বাড়েনি হোল্ডিং ট্যাক্স, ভাড়া বেড়েছে ৩ গুণ|172046|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
বাড়েনি হোল্ডিং ট্যাক্স, ভাড়া বেড়েছে ৩ গুণ
ফখরুল ইসলাম, সিলেট

বাড়েনি হোল্ডিং ট্যাক্স, ভাড়া বেড়েছে ৩ গুণ

বেসরকারি চাকরিজীবী আহমেদ কবিরের সাকল্যে মাসিক আয় ২০ হাজার টাকা। স্কুলপড়–য়া দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় একটি দ্বিতল ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকেন তিনি। দুই বেডরুমের এই বাসাটির জন্য মাসিক ভাড়া গুনতে হয় ৯ হাজার টাকা। ১০-১২ বছর আগে এই বাসার মাসিক ভাড়া ছিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা। গত এক যুগে বাসা ভাড়া বেড়ে প্রায় তিনগুণ হলেও বাড়ির মালিকের হোল্ডিং ট্যাক্স (সিটি করপোরেশনকে দেওয়া কর) বাড়েনি এক টাকাও। তিনি এক যুগ আগে

নির্ধারিত হারেই কর দিয়ে যাচ্ছেন। সিটি করপোরেশন গত প্রায় ১৩ বছরেও হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ না করায় এ সুযোগ ভোগ করছেন তিনি। শুধু এই বাড়িটির মালিক একাই নন, সিলেট মহানগরীর প্রায় ৫৬ হাজার হোল্ডিং নম্বরের সব মালিকই একইরকম সুবিধাভোগী। অথচ সিলেট মহানগরীতে প্রতি বছরই বাসা ভাড়া বাড়ছে লাগামহীনভাবে। কিন্তু এ বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্ধনশীল একটি নগরী হিসেবে চাকরি ও ও ব্যবসাসহ নানা পেশার মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটে বাসার মালিকরা ভাড়া বাড়াচ্ছেন তাদের খেয়ালখুশি মতো। কিন্তু অন্যদিকে আবার এক যুগ আগে নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্সও দিচ্ছেন না অসংখ্য বাসার মালিক। ফলে হোল্ডিং ট্যাক্সের বকেয়ার পাহাড় জমেছে। বর্তমানে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্সের পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

এ পরিস্থিতিতে প্রায় ১৩ বছর পর অবশেষে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। অথচ পাঁচ বছর পরপরই এটা পুনর্নির্ধারিত হওয়ার কথা। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নের জন্য জরিপ কাজ শুরু হয়েছে। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ইতিমধ্যে ১১টি ওয়ার্ডে কাজ শেষ হয়েছে এবং আরও ১০টি ওয়ার্ডে কাজ চলছে। সব ওয়ার্ডের জরিপ শেষে এ ব্যাপারে বাসা মালিকদের আপত্তি এলে তা রিভিউ বোর্ড গঠন করে নিষ্পত্তি করা হবে। এরপরই কার্যকর হবে নতুন হারের হোল্ডিং ট্যাক্স।

গত আগস্ট মাসে ঘোষিত সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে হোল্ডিং ট্যাক্স খাতে করপোরেশনের আয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে করপোরেশনের প্রধান জরিপ কর্মকর্তা চন্দন দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে সিটি করপোরেশনের মোট হোল্ডিং সংখ্যা ৫৬ হাজার ৭৫। এর মধ্যে সরকারি হোল্ডিংয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫টি। বাকিগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নের জন্য বর্তমানে যে জরিপ কার্যক্রম চলছে, তাতে আবাসিকের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুট পাকা ভবনের মাসিক ভাড়া ৫ টাকা ও টিনশেডের বাসার প্রতি বর্গফুট ৩ টাকা এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে (কমার্শিয়াল স্পেস) প্রতি বর্গফুট ৮ টাকা ধরা হচ্ছে। এই হিসাবে ভাড়া নির্ধারণ করে এর ২০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স ধরা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৩ বছর ধরে নগরীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ যে অঙ্কের অর্থ নির্ধারণ করা আছে তা পুরোপুরি অনুমাননির্ভর। অর্থাৎ একটি বাসার ভাড়া আনুমানিক কত হতে পারে সেটা ধরে নিয়েই হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত বাসার মালিক যত ভাড়া বলেছেন সেটা ধরে নিয়েই হোল্ডিং ট্যাক্স বসানো হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম বর্গফুট হিসাব করে এবং প্রতি বর্গফুটের নির্ধারিত রেট ধরেই ট্যাক্স নির্ধারণ করা হচ্ছে।’

নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১৩ বছরেও হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয়ের অন্যতম বড় খাত হলো এই হোল্ডিং ট্যাক্স। কিন্তু অতীতে ভোটের রাজনীতির জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ ও আদায় নিয়ে সিটি কর্র্তৃপক্ষ উদাসীন ছিল। এ কারণে বকেয়ার পাহাড় জমেছে। এই বকেয়া আদায় নিয়ে করদাতা ও সিটি করপোরেশন দুপক্ষকেই এখন নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।’

হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়লেও বাসার ভাড়া কয়েকগুণ বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র আরও বলেন ‘নগরীতে বাসা ভাড়া হুহু করে বাড়ছে, এটা ঠিক। তবে সব জিনিসেরই দাম বাড়ছে। তাই এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে চিন্তাভাবনা চলছে।’ নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানেরও অনুরোধ জানান মেয়র আরিফুল।