রাঘব বোয়াল ও গডফাদারদের ছাড় নয় : কাদের|169017|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
রাঘব বোয়াল ও গডফাদারদের ছাড় নয় : কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঘব বোয়াল ও গডফাদারদের ছাড় নয় : কাদের

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন যত বড় রাঘব বোয়াল, গডফাদারই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী, সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই অগ্রসর হচ্ছেন। অনেকে বলতে পারেন যে, সরকার আসার পর তো ৮ মাস সময় গেল। কাজের প্রথম দিকেই তো অ্যাকশনটা শুরু হয়ে গেছে। এখানে ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রশ্ন নয়, আওয়ামী লীগেও এসব অপকর্ম যদি কেউ করে সেটাও খোঁজখবর তিনি নিচ্ছেন। দুর্নীতি, অপকর্ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ এসবের জন্য কিন্তু অনেকেই নজরদারিতে আছে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুধু ঢাকার নেতাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা রাজধানীকেন্দ্রিক এটা ঠিক নয়, সারা দেশে যেখানেই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়ম হবে, শৃঙ্খলাভঙ্গ হবে সর্বত্রই একই নিয়মে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকর হবে। এখন যুবলীগ-ছাত্রলীগ বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ছাত্রলীগের দুইজনকে অব্যাহতি দেওয়া, যুবলীগের একজনকে গ্রেপ্তার করা, ক্যাসিনোকেন্দ্রিক যে অভিযান এটা ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ আর যুবলীগের বিরুদ্ধে নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগে বহু ত্যাগী নেতাকর্মী আছে, তারা অনেক ভালো কাজও করছে। এখানে দুর্নীতি, অনিময়, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত, যাদের আচরণে পার্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, ঠিক তাদের বিরুদ্ধেই কেস টু কেস খোঁজখবর নিয়ে অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে, আগেও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকও অনেকের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে শুরু করেছে। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে কারও কারও বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে, কারও কারও কনভিকশনও হয়ে গেছে। কাজেই এটা যে প্রথম সরকার এই শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে, তা তো নয়। শেখ হাসিনার সরকার প্রথম থেকেই জিরো টলারেন্স নিয়েই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে একই মনোভাব প্রদর্শন করছে। এটা শুধু মুখের কথা নয়, আমরা অ্যাকশনেই দেখাচ্ছি।

নিজ দলের লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ঘটনা বিএনপিতে নেই দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অতীতে বিএনপির মতো বড় দল ক্ষমতায় ছিল, কোনো উদাহরণ নেই। তাদের দলের কোনো অপকর্ম, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন এসব নিয়ে তারা কোনো অ্যাকশনে যায়নি। আজকে বর্তমান সরকারের এটা সবচেয়ে ভালো দিক। তিনি বলেন, এই অ্যাকশনের কারণে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে অনেক বেড়ে গেছে। আপনারা সাংবাদিকরা এটা ভালোই বুঝতে পারেন। কিন্তু বিএনপি হয়তো বিষোদগার করছে, কিন্তু তারা যে ব্যবস্থা নিতে পারেনি, আওয়ামী লীগ সেই অ্যাকশন নিতে শুরু করেছে, বেগম জিয়া যা পারেননি, সেটা শেখ হাসিনা করছেন। তিনি অপকর্মের ব্যাপারে নিজের দলের লোককেও ছাড় দিচ্ছেন না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, বাংলাদেশে একটা উজ্জ্বল উদাহরণ, এটা অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি, এর ফলে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়বে। আওয়ামী লীগেরও ভাবমূর্তি বাড়বে। শুধু যুবলীগ-ছাত্রলীগ নয়, আওয়ামী লীগেও যারা এসব কাজ করছে, তাদেরও মনে রাখা উচিত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছে আওয়ামী লীগ বিএনপির এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছে বিএনপি। তাদের সময় এই ক্যাসিনোগুলো ছিল। সেই ক্যাসিনোগুলোর ব্যাপারে অ্যাকশন তো নেওয়া হচ্ছে। সরকারের প্রথম বছরেই কিন্তু অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। সময় তো এখন ফুরিয়ে যায়নি। এমন তো নয় যে, ইলেকশনকে সামনে রেখে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের তো প্রথম ৮-৯ মাসেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির সময়ও তো এই ক্যাসিনোগুলো ছিল, তখন তো তারা কোনো অ্যাকশন নেয়নি। বিএনপি যা করতে পারেনি, সেটা আওয়ামী লীগ সরকার করছে। এতে সরকার ও আমাদের দলের ভাবমূর্তি বাড়ছে এবং সেটাই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ।

এতদিন প্রশাসন থেকে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, কেউ মদদ দিয়ে থাকলে কিংবা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকলে পুলিশ কমিশনার বলেছেন, পুলিশের মধ্যেও যদি কেউ এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে পুলিশও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তাদেরও পরিকল্পনা আছে। কোনো গডফাদারেরই রেহাই পাওয়ার কোনো কারণ নেই। যেই হোক তার পরিচয় গডফাদার হলেও তার রেহাই নেই। তিনি বলেন, গুটিকয়েক মানুষের জন্য গোটা পার্টি তো বদনামের ভাগীদার হবে না। এসব অপকর্ম করছে গুটিকয়েক লোক। তারা ছাত্রলীগের, যুবলীগরে কিংবা আওয়ামী লীগের হোক গুটিকয়েক লোক, যারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে অপকর্ম করে। যাতে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অনেকেই নীরবে হয়তো অনেক কিছু হজম করছে। কিন্তু এই অ্যাকশনটা হওয়ার পর সারা দেশে সাধারণ মানুষ খুব খুশি। যারা এমন কর্মকান্ড করবে, সতর্ক হবে না, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের এমন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় আওয়ামী লীগ বিব্রত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউ আর ভেরি হ্যাপি। আমাদের সরকার প্রধানের ওপর আমরা খুব খুশি। তিনিই অ্যাকশন নিতে পারেন, কাজেই সরকার প্রধানের ইমেজ বাড়লে আমাদের পার্টিরও ইমেজ বাড়বে। 

বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এটাকে বিচ্ছিন্ন বক্তব্য বলে মেনে নিতে পারছি না। কারণ বিএনপি নেতারা অতীতেও আমাদের নেত্রীকে হত্যা করা হবে, সরিয়ে দেওয়া হবে, বঙ্গবন্ধু যেই পথে গেছেন, শেখ হাসিনাও সেই পথে যাবেন, এ ধরনের বক্তব্য তারেক জিয়া থেকে বিএনপির অনেক নেতাই বিভিন্ন সময় দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, কার্যনির্বাহী সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।