জীবন তৈরি হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : আপনি লেখার জীবনের সঙ্গে এই স্পিরিচুয়াল জীবনের কোনো সংঘর্ষ কখনো অনুভব করেছেন কি না।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : না, করিনি। আমি একটা জিনিস মনে করি, আমি যদি প্রচারকের ভূমিকা নিই তাহলে আমি ভুল করব। সেক্ষেত্রে শিল্পটা মার খেয়ে যাবে। কমিউনিস্টরা অনেক সময় কমিউনিস্টদের মতো করে প্রচার করে গল্প-উপন্যাস লিখেছেন। তাতে শিল্প কিছু হয়নি। কমিউনিস্ট নেতারাই বলেন, আবর্জনা তৈরি করেছি আমরা। ওভাবে হয় না, আত্মীকরণ না হলে, ভেতর থেকে ব্যাপারটা না এলে হয় না। ঘুটে দেওয়ার মতো হয়, ঘুটে দিলাম দেয়ালে দাগ পড়ে গেল সে রকম হয়। প্রচারধর্মী কিছু হলে মুশকিল। আত্মীকরণ যদি হয় ভেতর থেকে যদি উঠে আসে তবে সেটা হয়, যেমন সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা। রাজনৈতিক কবিতা কিন্তু অসম্ভব সুুন্দর। সুুকান্ত ভট্টাচার্য অল্প বয়সে মারা গেছেন কিন্তু ওই বয়সেই তার ভেতরে একটা জিল ছিল, তা না হলে রানারের মতো কবিতা লিখতে পারতেন না। ফলে, আত্মীকরণ দরকার। প্রচারকের ভূমিকা আমি নিইনি। আমার লেখার ভেতর দিয়ে সেটা প্রকাশ পায়। জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

দেশ রূপান্তর : আপনার লেখাগুলোতে এক ধরনের রহস্যময়তা পাওয়া যায়, একটা ওপেন এন্ডেড ব্যাপার থাকে। সেটা ছোটদের জন্য হোক কি বড়দের জন্য। কোথাও গিয়ে একটা রহস্যময়তা তৈরি হয়, যা খুবই ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা দেয়। এটা হয়তো আপনার স্পিরিচুয়ালিটি থেকে আসে।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : লাইফ ইজ অ্যা স্প্লেন্ডার্ড থিং। জীবনকে একবজ্ঞা দেখতে নেই। জীবনের অনেক রকমের মাত্রা আছে। অনেক রকমের পর্যায় আছে, অনেক রকমের তরঙ্গ আছে। সে মানুষ বুঝতে পারে না। বুঝতে পারে না বলেই একবজ্ঞা লেখে। ধরো, আমি একটা রিয়েলিস্টিক লেখা লিখলাম। লিখব না কেন? রিয়েলিটি তো আছেই, কিন্তু এই রিয়েলিটির সঙ্গে রিয়েলিটির অতিরিক্ত কিছু আছে। সেইটে সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনাতে ধরা পড়ে না। আমি মনে করি, এটা এক্সপ্লোর করার একটা জায়গা আছে। সামথিং বিয়ন্ড আস, আমাদের পারসেপশনের বাইরেও কিছু আছে। সেজন্য আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার আনি সে ব্যাপারগুলো।

দেশ রূপান্তর : আপনি একজন লেখক, একজন ঔপন্যাসিক। বয়স তিরাশি বছর হয়ে গেছে। একেবারে ত্রিকালদর্শী একজন মানুষ আপনি। এখন আমরা আবার দেখছি, উপমহাদেশে ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতি জেগে উঠছে। সম্প্রতি বিবিসিতে আপনি আসাম নিয়ে কথা বলেছেন। আসামে আপনি ছিলেনও একসময়, বিহারেও ছিলেন। দেশভাগের সময় ময়মনসিংহ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন সে অভিজ্ঞতা খুবই কষ্টকর। এখন ভারতে যে প্রেক্ষাপট তৈরি হলো তা আপনার মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : আমার দেশ হারিয়ে গেছে, আইডেন্টিটি হারিয়ে গেছে আমি আর সে দেশের লোক নই। এটা ভাবতে আমার কষ্ট হয়। এখনো আমি ও আমার স্ত্রী বাড়িতে ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলি। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে পূর্ববঙ্গের ভাষায় কথা বলি, ওরা বাঙ্গাল কথা বলে না। দেশের প্রতি আমাদের যে আকর্ষণ, ট্র্যাডিশন বা টান সেটা রয়ে গেছে। দেশে সেভাবে আসা হয় না। অতিথি হিসেবে আসতে হয়। হোম হিসেবে আসতে পারি না। কিন্তু এটাকে মেনে নিতে হবে, কেননা এদেশে যতদিন ছিলাম তার চেয়ে বেশি সময় ওদেশে আছি। ওই দেশটাকে আপন করে নিতে হয়েছে। দেশভাগ তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। উদ্বাস্তুদের যে দুর্দশা হয়েছিল তখন, যে বিপুল দুর্দশা, সেটা ভাবা যায় না। কিছু রাজনীতিকের অঙ্গুলিহেলনে আমাদের সব ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেল। এটা ট্র্যাজিক।

