logo
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে বড় বাধা স্থানীয় সাংসদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে বড় বাধা স্থানীয় সাংসদ

ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে স্থানীয় এমপিদের বিরোধিতা ও অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তিনি এই অভিযোগ করেন।

কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আলী আজগার, নূরুল ইসলাম তালুকদার, আছলাম হোসেন সওদাগর, খালেদা খানম ও বেগম নার্গিস রহমান।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক সদস্য জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিষয়ে মন্ত্রী কমিটিকে বলেন, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। সেগুলো বিচ্ছিন্ন করতে গেলে স্থানীয় এমপিরা প্রভাব খাটায়। তাদের লোকজন বাধা দেয়। এতে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। জবাবে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাধা থাকবেই। কিন্তু অবৈধ সংযোগ যেকোনো মূল্যে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এ ড়্গেত্রে কোনো প্রকার চাপ আমলে নেওয়া চলবে না। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কমিটি বলেছে, এমপির পক্ষ থেকেই হোক বা অন্য কোনো রাজনৈতিক চাপই হোক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ চিহ্নিত করতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে গ্যাসের সিস্টেম লসের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনার পাশাপাশি সিস্টেম লসের স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে দিতেও মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নিতে বলেছে কমিটি।

বৈঠকে ২০২০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ এবং ৯৬ ভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে পেট্রোবাংলার গ্যাস বিপণন কোম্পানিগুলোর বিদ্যমান সিস্টেম লস কমাতে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা হয়। এ সময় সিস্টেম লস সামগ্রিকভাবে না দেখিয়ে আলাদাভাবে দেখানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, সরকারি মালিকানাধীন ছয়টি গ্যাস কোম্পানির মধ্যে চারটি কোম্পানি এই বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ৯৩৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এ সময় ৩০৭ কিলোমিটার গ্যাসলাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। গ্যাসলাইনের পুরোটাই ছিল আবাসিক খাতের। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগেরও প্রায় সিংহভাগ আবাসিক খাতের। আবাসিকের ৯৭ হাজার ৮৩টি চুলা এ সময় বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাকিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক খাতের ২০২টি, শিল্প খাতের ৮৭টি, সিএনজি ২২টি এবং ক্যাপটিভ সংযোগ ৪১টি।

বৈঠকে  অগভীর ও গভীর সমুদ্রসহ দেশে তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য খনিজসম্পদের অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি  নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কমিটি দেশের সব জায়গায় সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি  অফশোর গ্যাস আহরণে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে বলে। বৈঠকে সারা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।