কাফরুলে স্ত্রী-সন্তানসহ ব্যবসায়ীর লাশ|173329|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
কাফরুলে স্ত্রী-সন্তানসহ ব্যবসায়ীর লাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

কাফরুলে স্ত্রী-সন্তানসহ ব্যবসায়ীর লাশ

রাজধানীর কাফরুল এলাকায় নিজ বাসা থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন সরকার মোহাম্মদ বায়েজিদ (৪৭), তার স্ত্রী অঞ্জনা আক্তার (৪০) এবং ওই দম্পতির ছেলে মোহাম্মদ ফারহান (১৭)। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে কাফরুলের ব্লক-ডি, রোড-৫-এর ১০/১ নম্বর বাড়ির তিনতলায় তাদের লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, স্ত্রী ও সন্তানকে বিষ

খাইয়ে হত্যার পর বায়েজিদ নিজে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঋণের কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটাতে পারেন। তারপরও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিআইডির ক্রাইম সিন আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশ বাসা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। বায়েজিদ ও অঞ্জনার একমাত্র সন্তান ফারহান মিরপুর কমার্স কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, যে ফ্ল্যাট থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেটি অঞ্জনার ফ্রান্সপ্রবাসী বোন রিনার। সেখানে কয়েক বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তারা। বায়েজিদের স্ত্রী অঞ্জনাও কাফরুলের স্থায়ী বাসিন্দা। বায়েজিদ প্রেম করে অঞ্জনাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বায়েজিদের বাবা আবুল কাশেম সরকার তাদের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। ফলে বিয়ের পর থেকে বায়েজিদ পরিবারবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তারা আরও জানান, বায়েজিদ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো ব্যবসাতেই ভালো করতে পারেননি। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বায়েজিদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করে। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন তিনি।

বাড়ির কেয়ারটেকার আবদুল জলিল দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রায়ই বিভিন্ন লোকজন পাওনা টাকা চাইতে বায়েজিদের কাছে আসত। মাঝেমধ্যে ব্যাংকের লোকজন আসত। তবে কোন ব্যাংকের তা তারা বলেনি। আজ (গতকাল) সকালে তিন-চারজন লোক এসেছিল বায়েজিদের সঙ্গে দেখা করতে। তাদের তিনি জানিয়েছিলেন বায়েজিদ গাজীপুরে গেছেন। এরপর তারা চলে যায়। সর্বশেষ আজ (গতকাল) বিকেলে বায়েজিদের এক বন্ধু তার খোঁজে আসেন। কিন্তু দরজা বন্ধ পেয়ে ফিরে যান। এরপর বায়েজিদের ওই বন্ধু তার শ্যালক ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন, ‘তোর ভগ্নিপতি (বায়েজিদ) দরজা খুলছে না।’ এরপর ফারুক বাসার ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে ফ্ল্যাটে (বায়েজিদের) আসেন।

মিরপুর ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বায়েজিদ তার স্ত্রী ও সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজের গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঋণের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। ওই বাসায় একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে তিনি বিভিন্ন হতাশার কথা লিখেছেন। এ ছাড়া বাসার দেয়ালে লিখে রাখা হয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ ঋণগ্রস্তের কারণে বায়েজিদ এ ঘটনা ঘটাতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার খায়রুল আমীন জানান, বুধবার রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। স্বজনরা ফোন দিয়ে তাদের না পেয়ে বাসায় গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। ওই বাসায় চিরকুট পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বায়েজিদ ব্যবসা করতেন। কিন্তু নানা কারণে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল। এ অবস্থায় তার মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। আমরা ধারণা করছি বুধবার রাতের কোনো একসময় স্ত্রী ও সন্তানকে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে হত্যা করে বায়েজিদ আত্মহত্যা করেন।

কাফরুল থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, স্বজনরা ফোন দিয়ে তাদের না পেয়ে ওই বাসায় যান। সেখানে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ওই বাসার তিনতলা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। বায়েজিদকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদের লাশ বিছানায় পড়ে ছিল। তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট বলা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, বায়েজিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যাংক থানায় মামলা করেছে কি না, তা তার জানা নেই। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।