ভাবনায় ঘুরেফিরে সুনিল ছেত্রি|173870|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
ভাবনায় ঘুরেফিরে সুনিল ছেত্রি
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভাবনায় ঘুরেফিরে সুনিল ছেত্রি

২০১৩ কাঠমান্ডু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ চোখে ভাসছে আজও। ৮২ মিনিটে আতিকুল ইসলাম মিশুর গোলে বাংলাদেশ পেতে শুরু করেছিল জয়ের সুবাতাস। ম্যাচ গড়িয়ে যায় যোগ করা সময়ে। ঠিক তখনই বাংলাদেশের বক্সের ঠিক বাইরে ভারত অধিনায়ক সুনিল ছেত্রিকে ফেলে দিয়ে বিপদ ডেকে আনলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। বক্সের বাঁ দিক থেকে সেই ছেত্রিরই নেওয়া চোখ ধাঁধানো এক ফ্রি কিক বাংলাদেশের তৎকালীন গোলরক্ষক মামুন খানের চোখ ফাঁকি দিয়ে আশ্রয় নেয় জালে। বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে ম্যাচটা শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে।

এরপর আর একবারই দেখা হয়েছিল দু’দলের। পরের বছর ভারতের গোয়া’তে প্রীতি ম্যাচে সেই ছেত্রিই বাংলাদেশকে জয় বঞ্চিত রেখেছেন জোড়া গোল করে, যার একটি আবার দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে।

সেই প্রতিপক্ষের সামনে যখন বাংলাদেশ, স্বাভাবিকভাবেই আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে ভারত অধিনায়ককে নিয়ে। কাল বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলেই মিলেছে সেই ইঙ্গিত।

কোচ জেমি ডে’র এই দলের বেশিরভাগেরই ভারতের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। যে কজনের আছে তাদের একজন মামুনুল। এক মৌসুম ভারতীয় আইএসএল-এ অ্যাথলেটিকো ডি কলকাতায় খেলার সুবাদে ছেত্রির খেলা খুব কাছে থেকেই দেখেছেন তিনি। তার বিপক্ষে খেলা আর দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মামুনুল বলে দিলেন, ‘ভারত দলের শক্তির জায়গা সুনিল। এই উপমহাদেশের যে কোনো দলের বিপক্ষে ওরা খেললে সেই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয় ও। দারুণ স্ট্রাইকার এবং ফিনিশার। একটা দলের অনুপ্রেরণার উৎস। আমাদের মধ্যে যদি কেউ পার্থক্য গড়ে দেয়, আমার মনে হয় সুনিলই গড়ে দিতে পারে।’

অতীতও যখন সে কথাই বলছে, কোচ জেমি ডে’কে তাই সুনিলকে ঘিরেই সাজাতে হচ্ছে বিশেষ কৌশল। দলের রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ ইয়াসিন খান যেমন বললেন, ‘সুনিল ছেত্রিকে নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। শেষ দেখায় ও ২ গোল করেছিল। ওকে কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।’ কেবল সুনিল ছেত্রি নয়, বাংলাদেশের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা মনে করেন ভারতের পুরো আক্রমণভাগই বেশ শক্তিশালী, ‘ওদের স্ট্রাইকারদের নিয়ে অবশ্যই পরিকল্পনা আছে। সুনিল ছেত্রির মতো আরও কয়েকজন ফরোয়ার্ড আছে ভারত দলে। তাদের নিয়ে ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকদের মধ্যে কাজ হচ্ছে। আমি ছেত্রির কিছু ম্যাচ ভিডিও দেখেছি। দেখে বোঝার চেষ্টা করছি ওর মুভমেন্ট কেমন হতে পারে, কোন অ্যাঙ্গেল থেকে শট নিতে পারে। ওকে নিয়ে বাড়তি কাজ করছি আমরা।’

ভারত কিংবা সুনিল ছেত্রির বিপক্ষে কখনো খেলা হয়নি কাতারের ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবনের। ভারতে পা রাখার পর থেকেই চারদিকে কেবল ছেত্রিকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা হয়তো খুব পছন্দ হয়নি দারুণ ছন্দে থাকা জীবনের। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখনো বাংলাদেশ গোলের দেখা পায়নি। সেই আক্ষেপটা ভারত ম্যাচেই তাই ঘোচাতে চাইছেন জীবন, এই ম্যাচ দিয়ে গোলের খাতা খুলতে পারলে বেশি খুশি হব। ওদের গোলকিপার ভালো। কিন্তু এটাও ঠিক ভালো গোলকিপারের ভালো করার চাপও থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে গোল করা সহজ। আমার কথা একটাইÑ যদি পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি তাহলে গোল পাবই। আমরা যদি গোল না খাই, তবে যে কোনো সময় গোল করব। সুনিল ছেত্রি এই উপমহাদেশের সেরা স্ট্রাইকার। তাই বলে গোল করার সামর্থ্য আমাদেরও আছে। এখন সেটা প্রমাণ করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।

কাতারের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচের পরও বাংলাদেশ দলকে নিয়ে আশা জাগছে সবার মনে। আত্মবিশ্বাসটা পুঁজি করে আগামীকাল যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভালো কিছুর স্বপ্ন বুনেই মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।