শিক্ষার্থীদের অনশন অব্যাহত, অসুস্থ ১|169003|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
বশেমুরবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ দাবি
শিক্ষার্থীদের অনশন অব্যাহত, অসুস্থ ১
বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি

শিক্ষার্থীদের অনশন অব্যাহত, অসুস্থ ১

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে অনশন অব্যাহত রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ‘আমাদের এক দফা এক দাবি’ ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অনশনে থাকা ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুরাদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে গত বুধবার রাত থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা আমরণ অনশনের ডাক দেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন-আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।স্লোগানে স্লোগানে তারা বলছেন, তাদের এক দফা, এক দাবি ভিসির পদত্যাগ। অনশনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মভূমিতে তার নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কোনো দুর্নীতিবাজকে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চাই না। নিয়োগ-দুর্নীতি, ভর্তি-দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন কারণে আমরা তার পদত্যাগ চাই।’

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আন্দোলন বন্ধের জন্য ভিসিপন্থি একদল শিক্ষার্থী হুমকির পাশাপাশি একাধিকবার তাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে।

ফেইসবুকে মন্তব্যের জেরে ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে বহিষ্কারের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। ডেইলি সান পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জিনিয়াকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে গত বুধবার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের ১৪ দফা দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণাও দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ওই রাতেই আন্দোলনে নামেন।

এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন ও হলগুলোর দেয়াল ‘ভিসির পদত্যাগ দাবি’সংবলিত লেখায় ছেয়ে গেছে। কোথাও লেখা হয়েছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের কবিতা ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে’, কোথাও ভিসি বা ভিসির মদদপুষ্ট শিক্ষার্থীদের ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এ লেখনীগুলো। তাদের ‘এক দফা এক দাবি কুলাঙ্গার’ ভিসির পদত্যাগ।