অভয় দিলেন মাহমুদউল্লাহ|173873|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
অভয় দিলেন মাহমুদউল্লাহ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

অভয় দিলেন মাহমুদউল্লাহ

তিন মৌসুম পর জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলতে নেমেই ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। বোলিংয়ে দুই ইনিংসের ৬ উইকেটের মধ্যে আছে তামিম ইকবালকে দুই ইনিংসে আউট করার সুখ। ব্যাটিংয়ের একমাত্র ইনিংসে ৬৩। আর কী চাই?

ঢাকা মেট্রোর অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ খুশি বটে। মাঝে চোটের কারণে বোলিংটা ঠিকঠাক করতে পারেননি। এবার দীর্ঘক্ষণ বল করে দুই ইনিংসে ৩টি করে উইকেট। কিন্তু এর সঙ্গে সেঞ্চুরি হলে যেন পরিপূর্ণতা পেত সব কিছু। সেখানে সামান্য আক্ষেপ রয়ে গেছে।

তবে আরেকটু বড় পরিসরে দেখলে চলে আসে জাতীয় খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গ। এবারের লিগে অন্তত দুটি ম্যাচে জাতীয় তারকাদের খেলা বাধ্যতামূলক। প্রথম রাউন্ডে খুলনার ইমরুল কায়েস একমাত্র ইনিংসে করেছেন অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি। রাজশাহীর মুশফিকুর রহিম করেছেন ৭৫ ও ২১। তামিমের ইনিংস দুটি ৩০ ও ৪৬ রানের। সিনিয়ররা রান পেলেন। কয়েকজন রান পাননি, কয়েকজন এখনো খেলেননি। তবে মাহমুদউল্লাহ মনে করেন, সামনের মাসের ভারত সফরকে সামনে রেখে জাতীয় তারকাদের ‘প্যানিক’ হওয়ার কিছু নেই। যেন সবাইকে অভয় দিলেন পারফরমার।

‘আমার মনে হয় এটা নিয়ে এত প্যানিক হওয়ার কিছু নেই। সবাই চেষ্টা করেছে। কেউ হয়তো রান করেছে কেউ করেনি।’ গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শেষ বিকেলে মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, ‘আমি আশা করি যারা রান করতে পারেনি তারা যেন আরও বেশি কষ্ট করে দ্বিতীয় রাউন্ডে রান করতে পারে এবং আত্মবিশ্বাসটা আগের জায়গায় নিয়ে আসতে পারে। সবাই চেষ্টা করবে।’ প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের মুমিনুল ইসলাম করেছেন ১১ ও ০। একমাত্র ইনিংসে চট্টগ্রামের সাদমান ইসলাম ৬, খুলনার সৌম্য সরকার ৩৬, বরিশালের মোসাদ্দেক হোসেন ৫ রান করেছেন। খুলনার রুবেল হোসেন ২ আর রাজশাহীর শফিউল ইসলাম নিয়েছেন ৩ উইকেট।

মিরপুরে চট্টগ্রাম বিভাগের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহদের ঢাকা মেট্রোর দ্বিতীয় স্তরের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচটা ড্র হলো। হয়েছে তিন ইনিংস। মাহমুদউল্লাহর দুই ইনিংসের বোলিং ফিগার যথাক্রমে ২৬-৫-৫৫-৩ ও ১৩-৩-২৫-৩। ৬৩ রান করেছেন ১৩৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায়।

ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অনেক দিন পর ন্যাশনাল লিগের ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেলাম।’ অবশ্য জাতীয় লিগে খেললেন তো দীর্ঘকাল পর।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তার অফ স্পিনের অভাব অনুভব করেছে। সম্প্রতি বল করছিলেন জাতীয় দলের হয়ে। তবে এবার বুঝি নিজেতে ফেরার অনুভূতি হলো মাহমুদউল্লাহর, ‘সত্যি বলতে মাঝে আমার কাঁধের ইনজুরি ছিল, সাত মাসের মতো আমি বোলিং করতে পারিনি। তাই আমি উদগ্রীব ছিলাম কিছু ওভার বল করতে। আলহামদুলিল্লাহ, বোলিং করতে পেরেছি। আমার বোলিং প্র্যাকটিসটাও ভালো হলো। কারণ, আমিও চাচ্ছিলাম যতটা বেশি ওভার বলা করা যায়।’ আরও বলছিলেন, ‘বোলিং আমি সবসময় করতে চাই। আমি মনে করি এটা আমাকে বাড়তি সুবিধা, বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয় আমার ব্যাটিংয়ে।’

তবে ঠিক যেভাবে চেয়েছেন সবকিছু কি সেভাবে হয়েছে? এই প্রশ্নে ব্যাটিং নিয়ে সামান্য আক্ষেপ ঝরে মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে, ‘যদি তিন অঙ্ক ছুঁতে পারতাম তাহলে আরেকটু ভালো লাগত। আমি চেষ্টাও করছিলাম। পিচে দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয় দিনেও বোলারদের জন্য সুবিধা ছিল। সেটা স্পিনার ও পেসার সবার জন্য।’ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েও সফল হননি সেই টার্গেট পূরণ করতে। মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, ‘ব্যাটসম্যানরা সবাই চেষ্টা করছিল, আমিও চেষ্টা করছিলাম। আমি প্রথম দুই রান মনে হয় ৩০/৩২ বা ৪০ বলে করেছিলাম। প্রথমে টিকে থাকতে চেয়েছিলাম যাতে পরে লাভটা তুলে নিতে পারি।’  কিন্তু ১০০ হয়নি। বিশ্বকাপ ও শ্রীলঙ্কা সফরে ব্যর্থতার পর তামিম গিয়েছিলেন ছুটিতে। নিজেকে তৈরি করে ফিরলেন জাতীয় লিগ দিয়ে। খুব কাছ থেকে তাকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মাহমুদউল্লাহ জানালেন, ‘তামিম বেশ ভালোই ব্যাট করছিল। আমার কাছে মনে হয় সে সত্যি কঠোর পরিশ্রম করছে। হয়তো বড় রান করতে পারেনি। তবে ওর ব্যাটিংয়ের ছন্দ দেখে মনে হচ্ছে ও খুব ভালো ব্যাট করছে।’ মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, গত কয়েক মাস ধরে ও অনেক কষ্ট করছে... ফিটনেস নিয়ে এবং ব্যাটিং নিয়ে। সে ঠিক পথে আছে। সবকিছু ওর জন্য দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে আশা করি।’