নরসিংদীতে সম্মেলন ঘিরে বিভক্ত আ.লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি|173836|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
নরসিংদীতে সম্মেলন ঘিরে বিভক্ত আ.লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি
সুমন বর্মণ, নরসিংদী

নরসিংদীতে সম্মেলন ঘিরে বিভক্ত আ.লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি

‘রাজনীতিতে কেউ কারও নয়’, তা আবারও প্রমাণ হলো নরসিংদীতে। এত দিন জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘একই বৃন্তে দুটি কুসুম’ হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আসন্ন জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সামনে রেখে তারা পাল্টাপাল্টি দুটি থানার আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ায় প্রকাশ পেয়েছে এই বিভক্তি।

নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদরের সাংসদ নজরুল ইসলাম হীরু ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূঁইয়া। টানা তিনবারের সাংসদ নজরুল ইসলাম হীরু বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় তার ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিলেন আবদুল মতিন ভূঁইয়া। আর নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল ছিলেন তাদের ঘনিষ্ঠজন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে হঠাৎ করেই সাবেক প্রতিমন্ত্রী হীরুর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় মেয়র কামরুলের। আর সেই বিবাদে কামরুলকে সমর্থন জোগাচ্ছেন আবদুল মতিন ভূঁইয়া।

যার প্রভাব দেখা গেছে উপজেলা পরিষদ ও নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক কর্মকা-েও ধীরে ধীরে শীর্ষ নেতাদের বিরোধের চিত্র ফুটে ওঠে।

সর্বশেষ ৬ অক্টোবর নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এস এম কাইয়ুমের বহিষ্কারাদেশ এবং তার উপস্থিতি নিয়ে এমপি হীরুর সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন মতিন ভূঁইয়া ও মেয়র কামরুল। পরে সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য রিয়াজুল কবির কাউসারকে দায়িত্ব দেওয়া হলে পরিস্থিতি আপাত শান্ত হলেও কাইয়ুম সভা থেকে বের হয়ে যান।

সভায় নরসিংদী সদর ভেঙে পৃথক মাধবদী থানা হওয়ায় তাদের পৃথক সাংগঠনিক থানার মর্যাদা দেওয়া হয় এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই থানার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের পৃথক থানার আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই দিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম হীরু আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক ও কফিল উদ্দিন বাচ্চুকে সদস্য সচিব করে নরসিংদী সদর থানা এবং সফর আলীকে আহ্বায়ক ও আলাউদ্দিন আল আজাদকে সদস্য সচিব করে মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন করেন। উভয় কমিটি ৩০ সদস্যবিশিষ্ট।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া নরসিংদী সদর ও মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের পাল্টা কমিটি দেন। কমিটি দুটিতে আহ্বায়ক ঠিক থাকলেও নরসিংদী সদর থানায় মো. বারিক মিয়া ও মাধবদী থানায় মনির হোসেন পাঠানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। জেলার শীর্ষ দুই নেতার এমন পাল্টাপাল্টি কমিটিতে তাদের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূঁইয়া বলেন, মতবিরোধ কী কারণে তা ভেঙে বলা যাবে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ নজরুল ইসলাম হীরু বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার নিয়ম সভাপতির। সাধারণ সম্পাদক যেটা করেছে, সেটা সঠিক নয়।