ব্যাখ্যা চাই না, রাজস্ব চাই|173910|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
রাজস্ব কর্মকর্তাদের অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা চাই না, রাজস্ব চাই
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাখ্যা চাই না, রাজস্ব চাই

অর্থমন্ত্রী হওয়ার পরপরই রাজস্ব আয়ে বড় উচ্চাশার কথা শুনিয়েছিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটেও বড় আকারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, ততই ফিকে হচ্ছে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর স্বপ্ন। রাজস্ব আয় না বাড়ার কারণ জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা ঈদ, বৃষ্টি, বড় প্রকল্পে কর ছাড় ও কর অবকাশ দেওয়ার কথা বলতে শুরু করেন। তাতে অসন্তুষ্ট মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, আমি কোনো ব্যাখ্যা শুনতে চাই না, রাজস্ব চাই।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো এনবিআরের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, মাঠপর্যায়ের কমিশনার ও সেক্রেটারিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। এটি গত কয়েক বছরের তুলনায় খুবই কম। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে কারণ ব্যাখ্যা শুরু করেন কর্মকর্তারা।

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকায় শুল্ক খাতে রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেন চট্টগ্রাম কাস্টমের কমিশনার ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে বর্ষা ও ঈদের কারণে রাজস্ব আহরণ বিঘিœত হয়েছে। গত দুই মাসে কম শুল্ক ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত আমদানি বেড়েছে। বিপরীতে বেশি ট্যারিফের সব পণ্য আমদানি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। মেগা প্রজেক্টের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিপুল পরিমাণ আমদানি হলেও রেভিনিউ কালেকশন করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে অব্যাহতি দেওয়ায় আমদানি কমে গেছে। এনএনজি ও এলপিজেতে করছাড়, মেগা প্রজেক্টে ও পেট্রোলিয়াম এবং আইসিটি পণ্যে অব্যাহতির কারণে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কমে গেছে।’

বছরের প্রথম দুই মাসে এ খাতে ১.০২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি জানিয়ে রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট বিভাগের মেম্বার মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘অব্যাহতির পাশাপাশি কর কাঠামো পরিবর্তনের কারণে সিগারেট খাতে রাজস্ব আহরণ কমেছে। সিমেন্ট ও অটোমোবাইল খাত থেকে কাক্সিক্ষত রাজস্ব আসেনি।’

রাজস্ব বোর্ডের মেম্বার কালিপদ হালদার বলেন, কৃষি খাত, সরকারি প্রকল্প, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, মৎস্য এবং আইসিটি খাত জিডিপিতে বড় করছে। তবে এর সবই কর অবকাশপ্রাপ্ত। বিভিন্ন কারণে চলতি বছর বেশকিছু খাতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর এ কারণেই জিডিপির তুলনায় রাজস্ব কম বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি কোনো ব্যাখ্যা শুনতে চাই না, রাজস্ব চাই। সরকার বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ব্যয় করা শুরু করে। গত অর্থবছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকা কম আসায় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এটি আমি আর চাই না। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি গত অর্থবছরে ঘাটতি থাকা টাকাও সংগ্রহ করতে হবে।