একমাত্র আসামির ফাঁসির আদেশ|173328|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
একমাত্র আসামির ফাঁসির আদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

একমাত্র আসামির ফাঁসির আদেশ

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে একমাত্র আসামি ওবায়দুল হককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রায়ে ওবায়দুল হককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার আগে তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

এ হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘ঘটনাটি অসম প্রেম বলে মনে হয়েছে। ভালোবাসা যেন সহিংসতায় রূপ নিতে না পারে, সে জন্য আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়াই শ্রেয়।’

রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিশার মা তানিয়া হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ রায়ে আমি খুশি। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি। আমার মতো যেন আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়।’ রায়ের পর আদালতে উপস্থিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাও সন্তোষ

 

প্রকাশ করে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট রিশা ও তার বন্ধু মুনতারিফ রহমান রাফি পরীক্ষা শেষে কাকরাইল পদচারী সেতু পার হচ্ছিলেন। এ সময় ওবায়দুল এসে রিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রত্যাখ্যান করলে তাকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল। পরে রিশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। সে সময়ে এ ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয় এবং শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে।

এ ঘটনার পাঁচ-ছয় মাস আগে রিশা ও তার মা তানিয়া ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটে বৈশাখী টেইলার্সে কাপড় সেলাই করাতে যান। রসিদ থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ওই টেইলার্সের কর্মচারী ওবায়দুল হক বিভিন্ন সময় কল করে রিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করত। এক পর্যায়ে রিশার মা তাকে সতর্কও করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয় ওবায়দুল।

ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ২৪ আগস্ট রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন। মামলাটি পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক আলী হোসেন। ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগর অষ্টম অতিরিক্ত দায়রা জজ আবুল কাশেম ওবায়দুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিভিন্ন সময়ে ২২ জনের সাক্ষ্য শেষে এ রায় দিল আদালত।