দেশ রূপান্তর : এখন আসামে বাঙালিদের বিরুদ্ধে যেটা চলছে...
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : একই জিনিস। ওরা তো দেশ বলেই মনে করে সে জায়গাটাকে। কাছাড় অঞ্চল তো বাঙালি অধ্যুষিত, অসমিয়াদের অস্তিত্ব নেই। এরা কীভাবে কী চাইছে বুঝতে পারছি না। ওরা ভয় পাচ্ছে যে, আসামে অসমিয়ারা সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। এই আপসার্জটা দেশভাগের ফল। যেহেতু বাংলাদেশ টু মাচ ক্রাউডেড। লোক বাড়লেই তো শুধু হবে না, তার একটা অবলম্বন থাকা দরকার, অবলম্বন নেই যেখানে সেখান থেকে মানুষ চলে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা কিছু কিছু ঢুকে পড়েছে। সবাইকে তাড়াব, এটা তো সম্ভব নয়। লাঠিপেটা করে তাড়ালে ব্যাপারটা অন্যরকম হয়ে যাবে না? আপসার্জ হবে, মারদাঙ্গা-রক্তপাত হবে। এটা কাম্য নয়। আসামে যেটা হচ্ছে সেটা খুব বিপজ্জনক। আমার মনে হয় না, এতগুলো লোককে দেশছাড়া করা সোজা ব্যাপার।

দেশ রূপান্তর : পশ্চিমবঙ্গে কি এর বিরুদ্ধে যথেষ্ট ঐক্য তৈরি হয়েছে?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় :  পশ্চিমবঙ্গে যথেষ্ট অনুপ্রবেশ ঘটেছে। কলকাতা শহরটা এখন অনুপ্রবেশকারীতে ভর্তি হয়ে গেছে। এত লোক ঢুকে গেছে কলকাতা শহরে। বিভিন্ন জায়গায় পকেট আছে, সে পকেটে ঢুকে যায়। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। বিরাট বড় ব্যবসা করছে। এটা হচ্ছে মার্কেট উইদিন মার্কেট। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শাসকরা বলছে আমরা তাড়াব না। হয়তো ভোটব্যাংকের দিকে তাকিয়ে বলছে। কিন্তু এটা ইকোনমিকে ধাক্কা দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ইকোনমি তো জোরালো নয়, এত লোকের অনুপ্রবেশ ও ভাগবাটোয়ারার ফলে টলমল হয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি। কিন্তু কিছু করার নেই। হয়তো কিছু তাড়াবে, কিছু ধরছে। তা সত্ত্বেও সবাইকে তাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

দেশ রূপান্তর : আপনার কাছে কি মনে হয় পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা একটা প্রান্তিক জায়গায় পৌঁছে যাবে?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : বাংলা হচ্ছে ভারতবর্ষের সেকেন্ড লারজেস্ট ল্যাঙ্গুয়েজ। হিন্দি ভাষার পরেই বাংলা। বাংলাদেশ যদি আমাদের সঙ্গে থাকত তবে হিন্দির চেয়ে আমরা বেশি হতাম। বাংলাদেশ যদি আলাদা না হয়ে যেত তবে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতো। এত বাঙালি। বঙ্গভঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা বাংলা। সুতরাং, বাংলা উঠে যাবে বলে আমার মনে হয় না। দ্বিতীয়ত, বাংলা ভাষা খুব থ্রেটেন্ড বলে যে কথা বলা হয় এখন পর্যন্ত তার সুদূর সম্ভাবনা দেখছি না। আমি আমেরিকায় জ্যাকসন হাইটসে দেখেছি, বাঙালিরা সেখানে বসবাস করছে। সেখানে বাংলার দাপট কী! সেখানে সাইনবোর্ড সব বাংলায়, বাংলায় কথাবার্তা বলে। ইংরেজির ধারও ধারে না।

দেশ রূপান্তর : আশি বছর পেরিয়ে উপমহাদেশের পরিস্থিতি দেখে আপনার কী মনে হচ্ছে?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : সংকটের পর সংকট বাড়ছে। আইডেন্টিটির প্রশ্ন উঠছে, আমরা বিপন্ন বোধ করছি। সভ্যতার সংকট বাড়ছে। সভ্যতা জিনিসটাই এখন আমাদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত বেশি সভ্য হবে মানুষ, তত বেশি ভোগ্যপণ্য বাড়াবে, অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাড়াবে। এখন একটা বাড়িতে তিনটে চারটে টিভি। আমার বাড়িতে তিনটে টিভি। সমাজ বিজ্ঞানীরা এখন ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স রাখার জন্য বলছে, গো ব্যাক টু জয়েন্ট ফ্যামিলি। তার কারণ হচ্ছে, এক উনুনে দশজনের রান্না হবে। একটা উনুন জ্বলবে। যেন পাঁচটা উনুন না জ্বলে। পাঁচটা উনুন পৃথিবীর উষ্ণায়নে সাহায্য করবে। ছেলে যখন মা-বাবাকে ছেড়ে আলাদা ঘরে যাচ্ছে তখন ফ্ল্যাট বাড়ছে। নগরায়ণ বাড়ছে। কৃষিজমিতে হাত পড়ে যাচ্ছে। বন-জঙ্গল উজাড় হচ্ছে। আমাজনকে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন? এটা ন্যাচারাল ফায়ার নয়। এটা ইচ্ছা করে লাগানো হয়েছে। কেননা আমাজনের ওপর অনেকের নজর পড়েছে। কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা হবে সেখানে। কিন্তু এটা হচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস। বলা হয় ২০% অক্সিজেন আমাজন থেকে আসে। সেটাকে এরা মানছে না। আমাদের ডোনাল্ড ট্রাম্প, তিনি মানছেন না যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে একটা কিছু আছে। ওয়েদার ও ক্লাইমেটের পার্থক্য আছে এটা তিনি বোঝেন না। অনেক কিছুই এখন ব্যাকফায়ার করছে। যেখানে এগিয়ে যাওয়ার কথা সেখানে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। পৃথিবীর উষ্ণায়ন বন্ধ করার জন্য যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে তার মাথায় জল ঢেলে দিচ্ছে কিছু লোক। ভয়ংকর পরিস্থিতি।

দেশ রূপান্তর : আপনি তো এদেশ ছেড়ে গিয়েছেন। পরে নানা সময়ে এসেছেন। আপনার চোখে বাংলাদেশের রূপান্তরটা কেমন?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : বাংলাদেশের রূপান্তর যদি বলি তবে পশ্চিমবঙ্গের কথা আসবে। পশ্চিমবঙ্গে এত লোক ফ্যামিলি প্ল্যানিং বা বার্থ কন্ট্রোল জিনিসটা আমাদের দেশে হলো না। ভয়ে হলো না। পলিটিশিয়ানরা ভয় পায়, এটা যদি চাপাতে চাই তবে আমার ভোট চলে যাবে। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে একবার হয়েছিল। কিন্তু তাতে এমন প্রতিবাদ হয়েছিল যে গদিই চলে গেল। এখানে ফ্যামিলি প্ল্যানিং নিয়ে কথাবার্তা কেউ বলে না। বলা উচিত। এটা প্রায়োরিটি। জনসংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। তা না হলে সম্পদের বণ্টন  হবে না। টলমল টলমল করবে। আজ ভারত সুইডেনের মতো অর্থনৈতিক গ্রোথের জায়গায় চলে যেতে পারত। যদি এর জনসংখ্যা কম থাকত। জনসংখ্যা কন্ট্রোলে নেই বলে সারপ্লাস কিছু থাকছে না। ইংল্যান্ডে কটা লোক, আমেরিকায় কটা লোক? ওরা তো জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার বাংলাদেশি ওখানে চলে গেছে। এখন আমাদের এটাই সমস্যা। জনসমষ্টির সমস্যাই প্রধান সমস্যা। বাংলাদেশ তো একটা উন্নতি করেছে। জিডিপি বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে রিসোর্সেস কম। বাংলাদেশে গ্যাস ছাড়া আর তো তেমন কোনো খনিজ নেই। জাপানের মতো অবস্থা। জাপানে মাটির তলায় কিছুই নেই। কিন্তু জাপান ভীষণ প্রসপারাস। জাপানের মতো যদি আমরা এগোতে পারতাম তাহলে খুব ভালো হতো। কিন্তু সে বুদ্ধি তো আমাদের নেই। বাংলাদেশের আলাদা একটা আইডেন্টিটি তৈরি হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। তার সাহিত্য, তার শিল্প সব কিছুতে।